০৯:১৯ এম
মোহাম্মদ গালিবাফ, যিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার, তিনি দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে চলা 'অন্যায় যুদ্ধে' বিশ্বের সামরিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই তেহরান বিজয়ী হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি রবিবার এ তথ্য জানায়।
টেলিগ্রামে দেওয়া একটি পোস্টে গালিবাফের বক্তব্য তুলে ধরে প্রেস টিভি জানাচ্ছে যে, গালিবাফ বলেছেন, এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইরান দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, এই যুদ্ধে আমরা সত্যিই সামরিক ও রাজনৈতিক- দুই দিক থেকেই বিজয়ী হয়েছি।’
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
এখন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের এই বক্তব্য আসছে এমন একটি সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবী করে আসছেন যে ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।
গালিবাফ বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারক গর্ব ও বিজয়ের উৎস। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই সমঝোতার মাধ্যমে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে। গালিবাফ এই প্রসঙ্গে আরো বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক গর্ব ও বিজয়ের উৎস। এটি কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্যকে আরো শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।’
তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ইরান নিজেদের অবস্থানকে সফল হিসেবে তুলে ধরছে।
এদিকে রবিবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফও কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের দাবি পূরণ এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পরাজিত না করা পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পিছু হটবে না। জেনারেল স্টাফের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের জনগণের দৃঢ় ইচ্ছা ও সংকল্পের প্রতি সম্মান জানিয়ে সশস্ত্র বাহিনী তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলায় ইরানের জনগণের ন্যায়সংগত দাবি এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান থেকে সশস্ত্র বাহিনী সরে যাবে না।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করা, ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষা করা এবং শত্রুকে আত্মসমর্পণে বাধ্য না করা পর্যন্ত তারা তাদের লড়াই চালিয়ে যাবে।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালি সম্পর্কেও নতুন একটি আলোচনা চলছে। ইরান জানিয়েছে যে, তারা ওমানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। ওই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি নৌপথ নির্ধারণের বিষয় রয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার বলেছেন, ওমানের সঙ্গে চলা আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়টি এক নয়। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া হবে কি না, তা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কিছু শর্ত পূরণ করার ওপর নির্ভর করবে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন