প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে ইয়াংবু উপকূলের কাছে ‘ওয়াফা’ নামের একটি সৌদি তেলের ট্যাংকারে বুধবার ব্যালিস্টিক মিসাইল দ্বারা নিখুঁত হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী হুতি। প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবের ওপর ‘নৌ-অবরোধ আরোপের’ যে সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছিল, এই হামলা তারই একটি অংশ।
প্রস্তুতি হিসাবে, ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওয়াফা নামের ওই তেলের ট্যাংকারটিকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া হয়েছে এবং তাদের এই হামলা ছিল শতভাগ নির্ভুল।
এক বিবৃতিতে তিনি আরও জানান, গত ২২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নৌ-অবরোধের পর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর নিশানায় পড়া সৌদি তেলের ট্যাংকারের সংখ্যা এখন আটে দাঁড়িয়েছে। তারা শুধুমাত্র হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং মুখপাত্রের দাবি, অবরোধের পর থেকে এখন পর্যন্ত লোহিত সাগর ও আরব সাগরে মোট ২৯টি সৌদি তেলের ট্যাংকারকে সামনে এগোতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের নিজেদের অঞ্চলে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
এদিকে, সৌদি ট্যাংকারের পাশাপাশি ইয়েমেন উপকূলে গোলার আঘাতের কারণে ভারতের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজও সাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ‘এমএসভি ফাইজ নূরে আউলিয়া’ নামের ওই জাহাজে থাকা ১৪ আরোহীর সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৩ জনই ভারতীয় নাগরিক।
ঠিক কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট না হলেও, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এর জন্য হুতিদেরই দায়ী করেছে। তাদের দাবি, বিস্ফোরকবোঝাই একটি নৌযানের সাহায্যে এই হামলা চালানো হয়। তবে হুতিদের পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ভারতের নৌপরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এ ঘটনার জন্য ‘উসকানিমূলক হামলা’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ ও নির্বিঘ্ন জাহাজ চলাচল দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করার তাগিদ দিয়েছে।
মূলত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার কারণে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো লোহিত সাগর ব্যবহার করে আসছিল। কিন্তু সেখানেও সৌদি ট্যাংকার ও অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হুতিদের এমন উপর্যুপরি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য পরিবহনের ঝুঁকি চরম মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন