১০:৪৯ পি.এম
রাজশাহী নগরী থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে, পদ্মা নদীর বুকের উপরে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ মাঝচর আজ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে সবুজ ঘাসের মাঠ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলাশয়, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বসতঘর আর নদীর নির্মল বাতাস-সব মিলিয়ে মাঝচর যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক অসাধারণ ছবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে এর মুগ্ধকর সৌন্দর্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পবার হরিয়ান ইউনিয়নে অবস্থিত এই মাঝচরে বসবাস করেন প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার। নদীর বুকেই তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবন-জীবিকা। তবে বরাবরই এই বসতি স্থায়ী নয়। পদ্মায় পানি বাড়লেই ডুবে যায় চর; পানির সঙ্গে হারিয়ে যায় ঘরবাড়ি ও ফসল। পানি নেমে গেলে চর আবার জেগে ওঠে এবং নতুন করে বসতি গড়ার সংগ্রাম শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর বর্ষায় পানি বাড়লেই সুদৃশ্য মাঝচর তলিয়ে যায়। পানি কমলে আবার তারা ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন। এবার বর্ষা মৌসুমেও পানি না বাড়ায় এখনো সবুজে ঢাকা মাঝচর। দূর থেকে দেখা যায় সবুজ মাঠের মধ্যে ছোট ছোট টিনের ঘর, বাঁশের বেড়া ও খড়ের গোলা। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যই টানছে দর্শনার্থীদের।
আরও পড়ুন: সিলেটকে নান্দনিক ও শান্তির নগরী করার প্রতিশ্রুতি দিলেন বিকেএম প্রার্থী আতাউর
অনেকে নৌকায় পদ্মা পাড়ি দিয়ে পরিবার-পরিজন এবং বন্ধুদের সঙ্গে মাঝচরে আসছেন। কেউ ঘুরছেন, কেউ ছবি-ভিডিও ধারণ করছেন। সেগুলো পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ফলে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকে মাঝচরকে মিনি সুইজারল্যান্ড বলে উল্লেখ করছেন।
দর্শনার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, সবুজ মাঠ, নদী আর ছোট ছোট ঘর মিলে এখানে অসাধারণ এক দৃশ্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে সৌন্দর্যের আড়ালে চরবাসীর জীবন রয়েছে অনিশ্চিত। ইউপি সদস্য আবু জাফর ইবনে আলম প্রমিজ জানান, নদীর পানি ও ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানে বসবাস করছেন মানুষ।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম- এই দুইয়ের সম্পর্কেই পদ্মার মাঝচর এখন রাজশাহীর নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।
আরও পড়ুন: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য ব্রেইল কোরআন ও সাদাছড়ি বিতরণ করলেন ছাত্রদল নেতা বাসিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন