০৭:২৫ পি.এম
নেত্রকোণা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : বিলুপ্তপ্রায় ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং সেগুলোর চর্চা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেত্রকোণায় ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা’ শীর্ষক একটি দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (আমাই) এর উদ্যোগে আজ বুধবার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির মিলনায়তনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, যিনি প্রধান অতিথি। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা একটি যোগাযোগের মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু এটি তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং স্বকীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সুতরাং, গারো সম্প্রদায়সহ নেত্রকোণা এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ ও চর্চার প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যেমন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পাশে ছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তাঁরা পাশে ছিলেন : প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর
তিনি নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা এবং গবেষণামূলক কার্যক্রম চালানোর ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে, তিনি বলেন যে এসব আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, গবেষক এবং তরুণ প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক প্রতিটি মানুষের কাছে নিজ নিজ মাতৃভাষার চর্চা বাড়ানো এবং ভাষাগুলোকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংরক্ষণ ও হস্তান্তরের উপর বিপুল গুরুত্বারোপ করেন।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক আবুল কালাম বলেন।
কর্মশালা চলাকালীন, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক বাঁধন আরেং এবং তর্পন ঘাগ্রা। তাদের প্রবন্ধে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের গবেষণার তথ্য অনুযায়ী দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তত ৪০টি ভাষা স্বীকৃত হলেও এর মধ্যে ১৪টি ভাষা বর্তমানে ‘বিপন্ন’ বা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
আরও পড়ুন: মেহেরপুরে শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের ব্যস্ততা
প্রবন্ধে বলা হয়, ভাষা পরিবারভিত্তিক বিশ্লেষণে এসব ভাষার মধ্যে ১৫টি চীনা-তিব্বতী, ১১টি ইন্দো-ইউরোপীয়, ৯টি অস্ট্রো-এশিয়াটিক এবং ৫টি দ্রাবিড় ভাষার অন্তর্ভুক্ত।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক অঞ্জন কুমার চিছাম, নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা এবং দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত। মুক্ত আলোচনা পর্বে স্থানীয় শিক্ষক, প্রভাষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচকদের মন্তব্য, মাতৃভাষা প্রতিটি মানুষের কাছে মাতৃদুগ্ধের মতো এবং একটি জাতির আত্মপরিচয় এবং প্রাণের স্পন্দন ভাষার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। ভাষা হারিয়ে গেলে সেই সংস্কৃতির অস্তিত্বও বিপন্ন হয়ে পড়ে।
তারা আরও বলেন, সরকার সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, ইতোমধ্যে বিপন্ন ভাষা রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামের পাশাপাশি সমতলেও নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। এর অংশ হিসেবে চলতি শিক্ষাবর্ষে গারো সম্প্রদায়ের শিশুদের ‘আচিক’ ভাষা এবং হাজং সম্প্রদায়ের শিশুদের মাঝে তাদের নিজ ভাষার পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হিজলায় ৫১ লাখ মিটার পরিত্যক্ত জাল উদ্ধার, ২০ জেলে আটক
বক্তাগণ জোর দিয়ে বলেন, সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বিলুপ্তপ্রায় ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের ধারক-বাহকসহ সমাজের সকলস্তরের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন