০৯:৩৪ এম
ডিজিটাল বাণিজ্যসহ অবৈধ বন উজাড়ের কিছু ইস্যুর কারণে ব্রাজিলের বাণিজ্য নীতিকে ‘অন্যায্য’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের পণ্যের উপর ২৫% শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে।
আমেরিকার শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা এবং ‘ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ’ জেমিসন গ্রিয়ার এই তথ্য সোমবার (০১ জুন) রাতে নিশ্চিত করেছেন। রয়টার্স এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এই ব্যবস্থা ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর অধীনে নেওয়া হচ্ছে। এতে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সার্ভিস, বিশেষ শুল্ক সুবিধা, মেধা স্বত্ব সুরক্ষা এবং ইথানল বাজারের মত বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন: কেপিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের শরণাপন্ন পিটিআই
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবের পর মঙ্গলবার (২ জুন) ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ‘লাতিন আমেরিকা-বিদ্বোধী’ হিসেবে অভিযুক্ত করেন।
লুলা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা তিনবার বৈঠকে বসলেও কোন সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তিনি তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের ওপর শুল্ক চাপানোর কারণ খুঁজছে, ঠিক তখনি (মঙ্গলবার) চীন ব্রাজিলকে ‘খুরো রোগ’ মুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত এই প্রস্তাবটি জনসাধারণের পর্যালোচনার জন্য খোলা থাকবে। তবে এই ২৫% শুল্কের আওতায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—গরুর মাংস, কফি ও কমলার রস; অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য; বিরল খনিজ ধাতু ও অন্যান্য আকরিক; উড়োজাহাজ এবং উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ এবং ওষুধ ও সার।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ১৯৬২ সালের ‘সেকশন ২৩২’-এর আওতাধীন থাকা ব্রাজিলীয় পণ্য—যেমন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা (৫০% শুল্ক) এবং গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ (২৫% শুল্ক)—পূর্বে নির্ধারিত নিয়মেই বহাল থাকবে। নতুন ২৫% শুল্ক এর ওপর অতিরিক্ত যুক্ত হবে না।
আরও পড়ুন: বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে বাতিল হবে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন
ব্রাজিলের দুজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই শুল্কের উদ্দেশ্যকে প্রযুক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিক বলেও জানিয়েছেন। গত মাসে প্রেসিডেন্ট লুলা হোয়াইট হাউজ সফর করলেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সঙ্কটাপন্ন হতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি ব্রাজিলের আপত্তির মুখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দেশটির দুটি বড় অপরাধী চক্রকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মজার বিষয় হলো, এই ঘোষণার কয়েকদিন আগে লুলার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স ও রুবিওদের সাথে বৈঠক করে এই সন্ত্রাসী তকমা দেওয়ার পক্ষে লবিং করেছিলেন।
এদিকে শুল্ক সম্পর্কে সিনেটর ফ্লাভিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম আমাদের কোম্পানির ওপর শুল্ক না বসাতে। শুল্ক কোন সমাধান নয়।’
গত বছর ট্রাম্প ব্রাজিলের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এর মধ্যে ৪০% ছিল ট্রাম্পের বন্ধু এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ‘শাস্তি’ বৈশিষ্ট্য হিসেবে। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ওই জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়।
আরও পড়ুন: মেয়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে কিম জং উন, মৃত্যুর গুজব অস্বীকার
আদালতের ওই ধাক্কার পর ট্রাম্প প্রশাসন আইনিভাবে শক্তিশালী ‘সেকশন ৩০১’-এর আশ্রয় নিয়েছে, যেটি অতীতে চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল।
ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘ব্রাজিলের বাণিজ্য নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ রয়েছে। লুলার প্রশাসনের সাথে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে, তবে এই তদন্তে উঠে আসা সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে আমাদের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।’
ইউএসটিআর জানিয়েছে, এই শুল্ক প্রস্তাবের ওপর আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত লিখিত মতামত দিতে সক্ষম। এবং ৬ জুলাই একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আইন অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে এই তদন্তের বিপরীতে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সময়সীমা রয়েছে।
আরও পড়ুন: স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি, তদন্ত চলছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন