০৩:১১ এম
টানা অনশনের ফলে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত উল্লেখ করেছে, প্রতিটি মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। এই কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুকের চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ জরুরি শুনানির মাধ্যমে এই নির্দেশনা প্রদান করেন। আদালত জানিয়েছে, প্রতিদিন সরকারি চিকিৎসকদের দ্বারা ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হবে। যদি চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি বা অন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজনের বিষয় উঠে আসে, তাহলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান যে, সরকারি চিকিৎসকরা ইতিমধ্যেই ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে সব সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের আহ্বান জানালেন শামা
শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত জুন মাসে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়। आंदোলনের এক সপ্তাহ পরে সোনম ওয়াংচুক অনশনে বসেন। বৃহস্পতিবার ছিল তার অনশনের উনিশতম দিন। অনশন দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির খবর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
সর্বশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তার শরীর এখন অত্যন্ত দুর্বল। অনশন শুরু করার আগে তার ওজন ছিল ৬৬ কেজি, যা বর্তমানে কমে ৫৭ দশমিক ১৫ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। মাত্র এক দিনেই তার ওজন প্রায় চারশ গ্রাম কমেছে। তার রক্তচাপ ছিল ১০৫ এর ওপর ৭৬, রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭ শতাংশ ছিল।
বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক জানান, তার শরীর ভালো নেই, তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান এবং তার দাবির প্রতি অনড় রয়েছেন। প্রথম দিকে জনসমাগম তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি পরিবর্তন ঘটেছে। ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যন্তর মন্তরে মানুষের আগমন বেড়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সমাজকর্মী এবং সাধারণ মানুষ তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি হলো, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলমান থাকবে। সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানাচ্ছেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।
আরও পড়ুন: লখনউয়ের মসজিদ ও মাদরাসায় নোটিশ জারি করেছে আদালত
বিভিন্ন আইন বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন, আদালতের নির্দেশনার পর সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রতি প্রশাসনের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে উঠেছে। এখন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে সকলের নজর রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন