০২:২৬ পি.এম
এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠার কারণে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে নেত্রকোনা সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রিপন মিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১৩ বছর বয়সী একটি শিক্ষার্থী, যিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনা করছেন।
অভিযুক্ত রিপন মিয়া (৩০) নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি 'রিপন ভিডিও' নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন: ৬ সদস্য নিয়ে অনলাইনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, শনিবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে রিপন মিয়াকে মেয়েটির বাড়ির পেছনে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বসে। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, ওই সালিশে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়তে তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিডিওটি নজরে আসার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
গতকাল দুপুরে সরেজমিনে রিপন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে তিনি এলাকায় নেই।
রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার বলেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না, তবে মানুষের মুখে বিষয়টি শুনেছেন। তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং বলেছেন, ঘটনাটি অন্যায়ভাবে রিপন মিয়ার ওপর চাপানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার তাদের বাড়িতে আগে থেকেই যাতায়াত করত।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. পিয়াল আহমেদ গ্রেফতার, ২৭ মামলার পলাতক আসামি
ভুক্তভোগীর মা বলেন, তিনি বাড়িতে না থাকায় প্রথমে বিষয়টি আরো জানতে পারেননি। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার সম্পর্কে শুনে জানান। এরপর তিনি মেয়ের কাছ থেকে অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন