ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আসামি ধরতে গিয়ে হামলায় এএসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত


আসামি ধরতে গিয়ে হামলায় এএসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ওয়ারেন্টের আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তিন পুলিশ সদস্য।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নাসিক ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আটি ওয়াপদা কলোনি এলাকার একটি ঘটনার মাধ্যমে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হচ্ছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) স্বপন, কনস্টেবল হানিফ এবং মনির।

আরও পড়ুন: ভূতিয়ার বিলের ‘পদ্ম-শাপলা’ ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহআলম। তিনি বলেন, ওয়াপদা কলোনি এলাকার একটি বাসায় ওয়ান্টের আসামি ধরতে গেলে আমাদের তিন পুলিশ সদস্যের উপর অতর্কিত হামলা হয়েছে। তিনি আরো জানান, আমি আহতদের নিয়ে খানপুর হাসপাতালে যাচ্ছি এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারছি না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মানুষের প্রতি ভালোবাসাই খালেদা জিয়াকে মহান করেছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ এম


‘মানুষের প্রতি ভালোবাসাই খালেদা জিয়াকে মহান করেছে’

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, ত্যাগ ও সংগ্রামের কারণেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে একটি স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তার আদর্শ ও রাজনৈতিক সংগ্রাম আগামী দিনেও নেতাকর্মীদেরকে পথ দেখাবে।

শনিবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপি এবং সব সহযোগী সংগঠন এ সভার আয়োজন করেছে।

বিমানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে। কিন্তু কিছু মানুষ নিশ্চিতভাবে থাকেন, যারা নিজেদের প্রস্থান করার পরও প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করে যান। সেই ধরনের ব্যক্তিত্ব আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রদত্ত ত্যাগ, স্বাধীনতা, সংগ্রাম এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসাই আজ তাকে এত মহান করে তুলেছে। আমরা সেই নেত্রীর সৈনিক হিসেবে কাজ করছি।

জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদের সঞ্চালনায় সভায় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদ হোসেন খান, নূরতাজ আলম বাহার এবং জহির আলম খান লোদীসহ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। এ সময় বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়াকে কেন আপসহীন নেত্রী বলা হয়—এমন প্রশ্ন তুলতে গিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার কঠোর ভূমিকার কারণে তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ে তিনি গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে আসছেন।

আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, খালেদা জিয়া চাইলে তার সন্তানের কাছে বিদেশে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। দেশের মানুষের ভালোবাসার কারণেই তিনি সব নির্যাতন সহ্য করেও দেশে থেকে গেছেন। তাই আমরা কেন তার প্রতিদান দেব না? আমাদের মনে রাখতে হবে, নিজের স্বার্থের চেয়ে দল ও দেশ বড়।

দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেছেন, দলের এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়—এমন কোনো কাজ করা যাবে না। সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে। সুতরাং আমাদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। বিএনপির সৈনিক হিসেবে নিজেদের যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সেটিও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। সামনে অনেক কাজ রয়েছে এবং আগামী নির্বাচন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। এই কারণে সব কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে।

দলের জন্য কারা প্রকৃতপক্ষে কাজ করছেন, তাLeadershipকে বুঝতে হবে উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী বললেন, এখন অনেক লোক আসবে, যারা দেখাবে বিএনপির জন্য তারা জীবন দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু Leadershipএ যারা আছেন, তাদেরই বুঝতে হবে আসলে দলের জন্য কাকে প্রয়োজন। তিনি বলেন, সে যত কাছে বা আদরের লোকই হোক না কেন, মনে রাখতে হবে দলই সবার ওপরে।

দেশের স্বার্থে, তারেক রহমানের স্বার্থে এবং নিজ এলাকার স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, একটি ভুল সিদ্ধান্তের জের আগামী পাঁচ বছর টানতে হতে পারে। তাই দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে কোনো বিভাজন বা দ্বন্দ্ব রাখা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যাকে যতটুকু দেওয়ার, তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। সুতরাং হিংসা বা লোভ করে লাভ নেই। আমাদের উচিত প্রাপ্য অবস্থানকে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে ধরে রাখা।

নিজের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, আজ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভোটের কারণেই আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি এবং মন্ত্রিত্ব পেয়েছি। সুতরাং আমার প্রথম দায়িত্ব হলো তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের স্বপ্ন পূরণ করা।

তিনি বলেন, আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে রাজনীতি শুরু করেছি। আমার প্রায়ই তার কথা মনে পড়ে। আগামীতে মানিকগঞ্জে ধানের শীষকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর ধানের শীষ না থাকায় নেতাকর্মীদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের যারা রাজনীতি করে এসেছেন, তাদের তিনি সবসময় অগ্রাধিকার দেন। কারণ তারা অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রাজনীতি শিখেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তীব্র গ্যাস সংকটে অর্ধশত শিল্পকারখানা বন্ধ, দৈনিক লোকসান ২৫ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪৫ এম


তীব্র গ্যাস সংকটে অর্ধশত শিল্পকারখানা বন্ধ, দৈনিক লোকসান ২৫ কোটি টাকা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে তীব্র গ্যাস সংকটের ফলে শিল্প মালিকরা চরম বিপাকের মুখোমুখি হচ্ছেন। বুধবার থেকে গ্যাসের অভাবে পোশাক খাত সহ অর্ধশতাধিক ছোট-বড় শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিনের হিসাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় ২৫ কোটি টাকার আর্থিক লোকসান দিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক এবং পূর্বাঞ্চল শিল্পমালিক সমিতির সভাপতি এম জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, বন্দর এলাকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকট ভোগ করছে। গ্যাসের অভাবের কারণে নিয়মিত শিপমেন্ট এবং পণ্য সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করা যাচ্ছেনা, ফলে তারা সরে যাচ্ছেন, যা সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক চরম অশনি সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, তার মালিকানাধীন ‘জাহিন নিটওয়্যার’ কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ২৩ টন পোশাক উৎপাদন হত, যা এখন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে আছে। এই একটি কারখানার জন্য দৈনিক লোকসান হচ্ছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। একইভাবে মদনপুর এলাকার ইউনাইটেড অ্যাপারেলস, ইপিলিয়ন ও ল্যারিজ ফ্যাশনের মতো বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনও চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলিয়ারচরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সভা: ‘মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে অর্জিত দেশে কোনো ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫২ এম


কুলিয়ারচরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সভা: ‘মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে অর্জিত দেশে কোনো ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না’

 

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ ফরিদপুর ইউনিয়ন শাখা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ফরিদপুর ঐতিহ্যবাহী রহযরত মাওলানা আবু আক্তার উদ্দিন শাহ্ কলন্দর গাউছ পাক (র:) মাজার শরীফ জামে মসজিদের সামনে খোলা আকাশের নিচে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কুলিয়ারচর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কুলিয়ারচর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি রিপন খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মেরাজ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সভাপতি মো. আনোয়ার পারভেজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার পারভেজ বলেন, "আমাদের পিতারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরি হিসেবে আমাদের ধমনীতেও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার রক্ত প্রবাহিত। এই স্বাধীন ভূখণ্ডে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী যেকোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলব।"

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের উপজেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভূইয়া ও মো. সোহেল মিয়া এবং সদস্য মো. মিনহাজুর রহমান ও শামীম মিয়া।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভূইয়া সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "মুক্তিযোদ্ধাদের হাতকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে কুলিয়ারচরের ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় পূর্ণাঙ্গ শাখা কমিটি গঠন করা হবে। আমাদের এই ঐক্য কেবল কাগজে-কলমে নয়, রাজপথেও থাকবে।"

আলোচনা সভা থেকে সমাজ সংস্কার ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়। বক্তারা শক্ত কণ্ঠে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, "সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সমূল উৎপাটন করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।"

উক্ত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে ক্ষতিকর কীটনাশকের অপব্যবহার বন্ধে উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ এম


দেশে ক্ষতিকর কীটনাশকের অপব্যবহার বন্ধে উদ্যোগ

দেশে ক্ষতিকর কীটনাশকের অপব্যবহার বন্ধের উদ্দেশ্যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওই লক্ষ্যে নতুন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে কীটনাশকের ব্যবহারকে আরো বিজ্ঞানভিত্তিক, সীমিত ও পরিবেশবান্ধব করে তোলা সম্ভব হবে। নতুন ওই নীতিমালার মাধ্যমে কীটনাশকের মান নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া চিহ্নিত অতিমাত্রায় ক্ষতিকর কীটনাশকগুলো ধাপে ধাপে নিষিদ্ধ বা কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় গত জুলাইয়ে এই বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটি টেকসই কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে বিদ্যমান বালাইনাশক আইন, বিধিমালা, নিবন্ধন, লাইসেন্সিং, মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণাগার ও মনিটরিং ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে গাইডলাইন প্রদান করবে। এতে মাটি, পানি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি বালাইনাশকের আমদানি, উৎপাদন ও পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনা থাকবে। এদিকে আমদানি করা কীটনাশক কৃষকের কাছে পৌঁছানোর আগে সেটির টেস্টের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

সূত্র মতে, দেশে চাষাবাদ বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে কীটনাশক ও বালাইনাশকের ব্যবহারও। ফসলের নিবিড় চাষ, উচ্চফলনশীল জাতের বিস্তার এবং সবজি ও ফল উৎপাদন গত এক দশকের মধ্যে দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে দেশে ৩৫ হাজার ৫২৩ টন কীটনাশক ব্যবহার হয়েছিল। আর ২০২৪ সালে দেশে এর পরিমাণ বেড়ে ৪০ হাজার ৮৩২ টনে পৌঁছেছে। দেশের আবাদযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ ৮৮ দশমিক ২৯ লাখ হেক্টর। হিসাব থেকে জানা যায়, হেক্টরপ্রতি ৪ দশমিক ৬২ কেজি কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশব্যাপী কীটনাশকের অবাধ ব্যবহারের ধরন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। একই জমিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, অনুমোদনহীন মিশ্রণ তৈরি, এক সক্রিয় উপাদান বারবার ব্যবহার এবং ফসল কাটার সময়ের আগে স্প্রে করার কারণে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রায়ই বাজারে পাওয়া শাকসবজি ও ফলমূলেও অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ বা রেসিডিউ পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বড় বাধা তৈরি করছে।

সূত্র জানায়, দেশে এখনো অধিকাংশ কৃষকিন কীটনাশক স্প্রে করার পর ফসল তোলার নির্ধারিত অপেক্ষার সময় যথাযথভাবে অনুসরণ করে না। ফলে রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ সরাসরি খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে। তাছাড়া অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে মাটির উপকারী অণুজীব, পরাগায়নকারী মৌমাছি, জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই কীটনাশক দীর্ঘসময় ব্যবহারে পোকামাকড়ের প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের আরো বেশি মাত্রায় বা আরও শক্তিশালী কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে নতুন নীতিমালায় কৃষক পর্যায়ে ব্যবহারের পাশাপাশি আমদানি, নিবন্ধন, উৎপাদন, বাজারজাত ও বিক্রয় অর্থাৎ পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কোন সক্রিয় উপাদান দেশে নিবন্ধিত হবে, কোনটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বাদ পড়বে এবং কোন ক্ষেত্রে জৈব বা বায়োপেস্টিসাইডকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে, তা নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাছাড়া কৃষকের হাতে পৌঁছানোর আগে আমদানি করা কীটনাশক ল্যাবে পরীক্ষার বিষয়টিও থাকবে।

সূত্র আরো জানায়, অতিরিক্ত কীটনাশকের প্রভাব মানবস্বাস্থ্য, প্রাণীদেহ ও পরিবেশ সব ক্ষেত্রেই পড়ছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে পুকুরের মাধ্যমে মাছের দেহে এবং ঘাসের মাধ্যমে গবাদিপশুর দেহে প্রবেশ করছে। আর সবশেষে তা মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে। এজন্য নীতিমালার মাধ্যমে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজন অত্যাবশ্যক। সেক্ষেত্রে কৃষকদের প্রশিক্ষণের, বাংলায় স্পষ্ট ব্যবহারবিধি, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবহার এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া জরুরি। নতুন নীতিমালায় উচ্চ ঝুঁকির রাসায়নিক ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি এবং নিয়মিত রেসিডিউ মনিটরিং কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের কৃষিপণ্য রফতানির প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বৃদ্ধি করবে।

এদিকে দীর্ঘসময় ধরে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ধারাবাহিকভাবে অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক প্রত্যাহারের সুপারিশ করে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রফতানি বাজারে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা (এমআরএল) আরও কঠোর হওয়ায় বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রফতানির ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম জানান, আমদানি করা কীটনাশক কৃষকের কাছে যাওয়ার আগে সেগুলোর ঝুঁকি কতটুকু তা পরীক্ষার বিষয়টি গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। আমদানি করা কীটনাশকের ল্যাব পরীক্ষার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। দেশে এ ধরনের পরীক্ষাগারের সুবিধা সীমিত। তবে প্রবেশপথগুলোয় এক বা দুটি পরীক্ষাগার স্থাপন করা হতে পারে। সেখানেও অল্প সময়ে পরীক্ষা করে কীটনাশকে কোনো ক্ষতিকর উপাদান, ভারী ধাতু বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অন্য কিছু রয়েছে কিনা, তা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি আমদানি করা পণ্যের তথ্যও ভালোভাবে পরীক্ষা করা হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে কৃষকের হাতে পৌঁছানোর আগে সেটির সরবরাহ বন্ধ করা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%