মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি
০৬:৩৮ পি.এম
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস এবং বন্যার ফলে বিপর্যস্ত রাঙ্গামাটির দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্যোগের সময়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিল রাঙ্গামাটি সদর জোন। শনিবার, জোনের উদ্যোগে ৮০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে যে, রাঙ্গামাটি সদর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, পিএসসি সকালে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বাংলাদেশের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র, সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ আশ্রয়কেন্দ্র এবং কাউখালী উপজেলার আরটিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘাগড়া আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি পরিদর্শনের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত নারী, শিশু ও বয়স্কদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক অবস্থা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি, তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনের পরে, তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত ৮০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মোট ২০৪ জন সদস্যের মাঝে চাল, ডাল, তেল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর এই মানবিক সহায়তা পেয়ে দুর্গত পরিবারগুলো তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প ও ঘাগড়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার, সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। রাঙ্গামাটি সদর জোন জানিয়েছে, চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে উদ্ধার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ এবং ত্রাণ সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। এই মানবিক কার্যক্রম চলবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত।
এদিকে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধস এবং জলাবদ্ধতার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে কক্সবাজারের টেকনাফে আটকে পড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপের ১৪০ জন বাসিন্দা আটদিন পর তিনটি ট্রলারে করে দ্বীপে ফিরেছেন।
শনিবার সকালে, টেকনাফ জেটিঘাট থেকে তিনটি ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পরে, দুপুরের দিকে ট্রলারগুলো নিরাপদে সেন্টমার্টিনে পৌঁছায়।
টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, সাগরের বৈরী আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় টেকনাফে আটকে পড়া সেন্টমার্টিনগামী যাত্রীরা দ্বীপে যেতে পেরেছেন। একই সঙ্গে, দ্বীপের প্রায় ৩০০ পরিবারের জন্য চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে। দ্বীপে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দেয়ায়, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ১০ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে।
টেকনাফ-সেন্টমার্টিন ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে টানা আট দিন ট্রলার চলাচল বন্ধ ছিল। এতে টেকনাফে অবস্থানরত সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও বিভিন্ন কাজে যাওয়া লোকজন আটকে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, শনিবার টেকনাফ থেকে প্রায় ১৪০ জন যাত্রী ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে তিনটি ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়, এবং দুপুরের দিকে নিরাপদে দ্বীপে পৌঁছে। একই দিনে, সেন্টমার্টিন থেকে প্রায় ৭০ জন যাত্রী নিয়ে দুটি ট্রলার টেকনাফের উদ্দেশে রওনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইনের (কায়কোবাদ) স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিতরণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান ৪৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিত উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কবি নজরুল মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রদান করা হয় এসব অনুদান অসচ্ছল ব্যক্তি, দুস্থ পরিবার এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম সারোয়ার রাব্বী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী কাজী জুন্নুন বসরী।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম।
এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি নায়েব আলী, উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম মুন্সিসহ উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা উল্লেখ করেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। ধর্মমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিলের এই সহায়তা অসহায় মানুষের জীবনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) প্রদান স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়েছে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার উপর অধিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
শনিবার (১১ জুলাই), ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব হলো এটি নিশ্চিত করা যে, অভিবাসীরা অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে না দাঁড়ান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছে, কারণ বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা ব্যবহারের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে।
এছাড়া, এই স্থগিতাদেশের ফলে আমাদের যাচাই ও বাছাই নীতিমালা ও প্রক্রিয়াগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করার সময় মিলবে, যাতে সেগুলো আমেরিকানদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই, এবিষয়ে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন, আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এই সেমিনারের আয়োজন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ প্রচেষ্টার ফল।
মন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং উপকূলীয় লবণাক্ততা আমাদের জীবন ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে। তাই পরিবেশ রক্ষা করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অবশ্যই প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি সরকারি প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার একা পরিবেশ রক্ষা করতে সক্ষম হবে না। এজন্য নাগরিক সমাজ, পরিবেশবাদী সংগঠন, তরুণ প্রজন্ম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আবশ্যক।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বাপা’র সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার। স্বাগত বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সুমন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপা’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. ফিরোজ আহমেদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ এবং গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ