প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, ত্যাগ ও সংগ্রামের কারণেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে একটি স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তার আদর্শ ও রাজনৈতিক সংগ্রাম আগামী দিনেও নেতাকর্মীদেরকে পথ দেখাবে।
শনিবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপি এবং সব সহযোগী সংগঠন এ সভার আয়োজন করেছে।
বিমানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে। কিন্তু কিছু মানুষ নিশ্চিতভাবে থাকেন, যারা নিজেদের প্রস্থান করার পরও প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করে যান। সেই ধরনের ব্যক্তিত্ব আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রদত্ত ত্যাগ, স্বাধীনতা, সংগ্রাম এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসাই আজ তাকে এত মহান করে তুলেছে। আমরা সেই নেত্রীর সৈনিক হিসেবে কাজ করছি।
জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদের সঞ্চালনায় সভায় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদ হোসেন খান, নূরতাজ আলম বাহার এবং জহির আলম খান লোদীসহ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। এ সময় বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়াকে কেন আপসহীন নেত্রী বলা হয়—এমন প্রশ্ন তুলতে গিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার কঠোর ভূমিকার কারণে তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ে তিনি গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে আসছেন।
আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, খালেদা জিয়া চাইলে তার সন্তানের কাছে বিদেশে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। দেশের মানুষের ভালোবাসার কারণেই তিনি সব নির্যাতন সহ্য করেও দেশে থেকে গেছেন। তাই আমরা কেন তার প্রতিদান দেব না? আমাদের মনে রাখতে হবে, নিজের স্বার্থের চেয়ে দল ও দেশ বড়।
দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেছেন, দলের এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়—এমন কোনো কাজ করা যাবে না। সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে। সুতরাং আমাদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। বিএনপির সৈনিক হিসেবে নিজেদের যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সেটিও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। সামনে অনেক কাজ রয়েছে এবং আগামী নির্বাচন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। এই কারণে সব কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে।
দলের জন্য কারা প্রকৃতপক্ষে কাজ করছেন, তাLeadershipকে বুঝতে হবে উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী বললেন, এখন অনেক লোক আসবে, যারা দেখাবে বিএনপির জন্য তারা জীবন দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু Leadershipএ যারা আছেন, তাদেরই বুঝতে হবে আসলে দলের জন্য কাকে প্রয়োজন। তিনি বলেন, সে যত কাছে বা আদরের লোকই হোক না কেন, মনে রাখতে হবে দলই সবার ওপরে।
দেশের স্বার্থে, তারেক রহমানের স্বার্থে এবং নিজ এলাকার স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, একটি ভুল সিদ্ধান্তের জের আগামী পাঁচ বছর টানতে হতে পারে। তাই দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে কোনো বিভাজন বা দ্বন্দ্ব রাখা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যাকে যতটুকু দেওয়ার, তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। সুতরাং হিংসা বা লোভ করে লাভ নেই। আমাদের উচিত প্রাপ্য অবস্থানকে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে ধরে রাখা।
নিজের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, আজ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভোটের কারণেই আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি এবং মন্ত্রিত্ব পেয়েছি। সুতরাং আমার প্রথম দায়িত্ব হলো তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের স্বপ্ন পূরণ করা।
তিনি বলেন, আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে রাজনীতি শুরু করেছি। আমার প্রায়ই তার কথা মনে পড়ে। আগামীতে মানিকগঞ্জে ধানের শীষকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর ধানের শীষ না থাকায় নেতাকর্মীদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের যারা রাজনীতি করে এসেছেন, তাদের তিনি সবসময় অগ্রাধিকার দেন। কারণ তারা অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রাজনীতি শিখেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন