০৫:০২ পি.এম
ঢাকা, ৪ জুলাই, ২০২৬ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশের সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সমবায় সমিতির সংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তে বিদ্যমান সমিতিগুলোর গুণগত মান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করতে হবে।
তিনি এ কথাগুলো বলেন, সমবায়ীদের উৎপাদিত পণ্য আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আজ শনিবার ১০৪তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে, আগারগাঁওয়ে সমবায় অধিদপ্তরের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের আন্তর্জাতিক সমবায় দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘কোঅপারেটিভ ফর এ্যা পিসফুল ওয়ার্ল্ড’।
আরও পড়ুন: প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির আবেদন ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সেই সঙ্গে তিনি সমবায়ীদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের মেলার স্টল পরিদর্শনও করেন।
তিনি সমবায় অধিদপ্তরের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবহিত হন। দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে দায়িত্ব দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জেলা কার্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর করতে উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) প্রণয়ন, কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি, পদোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়, কর-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়ের সমবায় সমিতিগুলো পরিদর্শন করবেন এবং মাঠপর্যায়ের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবেন। সমবায় খাতের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন।
মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সমবায় খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস কেবল উদযাপনের উপলক্ষ নয়, বরং এটি সমবায়ের আদর্শ, মূল্যবোধ ও অবদানকে নতুন করে মূল্যায়নের একটি অনন্য সুযোগ। তিনি বলেন, মানুষের ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং সমবায়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ঐক্য, আত্মনির্ভরশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার চেতনা গড়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনে সমবায় একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অধিকন্তু, তিনি সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজেদের অবস্থান থেকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেছেন, সমবায় অধিদপ্তরের দীর্ঘ পথচলায় গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, নারী ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া, মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সমবায় আরও বড় অবদান রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ, স্বল্পসুদে ঋণ, বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে সমবায়কে আরও জনবান্ধব করার আহ্বান করেন।
সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. সেলিম ফকির, এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক মো. নবীরুল ইসলাম, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সমবায় অধিদপ্তরের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সমবায়ীরা।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজের ৫ দিন পর ভ্যানচালক চাঁদ আলীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন