বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:৫৬ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি ব্যয় কমানো ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের অংশ হিসেবে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি, চালক এবং নিজ খরচে কেনা জ্বালানি ব্যবহার করে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নিজের টয়োটা গাড়িতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শেরেবাংলা নগরে যান, পরে একই গাড়িতে সচিবালয়েও যান। তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছেন পাঁচ প্রতিমন্ত্রী, আট উপদেষ্টা এবং দুই বিশেষ সহকারী।
বৃহস্পতিবার (১৩ অগাস্ট) সন্ধ্যায় সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করা পাঁচ প্রতিমন্ত্রী হলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্দ সোহেল মনজুর সুমন, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, মো. রুহুল কবির রিজভী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান পরিবহন পুল থেকে কোনো গাড়ি নেননি এবং তারা সকলেই নিজ নিজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন।
এছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনিও সরকারি গাড়ির বদলে নিজেদের গাড়িতে চলাচল করছেন।
সূত্র বলছে, পাঁচ প্রতিমন্ত্রী, আট উপদেষ্টা ও দুই বিশেষ সহকারীসহ মোট ১৫ জন সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করায় হিসাব অনুযায়ী এসব গাড়ির পেছনে বছরে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহারে এ ধরনের সংযম রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় এবং ভিআইপি চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল প্রতিষ্ঠান আরামকোর একটি শোধনাগারে দুইটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই তথ্য সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার মাধ্যমে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদনের সূত্রে জানা গেছে যে, সৌদি আরবের জিজান অঞ্চলে হামলাটি পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু, প্রতিবেদনে হামলার কারণে শোধনাগারটির কতটা ক্ষতি হয়েছে কিংবা হতাহত হওয়া ঘটেছে কি না, সে বিষয়টি জানানো হয়নি।
হামলার বিষয়ে গোষ্ঠীটি দায় স্বীকার করে জানায়, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশের আকাশসীমা এবং সার্বভৌমত্ব সৌদি আরব লঙ্ঘন করার কারণে এর জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আন্তঃঘাঁটি সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বনানীতে অবস্থিত নৌ সদর সুইমিং কমপ্লেক্সে শেষ হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকার দল ৬টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ৭টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, একইসাথে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান দল ৪টি স্বর্ণ, ৭টি রৌপ্য ও ৩টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়ে রানার-আপ হয়েছে।
অপরদিকে, ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতায় বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকার দল বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক দলকে ৫-৪ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিকল্পনা) এয়ার ভাইস মার্শাল জাভেদ তানভীর খান প্রধান অতিথি হিসেবে সমাপনী দিনের খেলা প্রত্যক্ষ করেন এবং বিজয়ী ও উপবিজয়ী দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্যের মধ্যে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার-এর এয়ার অধিনায়ক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পদবির সদস্যবৃন্দ। গত ৯ আগস্ট ৫ দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার-এর এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল সৈয়দ সাঈদুর রহমান।
উল্লেখ্য যে, ৫ দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় বিমান বাহিনীর ৭টি দল অংশগ্রহণ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক শুভেচ্ছাবার্তায় সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল বলেন, ‘নিঃসন্দেহে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির দলীয় প্রধান তারেক রহমান জনপ্রত্যাশাকে ছুঁয়ে গেছেন।’
বার্তায় আরও বলা হয়, ‘বিএনপির মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপিকে দীর্ঘদিন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সমালোচনার মুখেও অটল থেকেছেন তার নেত্রী ও নেতার রাজনীতির প্রতি। রাজনৈতিকভাবে অনেক দ্বিমত থাকলেও দেশের রাজনীতিতে মির্জা ফখরুলের অবদান শেষ হওয়ার মতো নয়।’
এম এ আউয়াল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ ও পথদিশায় জাতিকে পথ দেখাবেন বলে আশা করি। আশা করি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর জনগণের মালিকানা নিশ্চিতের তার যে রাজনৈতিক লক্ষ্য, তা পূরণ করতে সক্ষম হবেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের মনিরামপুরে দেবিদাসপুর-পাতন ভায়া মাঝিয়ালি সংযোগ সড়কের ওপর নির্মিত হরিহর নদীর কংক্রিটের সেতুটি বর্তমানে হেলে পড়ে আছে। এর সাথে পিলারে ফাটল, নিচের অংশের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে যাওয়া এবং পাটাতনে ফাটল ধরার পর গত ৫ দিন ধরে সেতু দিয়ে যান চলাচল ও মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এই অবস্থার ফলে নদের দুই পাড়ের কয়েক শ পরিবার এবং স্কুল-মাদরাসায় যেতে চাওয়া শতাধিক শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের দিকে নির্মিত সেতুটি গত শনিবার সকালে মাঝ বরাবর দেবে গিয়ে একদিকে হেলে পড়ে। সেতুর নিচের পিলার থেকে পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে গেছে। সেই সাথে সংযোগ সড়কেও বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
যেকোনো সময় সেতুটি সংযোগ সড়কসহ ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তুলে ধরে স্থানীয়রা দুই প্রান্তে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন।
মনিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক সতর্কতামূলক নোটিশ দিয়ে সেতুটি ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন।
স্থানীয়দের ধারণা, সম্প্রতি হরিহর নদী খননের পর কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ার ফলে সেতুর গোড়ায় মাটি সরে গিয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
দেবিদাসপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওহাব মন্তব্য করেন যে, এই সেতুটি শুধু যাতায়াতের পথ নয়, বরং দুই পাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত।
সেতু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সবাই বিপাকে পড়েছেন।
পাতন দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহাফুজ হোসেন জানান, সেতুর মাধ্যমে যেতে না পেরে অনেক পথ ঘুরে মাদরাসায় যেতে হচ্ছে। এর ফলে সময় এবং ভোগান্তি দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাদরাসার সহকারী তত্ত্বাবধায়ক আক্তারুজ্জামান জানান, প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দেবিদাসপুর গ্রামের। সেতুটি বন্ধ হওয়ার কারণে তাদের প্রায় এক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে।
এতে নিয়মিত পাঠদানেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সময়ানুবর্তিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়রা উল্লেখ করেন যে, পাতন ও দেবিদাসপুর গ্রামের কয়েক শ পরিবারকে সংযুক্ত করেছে সেতুটি। পাতন ও মাঝিয়ালি গ্রামের অনেক কৃষকের জমি দেবিদাসপুর এলাকায় রয়েছে। সেতুটিই তাদের কৃষিজমিতে যাতায়াত এবং ফসল আনা-নেওয়ার প্রধান পথ। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং কৃষিকাজ উভয়েই ব্যাহত হবে।
মনিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক জানিয়েছেন, পুরোনো সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দুই বছর আগে ইউএন প্রকৌশলী দপ্তরকে জানানো হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে যাওয়ায় আবারও বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রকৌশলীরা সরেজমিনে এসে দেখেছেন এবং দ্রুত নতুন সেতুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর সরেজমিন পরিস্থিতি দেখে এসেছি। দ্রুত নতুন সেতুর বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।
কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ