ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশাল বিভাগে বছরে ৩০ হাজার মানুষ ছানিতে আক্রান্ত


বরিশাল বিভাগে বছরে ৩০ হাজার মানুষ ছানিতে আক্রান্ত

বরিশাল বিভাগে বছরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চোখের ছানি সমস্যায় আক্রান্ত হয়। অথচ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া বিভাগের অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে চক্ষু বিভাগে জুনিয়র ও সিনিয়র কনসালটেন্ট নেই। ফলে বিভাগের বিপুলসংখ্যক মানুষ চক্ষুসেবা নিতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। 

রবিবার বরিশাল নগরীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারের হলরুমে এব সভায় এসব কথা বলেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার। দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় এ সভা আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. রেফায়েতুল হায়দার বলেন, বরিশাল বিভাগে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চক্ষু চিকিৎসক সংকট থাকায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে চক্ষুসেবা পৌঁছে দিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

তিনি বলেন, ‘বরিশাল ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরগুনা ও ঝালকাঠি ছাড়া বিভাগের অন্যান্য জেলায়ও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে।’ পাশাপাশি শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে চক্ষুসেবা কেন্দ্রগুলোতে ভিশন স্ক্রিনিং বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য ক্লাস্টার পরিচালক মুসাব্বির আলম জানান, ২০১২ সাল থেকে ফাউন্ডেশনটি বরিশাল বিভাগে কাজ করছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাদের সহযোগিতায় বিভাগের প্রায় ৬০ হাজার ছানি রোগীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বরিশাল জেলা ছাড়া বিভাগের বাকি পাঁচ জেলায় ছানি দূরীকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

সভায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও প্রফেসর ডা. মো. আনোয়ার হোসেন এবং চক্ষু বিভাগের প্রধান ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। 

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

এ সময় বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা মেডিকেল অফিসার, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কা চুক্তির আওতায় ইস্তাম্বুলে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


মক্কা চুক্তির আওতায় ইস্তাম্বুলে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান

মক্কা চুক্তির আওতায় নবগঠিত আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে জোটের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো একমঞ্চে উপস্থিত হবেন তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানরা। মূলত গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-এর মাধ্যমে সুন্নি মুসলিম ও মার্কিন মিত্র হিসেবে পরিচিত এই তিন দেশ অভিন্ন স্বার্থে এক ছাতার নিচে এসেছে।

বর্তমান ইরান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে দেশগুলো গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে তাদের নিরাপত্তা-উদ্বেগ আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হচ্ছে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য।

চুক্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে, তা বাকি সবার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবেই গণ্য করা হবে। এই নীতিটি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর (NATO) পঞ্চম অনুচ্ছেদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ধারার অনুরূপ।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠেয় ত্রিপক্ষীয় এই বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি জোটভুক্ত দেশগুলোর সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো এবং যৌথ উৎপাদন ও উন্নয়নসহ প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা গভীর করার বিষয়গুলোও উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকের মূল এজেন্ডায় থাকবে।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের মিত্র হিসেবে থাকলেও, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সৃষ্ট আঞ্চলিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। এই অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটেরও সৃষ্টি করেছে। এমন জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসরায়েল এবং শিয়া-শাসিত ইরানের সামরিক অবস্থান নিয়ে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের চিন্তাভাবনা প্রায় একই ধরনের। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার ছয় মাস পরও সমাধানের আলোচনা এক জায়গাতেই থমকে আছে। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি করতে তাদের উদ্যোগ জোরদার করেছে। মার্কিন প্রশাসন এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ (Economic D-Day) হিসেবে অভিহিত করেছে।

ন্যাটোর (NATO) দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ তুরস্ক জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান এবং শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের সাথে স্বাক্ষরিত এই জোটের ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। জোটের নতুন সদস্য হিসেবে মিসরকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে আঙ্কারা। তবে তুরস্কের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, নতুন এই চুক্তিটি বিদ্যমান কোনো সামরিক জোটের বিকল্প হিসেবে গঠিত হয়নি।

বিডিপ্রতিদিন/কেকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিলা ছেড়ে চেলসিতে যোগ দিলেন মার্তিনেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


ভিলা ছেড়ে চেলসিতে যোগ দিলেন মার্তিনেজ

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : অ্যাস্টন ভিলা ছেড়ে চেলসিতে যোগ দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

মার্তিনেজকে দলে নেওয়ার খবর আজ নিশ্চিত করেছে চেলসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্লাবের জার্সিতে মার্তিনেজের ছবি পোস্ট করে লন্ডনের ক্লাবটি ক্যাপশনে লিখেছে, ‘এমিলিয়ানো একজন ব্লু।’

৩৩ বছর বয়সি মার্তিনেজের সাথে চুক্তির বিষয়ে কিছুই প্রকাশ করেনি চেলসি। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ৭৫ লাখ পাউন্ডে তিন বছরের চুক্তিতে মার্তিনেজকে দলে নিয়েছে চেলসি।

২০২০ সালে সাড়ে ১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে আর্সেনাল থেকে অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেন মার্তিনেজ। এরপর থেকে ক্লাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন তিনি। গত মৌসুমে ভিলার ইউরোপা লিগ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মার্তিনেজ। ভিলার হয়ে ২৫৬টি ম্যাচ খেলেন তিনি। 

চেলসিতে যোগ দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত মার্তিনেজ। তিনি বলেন, ‘এই ক্লাবে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চেলসিতে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আমার এবং আমার পরিবারের জন্য খুব সহজ ছিল। মাঠে নামার জন্য তর সইছে না।’

চেলসির হয়ে ট্রফি জিততে মরিয়া মার্তিনেজ। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে সফল হতে চাই। আমি এমন একজন যে যা-ই করি না কেন, কিন্তু জিততে চাই। জয়ের মানসিকতা নিয়েই এই ক্লাবে এসেছি। কারণ, চেলসি ট্রফি জেতার মতো ক্লাব।’

২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মার্তিনেজ। ফাইনালসহ বেশ কিছু ম্যাচে টাইব্রেকারে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের শট রুখ দিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে বড় অবদান রাখেন তিনি। ফাইনালের স্পেনের কাছে হারলেও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে গোলপোস্টে মার্তিনেজের পারফরমেন্স ছিল দুর্দান্ত।

এছাড়া আর্জেন্টিনার হয়ে পরপর দুটি কোপা আমেরিকা জিতেছেন মার্তিনেজ। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজনীতিতে কোন পদ পদবী না থেকেও নিরসল ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ নাজির খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


রাজনীতিতে কোন পদ পদবী না থেকেও নিরসল ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন

নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ, ঘটনাবহুল এবং নানা উত্থান-পতনে ভরা। তিনি মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং করোনাকালে মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য ‘করোনা বীর’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে নেই। তবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মাঠের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তার উপস্থিতি এখনও আলোচনায় রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকার ফলে খোরশেদ একাধিকবার গ্রেপ্তার, কারাবরণ ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলার সংখ্যা ৮০টি থেকে ৮৫টির বেশি হবে। হরতাল-অবরোধের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থাকার কারণে তিনি প্রায় ৮ বার গ্রেফতার হয়েছেন। জেল গেইট থেকে তাকে ৬ বার গ্রেফতার করা হয়েছে।

মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক থেকে সভাপতি, দুই পর্যায়েই দায়িত্ব পালন করেছেন খোরশেদ। ওই সময় নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে সামনের সারিতে দেখা গেছে। হরতাল, অবরোধ, মিছিল, সমাবেশসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার ফলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ এবং গ্রেপ্তারের ঘটনাও তার রাজনৈতিক জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি মহানগর যুবদলের সভাপতি ও কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার বিরুদ্ধে থাকা মামলায় পুলিশি তৎপরতা এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানিও তাকে দমাতে পারেনি। রাজপথের কর্মসূচিতে তার সক্রিয়তা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির মাঠের রাজনীতিতে খোরশেদের একটি আলাদা সাংগঠনিক পরিচিতি তৈরি করেছে।

খোরশেদের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হলো গ্রেপ্তার ও কারাবরণ। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে প্রায় ১৪ বার কারাবরণ করতে হয়েছে। এমনকি কারাগার থেকে বের হওয়ার পর জেলগেট থেকেও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেপ্তারের এই দীর্ঘ ইতিহাস তাকে বিএনপির মাঠপর্যায়ের ‘পরীক্ষিত’ নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিতি দেয় বলে তার অনুসারীদের দাবি।

রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবেও খোরশেদের রয়েছে দীর্ঘ সফলতা। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ও পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি মোট চারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েছেন।

২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ২০১১ ও ২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও কাউন্সিলর পদে জয় পান। ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি একই ওয়ার্ড থেকে বিজয়ী হন। ফলে টানা চারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি।

এই ধারাবাহিক বিজয়কে তার স্থানীয় জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে দলীয় প্রতীকের বাইরে কাউন্সিলর নির্বাচনে ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক তৈরি করতে সক্ষম হওয়াই তার রাজনৈতিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফন ও সৎকার নিয়ে যখন ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৃতদেহ দাফনে এগিয়ে আসেন খোরশেদ।

নিজের অনুসারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘টিম খোরশেদ’। এই দলের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন ও সৎকারে অংশ নেন। দেড় শতাধিক মরদেহ দাফন ও সৎকারের তথ্য পাওয়া যায়।

করোনাকালে শুধু দাফন নয়, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি ও বিতরণ, অক্সিজেন ও প্লাজমা সহায়তা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নানা উদ্যোগও নেয় ‘টিম খোরশেদ’। এ কারণে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্যও সারাদেশে পরিচিতি পান তিনি।

করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে খোরশেদকে ‘করোনা বীর’ বা ‘করোনা হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০২২ সালের নির্বাচনের সময় তাকে ‘করোনা হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং তার ‘টিম খোরশেদ’-এর সারাদেশে প্রশংসিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

করোনার ভয়াবহ সময়ে যখন মৃত ব্যক্তির মরদেহ পরিবারের সদস্যরাও স্পর্শ করতে ভয় পাচ্ছিলেন, তখন স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে দাফন ও সৎকারে অংশ নেওয়া তার রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একটি মানবিক পরিচিতি তৈরি করে।

এমনকি ২০২১ সালে করোনার টিকা নেওয়ার সময়ও তিনি সাধারণ মানুষকে টিকা নিতে উৎসাহিত করেন। যারা নিজেরা টিকার নিবন্ধন করতে পারছেন না, তাদের জন্য তার কাউন্সিলর কার্যালয়ে বিনা খরচে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।

খোরশেদের মানবিক কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি ছিল রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে মৃত ব্যক্তিদের দাফনে এগিয়ে যাওয়া। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমন ঘটনাও এসেছে, যেখানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যের মরদেহও ‘টিম খোরশেদ’ দাফন করেছে।

অর্থাৎ করোনাকালে তার মানবিক কর্মকাণ্ড দলীয় রাজনৈতিক সীমারেখার বাইরে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদাহরণ তৈরি করে। এই কারণেই তার ‘করোনা বীর’ পরিচিতি রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত হয়ে পড়ে।

করোনা মহামারি শেষ হওয়ার পরও ‘টিম খোরশেদ’-এর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে হাসপাতালের রোগী, নার্স ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের জন্য উপহার দেওয়ার উদ্যোগের কথা প্রকাশিত হয়। সেখানে খোরশেদকে মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৬ সালেও তার নেতৃত্বে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি পালন করা হয়ে গেছে। ফলে রাজনৈতিক পদ না থাকলেও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নিজের কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রেখেছেন।

খোরশেদের রাজনৈতিক জীবনের বর্তমান অধ্যায়টি কিছুটা ভিন্ন। একসময় মহানগর যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এই নেতা বর্তমানে সেই সাংগঠনিক পদে নেই। মহানগর বিএনপির রাজনীতিতেও তার প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি হয়নি। নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে বর্তমানে খোরশেদের অবস্থান নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তার রাজনৈতিক অবদান বনাম সাংগঠনিক পদ নিয়ে।

দীর্ঘ সময় যুবদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী দলের কর্মসূচিতে মাঠে ছিলেন। বহু মামলার আসামি হয়েছেন, একাধিকবার কারাগারে গেছেন। আবার চারবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাফন-সৎকার করে পেয়েছেন ‘করোনা বীর’ পরিচিতি। তারপরও বর্তমানে বড় কোনো সাংগঠনিক পদে নেই তিনি।

এ কারণে তার অনুসারীদের একটি অংশ মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও মাঠের ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। তাদের বক্তব্য, সাংগঠনিক পদে না থাকলেও খোরশেদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মীদের একটি বড় অংশের যোগাযোগ রয়েছে।

খোরশেদের রাজনৈতিক পরিচয়ের আরেকটি দিক হলো তার কর্মকাণ্ড শুধু বিএনপির প্রচলিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। করোনাকালের মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তার পরিচিতি তৈরি হয়।

দাফন-সৎকার, অক্সিজেন, প্লাজমা, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালের রোগী, নার্স ও ট্রাফিক পুলিশের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ পর্যন্ত তার সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা দেখা যায়।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে খোরশেদের বর্তমান অবস্থান অনেকটা বৈপরীত্যপূর্ণ। একদিকে তিনি দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই, অন্যদিকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, চারবারের নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিচয়, আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস এবং করোনাকালের মানবিক কর্মকাণ্ড তাকে আলাদা অবস্থান দিয়েছে।

সাংগঠনিক পদে না থাকলেও মহানগরীতে তার অনুসারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং নেতৃত্বের সুযোগ পেলে তারা আবারও তার সঙ্গে সক্রিয় হতে পারেন।

২০২৬ সালেও তার সামাজিক কর্মকাণ্ডের উপস্থিতি প্রমাণ করে, রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাননি তিনি। বরং দলীয় পদ-পদবীর বাইরে থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

মামলা – হামলা ও কারাবরণের দীর্ঘ ইতিহাস, চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে জনসম্পৃক্ততা এবং করোনাকালে মানবিক ভূমিকা সব মিলিয়ে মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের রাজনৈতিক পরিচয় শুধু একটি দলীয় পদে সীমাবদ্ধ নয়।

রাজপথের আন্দোলনের পরীক্ষিত কর্মী থেকে চারবারের জনপ্রতিনিধি, আর সেখান থেকে ‘করোনা বীর’—খোরশেদের দুই দশকের পথচলায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দলীয় রাজনীতিতে তার এই অভিজ্ঞতা ও মাঠের প্রভাবের মূল্যায়ন কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৫শ’ বন্যপ্রাণী ও সাড়ে ৭শ’ সাপ ধরে অবমুক্ত করেছেন শিক্ষার্থী অয়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১২ পি.এম


৩৫শ’ বন্যপ্রাণী ও সাড়ে ৭শ’ সাপ ধরে অবমুক্ত করেছেন শিক্ষার্থী অয়ন

ফেনী, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : বিষধর সাপ উদ্ধার করে অবমুক্ত করাই নেশা ও পেশায় পরিণত হয়েছে ফেনী ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম অয়নের। তার এমন সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে বিভিন্ন জেলার কলেজ ও ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া বেশ কয়েকজন তরুণ বিষধর সাপসহ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাহসী ও উৎসাহী হয়ে উঠছেন।

এ পর্যন্ত বিষধর শঙ্খিনী, রাসেলস ভাইপার, কোবরা (গোখরো), কাল নাগিনী, দাড়াশসহ ১০ প্রকারের সাড়ে ৭শ’ সাপ উদ্ধার করে অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করেছেন বলে বাসসকে জানিয়েছেন তরুণ অয়ন। 

বর্তমানে এসব নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। তার সংগঠন দেশের প্রায় ৬০টি জেলায় রেস্কিউয়ারদের সমন্বয়ে কাজ করছে। সর্পদংশন প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে সংগঠনটি অর্জন করেছে জাতীয় পুরস্কার।

নজরুল ইসলাম অয়ন ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জি.এম. হাট ইউনিয়নের পশ্চিম বশিকপুর গ্রামের মরহুম মাহবুবুল আলম ও পারভীন আক্তারের একমাত্র সন্তান। তিনি ফেনী ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্যের শেষ বর্ষের ছাত্র। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী আর বিশেষ করে সাপের প্রতি রয়েছে তার গভীর আগ্রহ। 

সারাদেশে রেস্কিউ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে ফেনী ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেন তিনি। এ পর্যন্ত তিনি নিজে ৩ হাজার ৫শ’র অধিক বন্যপ্রাণী এবং ৭৫০ এর অধিক সাপ উদ্ধার করে নিরাপদে অবমুক্ত করেছেন। 

বন্যপ্রাণী উদ্ধারের পাশাপাশি, তিনি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন ও পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী সম্পর্কে সঠিক ও বৈজ্ঞানিক ধারণা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

অয়নের সঙ্গে আলাপকালে জানান, যেখানে সাপ দেখলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন, সেখানে বিভিন্ন প্রকার বিষধর সাপের সঙ্গে তার নিত্য বসবাস। ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামসহ দেশের যেকোনো স্থানে লোকালয়ে সাপ ঢুকে পড়েছে, এমন খবর কেউ দিলেই ছুটে যান তিনি। যথাযথ পূর্বের প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ কৌশলে পরম মমতায় প্রাণীটিকে উদ্ধার করে মানুষের বসতি থেকে সরিয়ে উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করেন।

সাপ উদ্ধারকারী টিমের সাহসী সদস্যরা জনসাধারণকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন যে, ওঝা দিয়ে বিষ নামানো বা সাপে কামড়স্থানে বেঁধে মানুষকে বাঁচানো অসম্ভব, এটা সামাজিক কুসংস্কার। সাপে কাটা মানুষকে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসালয় পৌঁছানো গেলে বাঁচানো সম্ভব। 

অয়ন কোনো ওঝা নন, সাপুড়েও নন। সাপ নিয়ে কোনো ব্যবসাও করেন না। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর প্রতি ভালোবাসা থেকেই প্রায় একযুগ ধরে নিরলসভাবে এ কাজ করে চলেছেন।

তিনি আরও জানান, বন বিড়াল, চিতাবিড়াল, গন্ধগোকুল, শঙ্খচিল, ভুবন চিল মঙ্গলময়ন, শালিকসহ ৩ হাজারেরও বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন করেছেন। শুধু উদ্ধার নয়, আহত প্রাণীদের সুস্থ করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। 

তিনি জানান, ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণ করে কৃষিকে রক্ষা করছেন। সাপের বিষ থেকেই তৈরি হয় জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ।

অয়ন বলেন, ছোটবেলা থেকেই কোনো প্রাণীর প্রতি নির্যাতন বা আক্রমণ আমার সহ্য হতো না। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় একবার একটি সাপ ধরে বাসায় নিয়ে আসি। মা-বাবা অনেক বকা দিয়েছেন। সেই থেকেই বন্যপ্রাণীর প্রতি আমার ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। আজও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

প্রকৃতি ও প্রাণির প্রতি ভালোবাসা ও দু:সাহসিকতার কারণে তিনি অনেক আগেই ডাক পেয়েছেন এশিয়ার বৃহত্তম সাপ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন ওয়ার্ল্ড লাইফ এন্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ থেকে। 

সংগঠনটির একজন রেস্কিউয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ফিল্ড ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন।

ফেনী ইউনিভার্সিটির ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান সাদিয়া তাবাসসুম নোশিন বাসসকে বলেন, নজরুল ইসলামের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তার সাহস, দায়িত্ববোধ এবং প্রাণীদের প্রতি আন্তরিকতা একজন শিক্ষক হিসেবে আমাকে মুগ্ধ করে। 

নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাওয়ার এ মানসিকতা নি:সন্দেহে গর্ব করার মতো এবং আমি তার এই মহৎ প্রচেষ্টাকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।

সামাজিক বন বিভাগ ফেনীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বাসসকে বলেন, নজরুল ইসলাম ওয়াইল্ড লাইফ ভলেন্টিয়ার রেসকিউ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বনবিভাগের সাথে কাজ করে আসছেন। এ বিষয়ে বন বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগের সাথে ওতোপ্রোতোভাবে কাজ করছেন।

বিশেষ করে নজরুল ইসলাম ফেনী অঞ্চলে অনেক মানুষের আতঙ্ক যেমন দূর করেছেন, তেমনি পরিবেশের একটি উপাদান বিভিন্ন প্রজাতির সাপকে বিলীনের হাত থেকে রক্ষা করে আসছেন। তিনি পরিবেশের অপরিহার্য উপাদান সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে এ বন কর্মকর্তা মনে করেন। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%