০৯:৫০ এম
লিবিয়ার পূর্ব উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে একটি কাঠের নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নারী এবং শিশুসহ অন্তত ৫০ জন অভিবাসী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবারের এই দুর্ঘটনার বিষয়ে তথ্য রয়টার্সকে নিশ্চিতাগড়ি করেছেন লিবিয়ার দুটি নিরাপত্তা সূত্র।
উদ্ধার হওয়া ১০ জনকে মিসরের সীমান্তের কাছাকাছি তবরুক শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে এল-বারদা দ্বীপের কাছে উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে মোট প্রায় ৬০ জন অভিবাসী ছিলেন।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শেষ হলেও জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকবে: আইইএ প্রধান
জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরের দিকে নৌকাটি যাত্রা শুরু করেছিল। কিছুক্ষণ পরেই এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায়। নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, নৌকায় থাকা অভিবাসীরা সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। নিরাপত্তার কারণে তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এসব তথ্য দিয়েছেন।
এদিকে, এর আগের দিন সোমবারও একই এলাকায় আরেকটি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তবরুক উপকূল থেকে চারজন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লিবিয়ার জলসীমায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ভাসতে থাকা একটি নৌকা থেকে ২৪ জন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর একজন জানান, ওই নৌকায় মোট ২৮ জন অভিবাসী ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙাচোরা নৌকায় আটকে থাকায় তারা চরম মানবিক সংকটের মধ্যে পড়েন।
খাবার, পানি এবং চিকিৎসার অভাবে চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি আরো জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে নৌকাডুবির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। ২০১১ সালে ন্যাটোর সমর্থনে বিদ্রোহের মাধ্যমে মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। সেই সুযোগে মানবপাচারকারী চক্রগুলো লিবিয়াকে ইউরোপমুখী অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান যাত্রাপথ হিসেবে ব্যবহার করছে। সংঘাত, দারিদ্র্য ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের হাজারো মানুষ প্রতিবছর মরুভূমি পেরিয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখান থেকে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এই যাত্রায় প্রতিবছর অনেক অভিবাসী প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন। উল্লেখ্য যে, এর আগে গত জুন মাসে তবরুক শহরের কাছেই আরেকটি নৌকা ডুবে যায়। সে ঘটনায় অন্তত ২৬ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন