মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
০৫:৩১ পি.এম
জনসাধারণের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দিতে এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়ন পরিষদে এক ব্যতিক্রমী প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৪ জুন (রবিবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেবীনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এই সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, ভিডিও শো এবং কুইক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন:মোঃ জহুরুল ইসলাম, দেবীনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।কিশোর কুমার, হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর।মোছাঃ ছাহেরা বেগম, দেবীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত ইউপি সদস্য (মেম্বার)।মোছাঃ তাসলিমা খাতুন, উপজেলা সমন্বয়কারী।
সচেতনতামূলক ভিডিও শো ও কুইজ প্রতিযোগিতা ক্যাম্পেইনে উপস্থিত স্থানীয় সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের একতিয়ার, মামলা দায়েরের নিয়ম এবং স্বল্প সময়ে ও সুলভ মূল্যে বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ও ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ভিডিও শো শেষে উপস্থিত সবার মাঝে গ্রাম আদালত কেন্দ্রিক একটি 'কুইক কুইজ' প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতাটি বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে। প্রতিযোগিতা শেষে সঠিক উত্তরদাতা ২০ জন ভাগ্যবান বিজয়ীর হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষ যাতে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ ঘরের কাছেই সহজে ও নাম মাত্র খরচে মীমাংসা করতে পারেন, সেজন্য গ্রাম আদালত একটি অনন্য মাধ্যম। এই ধরনের ক্যাম্পেইন ও ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের আইনি অধিকার সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা নাকুগাঁও স্থল বন্দরের কার্যক্রম চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে রবিবার (১৪ জুন) পর্যন্ত এ স্থলবন্দর বন্ধ রইল।
শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতি সকালে মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে তারা কর্মকর্মবিরতির ডাক দেন। স্থানীয় এমপির আশ্বাসে বিকেল ৪টায় ওই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এদিকে, কর্মবিরতির পর প্রশাসনের সহায়তায় মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের বৈঠক চলাকালে দুপুরে উভয় পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি সেখানে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। শ্রমিকরা তখন রাস্তায় মারমুখী অবস্থানে যান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে সাধারণত ক্রাশার মেশিনের বিকট শব্দ থাকত, সেখানে এখন সুনশান নীরবতা। যেখানে প্রতিদিনের কর্মচাঞ্চল্য থাকার কথা, সেখানে শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন। এ বন্দরে লোড-আনলোড শ্রমিক রয়েছেন প্রায় সাত শতাধিক।
নাকুগাঁও লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল ছামাদ জানান, তেলের দাম বাড়ানোর পর প্রথমে মৌখিকভাবে এবং পরবর্তীতে চিঠি দিয়ে আমরা মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানাই।
যদি এতে সাড়া না পাই, তবে ৮ জুন পুনরায় চিঠির মাধ্যমে মজুরি বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবি জানানো হয়। এতেও সাড়া না পেলে আমরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিই এবং স্থানীয় এমপির আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করে নেই। কিন্তু তারপরও আমদানিকারকরা অঘোষিতভাবে আমদানি বন্ধ রেখেছে। ফলে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।
নাকুগাঁও আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল জানায়, তারা আমদানি বন্ধ রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'ভারতের রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে, এজন্য আমদানি বন্ধ রয়েছে।' তিনি আরো বলেন, 'রাস্তাগুলি ঠিক হলে আমদানি শুরু হবে।' শ্রমিকদের দাবি নিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা সব সময় সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়গুলো বিবেচনা করি, তবে বর্তমানে তারা যে দাবি তুলেছেন তা অযৌক্তিক। অন্যান্য বন্দরের মতোই আমরা মজুরি দিয়ে থাকি। কর্মবিরতির কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং লোড-আনলোডের বাইরে অন্যান্য শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পরছে। এর পেছনে কোনো অশুভ শক্তি কাজ করছে, এই ধারণা আমাদের রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বারবার কেঁদে উঠছে পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা খাতুন। হয়তো সে জানে না সীমান্ত কী, জানে না রাষ্ট্রের সংজ্ঞা।
সে শুধু জানে ক্ষুধা, রোদ আর মায়ের বুকের উষ্ণতা। কিন্তু সেই মা সুমি খাতুনও যেন অসহায়। কোলে শিশুকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন, আর নিজের চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করছেন।
একদিকে বাংলাদেশ, অন্যদিকে ভারত।
মাঝখানে কয়েক গজের শূন্যরেখা। সেই শূন্যরেখাতেই আটকে আছে একটি পরিবারসহ মোট ৯ জন মানুষ। রবিবার ভোরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি।
অনিশ্চয়তার ভার যেন সবচেয়ে বেশি এসে পড়েছে পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা আর চার বছরের ফাতেমা খাতুনের ওপর। ছোট বোনের কান্না থামছে না। বড় বোন ফাতেমাও ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বারবার কাঁদছে। দুই মেয়ের এমন অসহায় অবস্থা দেখে মা সুমি খাতুনের বুক ফেটে যাচ্ছে। কখনো ছোট মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরছেন, কখনো বড় মেয়ের চোখের পানি মুছে দিচ্ছেন।
কিন্তু একজন মা হয়েও যেন কিছুই করতে পারছেন না।
পাশেই দাঁড়িয়ে বাবা বিল্লাল। তার মুখে কোনো ভাষা নেই। শুধু অসহায় দৃষ্টি নিয়ে কখনো সন্তানদের দিকে, কখনো সীমান্তের ওপারে তাকিয়ে থাকছেন। হয়তো একজন বাবার সবচেয়ে বড় কষ্ট এটাই—সন্তানের কান্না শুনেও কিছু করতে না পারা।
মাথার ওপর তপ্ত সূর্য। কোথাও কোনো ছাউনি নেই। রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে ফাহিম ও হিমেল নিজেদের পরনের লুঙ্গি খুলে অস্থায়ী ছাউনি বানানোর চেষ্টা করছেন। লুঙ্গির সেই সামান্য ছায়াতেই একটু স্বস্তি খুঁজছে শিশুরা।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্তে ছুটে আসেন। বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে তারাও অবস্থান নেন। বেলা ১১টার দিকে দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠান্ডু মিয়া এবং ভারতের ১৮৩ ব্যাটালিয়নের ঝালোরচর ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার আলোচনায় অংশ নেন। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা শেষে কোনো সমাধান আসেনি।
এপারে বিজিবি, ওপারে বিএসএফ। দুই বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থানে। মাঝখানে ক্ষুধা, ক্লান্তি আর অনিশ্চয়ের সঙ্গে লড়াই করছে ৯টি জীবন।
সীমান্তে উপস্থিত অনেকের চোখেও জল। কারণ রাষ্ট্রের সীমারেখা মানুষ টানে, কিন্তু শিশুর কান্নার কোনো সীমান্ত নেই। পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা জানে না সে কোন দেশের নাগরিক। চার বছরের ফাতেমাও জানে না কেন তাকে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে হচ্ছে। তারা শুধু জানে, তাদের ক্ষুধা লেগেছে, তাদের রোদ লাগছে, তারা মায়ের কোলে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি ভালোবাসা ও উন্মাদনা প্রকাশ করতে আনন্দ মিছিল করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের একাংশ। রবিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে আনন্দ মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়।
ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স টেনে আর্জেন্টিনার সমর্থক সাইফ মাশরাফি বলেন, ‘মরক্কোর সঙ্গে ব্রাজিলের ড্র হওয়ায় আমাদের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রাজিলের হেক্সা মিশন দিন দিন তলানির দিকেই যাবে। আর এটাই আমরা আজকে বেশি করে উদযাপন করব।’
আর্জেন্টিনার আরেক সমর্থক মোহাম্মদ নাঈম খান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনাকে মনে-প্রাণে সমর্থন করি। দলের প্রথম ম্যাচের জয়-পরাজয় দিয়ে আমাদের ভালোবাসা পরিমাপ করা যায় না। গত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হেরেও শেষ পর্যন্ত আমরাই চ্যাম্পিয়ান হয়েছি। এবারও লিওনেল মেসির ওপর আমাদের পূর্ণ ভরসা আছে এবং আমরাই ট্রফি জিতব।’
আর্জেন্টিনার সমর্থক শাহাদাত তানভীর রাফি বলেন, ‘২০২২ সালেও ব্রাজিল হেক্সা মিশনের স্বপ্ন দেখেছিল, এবারও দেখছে, যা ২০৩০ সালেও অধরা থেকে যাবে বলে মনে হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ