ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

বিশ্ববাজারে শুক্রবার তেলের দাম আরো কমলো, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনা চলছে


বিশ্ববাজারে শুক্রবার তেলের দাম আরো কমলো, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনা চলছে

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার সকালে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কিছু নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে, যা তেলের পরিবহন ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এসব পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যায়ন করছেন।

আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ১২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ১০৫ ডলার ৫১ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) এর দাম ৫৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলার ৪৩ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ২ কোটি ব্যারেলের বেশি ডিজেল এবং গত মার্চে জরুরি মজুত থেকে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া অবশিষ্ট তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহের চাপ কমাতে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগ তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

আরও পড়ুন: ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রিজার্ভ, বেড়ে ৩৬.৩০ বিলিয়ন ডলার

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ পরিবহনের ব্যয় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহনকারী কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই তথ্য এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত হয়েছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো জ্বালানি বাজারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালির কাছে নতুন হামলার ঘটনা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত তীব্র হওয়ায় আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। এ অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। ফলে বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপোড়েন, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে উদ্বেগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসেজে সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব কি না?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২০ এম


মেসেজে সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব কি না?

মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ অথবা ইমোর মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি কেউ সালাম প্রদান করে, তাহলে তার উত্তর দেওয়া কি ওয়াজিব? ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এই বিষয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে?

সালাম হলো ইসলামের একটি অত্যন্ত সুন্দর অভিবাদন। এর মাধ্যমে একজন মুসলমান অপরজনের শান্তি, কল্যাণ ও আল্লাহর রহমত কামনা করেন। সালামের মাধ্যমে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইসলামে সালাম প্রদান একটি সুন্নত, আর সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। যখন কেউ সালাম দেয়, তখন আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন যে, তার চেয়ে উত্তমভাবে অথবা অনুরূপভাবে উত্তর দেওয়া উচিত।

পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, ‘তোমাদেরকে যখন অভিবাদন করা হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম প্রত্যাভিবাদন করবে অথবা তার অনুরূপ করবে।’ (সুরা নিসা: ৮৬)

মেসেঞ্জারে সালাম দিলে কি উত্তর দিতে হবে?

এই প্রসঙ্গে ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুসারে, কেউ সরাসরি সালাম দিলে যেমন তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব, তেমনি মেসেজের মাধ্যমে সালাম দিলেও এর উত্তর দেওয়া ওয়াজিব।

তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআনের আয়াতে সালামের জন্য কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যম উল্লেখ করা হয়নি। তাই মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে কেউ সালাম দিলে তার জবাব দিতে হবে।

সালামের উত্তর কি লিখে দিতে হবে?

এ বিষয়ে ইসলামী ফিকহের আলোচনায় বলা হয়েছে, লিখিতভাবে সালাম পাওয়ার পর মুখে সালামের উত্তর দিলেও জবাব আদায় হয়ে যায়। তবে সালামদাতাকে শুনিয়ে দেওয়া, পাল্টা মেসেজ পাঠানো কিংবা ফোন করে জানানো আবশ্যক নয়।

তবে মেসেজিং অ্যাপে সালাম দিলে লিখিতভাবে উত্তর দেওয়াই উত্তম। কারণ, প্রেরক সালাম পাঠানোর পর উত্তর না পেলে তিনি কষ্ট পেতে পারেন বা মনে করতে পারেন, তার সালাম উপেক্ষা করা হয়েছে।

সালামের জবাব কীভাবে দেবেন?

যদি কেউ ‘আসসালামু আলাইকুম’ লিখে সালাম দেয়, তাহলে উত্তরে ‘ওয়ালাইকুমুস সালাম’ বলা যায়। আর সালামের সঙ্গে আল্লাহর রহমত ও বরকতের দোয়া থাকলে উত্তরে সেভাবেও বলা উত্তম।

সালামের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ হলো, সালামের চেয়ে উত্তমভাবে অথবা অনুরূপভাবে জবাব দেওয়া। তাই সালামকে অবহেলা না করে যথাযথভাবে উত্তর দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরস্পরের মধ্যে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৪)

অতএব, মেসেঞ্জার বা অন্য কোনো মেসেজিং অ্যাপে কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। মুখে উত্তর দিলেও তা আদায় হয়ে যায়। তবে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা বজায় রাখতে লিখিতভাবে সালামের উত্তর দেওয়াই উত্তম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫২ বছরে মা হচ্ছেন হিলারি, ৫০ পেরিয়ে গর্ভধারণ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


৫২ বছরে মা হচ্ছেন হিলারি, ৫০ পেরিয়ে গর্ভধারণ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিলারি সোয়াংক সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, তিনি ৫২ বছর বয়সে তার তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন। এই ঘোষণাটি দেরিতে মাতৃত্ব বা পঞ্চাশের পর গর্ভধারণের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। অস্কারজয়ী এই তারকা ইনস্টাগ্রামে একটি সৃজনশীল ভিডিওর মাধ্যমে এই সুসংবাদটি শেয়ার করেছেন।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, তার স্বামী ফিলিপ স্নাইডার এবং তাদের তিন বছরের যমজ সন্তান অন্ধকার ঘরে শরীরে গ্লো স্টিক লাগিয়ে নাচছেন। ভিডিওর মধ্যে হিলারির বেবি বাম্পে একটি ছোট্ট জ্বলজ্বলে শিশুর ছবি ফুটিয়ে তুলে তার গর্ভাবস্থার কথা জানানো হয়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘অনেকেই জানতে চেয়েছেন আমি এর পরে কোন প্রজেক্টে কাজ করছি, এটি ডিসেম্বরে মুক্তি পাচ্ছে।’

২০২৩ সালের এপ্রিলে, ৪৮ বছর বয়সে হিলারি যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। দেরিতে মাতৃত্ব লাভের বিষয়ে তিনি আগে থেকেই খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তার গুছিয়ে ওঠা ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত পরিপক্বতা তাকে আরও বেশি ধৈর্যশীল ও মনোযোগী মা হতে সাহায্য করেছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, পঞ্চাশের কোঠায় গর্ভধারণ কম বয়সের গর্ভাবস্থার তুলনায় ভিন্ন। এই বয়সে ঝুঁকিগুলো কী কী, চিকিৎসকের নিয়মিত নজরদারি কেন জরুরি এবং বিকাশমান শিশুর ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে—এসব বিষয় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পঁইত্রিশ বছরের পরের গর্ভধারণকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাডভান্সড ম্যাটারনাল এজ’ বা বয়সি মাতৃত্ব বলা হয়। একজন নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, উর্বরতার ইতিহাস এবং অন্যান্য বিষয়গুলোকে বিবেচনা করে চল্লিশ বা পঞ্চাশের কোঠায় এই ঝুঁকিগুলো আরও বেড়ে যেতে পারে। দেরিতে গর্ভধারণের সঙ্গে জড়িত প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্লামসিয়া: বয়সি গর্ভবতী নারীদের গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। কিছু ক্ষেত্রে এটি প্রি-এক্লামসিয়ায় রূপ নিতে পারে, যা একটি বিপজ্জনক অবস্থা এবং এর ফলে কিডনি ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি খিঁচুনি, স্ট্রোক কিংবা সময়ের আগেই প্রসবের কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং চিকিৎসকের কড়া নজরদারিতে থাকা অত্যন্ত জরুরি।

২. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: গর্ভাবস্থায় শরীর যখন রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিকভাবে সামলাতে পারে না, তখন এই জটিলতা দেখা দেয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা বদলে যাওয়ার কারণে। রক্তে শর্করা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শিশুর আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়ে যেতে পারে, যা প্রসবকে কঠিন করে তোলে এবং অন্যান্য জটিলতা তৈরি করে। যাদের এই সমস্যা হয়, তাদের পরবর্তী জীবনে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

৩. গর্ভধারণে জটিলতা: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে থাকায় প্রাকৃতিকভাবে উর্বরতাও হ্রাস পায়। পঞ্চাশের কোঠায় স্বাভাবিক উপায়ে গর্ভধারণ খুব একটা দেখা যায় না, বিশেষ করে মেনোপজের পর তো নয়ই। তবে কিছু নারী পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে চিকিৎসকদের সহায়তায় গর্ভধারণ করতে পারেন। কিন্তু উর্বরতার চিকিৎসা মানেই গর্ভাবস্থার সব ঝুঁকি দূর হয়ে যাওয়া নয়; তাই গর্ভধারণের আগে সঠিক কাউন্সেলিং ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

৪. গর্ভপাত ও মৃত সন্তান প্রসবের বাড়তি ঝুঁকি: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভ হারানোর আশঙ্কা বেড়ে যায়। এর অন্যতম একটি কারণ হলো ডিম্বাণুতে ক্রোমোজমের ত্রুটির ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া, যা ভ্রূণের প্রাথমিক বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। এ ছাড়া আগে থেকেই কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে তা গর্ভাবস্থাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই যারা দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাদের উর্বরতা, বিভিন্ন স্ক্রিনিং এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত।

৫. সিজারিয়ানের উচ্চ সম্ভাবনা: বয়সি নারীদের ক্ষেত্রে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের প্রয়োজনীয়তা বেশি দেখা দেয়—বিশেষ করে যদি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো জটিলতা থাকে। অনেক সময় প্রসবের প্রক্রিয়া ধীরগতির হয় কিংবা শিশুর ভুল অবস্থানের কারণে স্বাভাবিক প্রসব কঠিন হয়ে পড়ে। প্রসবের পদ্ধতি মূলত নির্ভর করে মায়ের স্বাস্থ্য, শিশুর শারীরিক অবস্থা এবং প্রসবের অগ্রগতির ওপর।

৬. অসময়ে প্রসব ও প্রসবোত্তর জটিলতা: বেশি বয়সে গর্ভধারণের সঙ্গে ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রসব হওয়ার ঝুঁকির যোগসূত্র রয়েছে। এ ছাড়া মায়ের অতিরিক্ত রক্তপাত, দেরিতে সুস্থ হয়ে ওঠা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতার মতো প্রসবোত্তর জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ে।

৭. নিয়মিত চিকিৎসাসেবার গুরুত্ব: যারা দেরিতে মা হন, তাদের গর্ভাবস্থার পুরো সময়জুড়েই খুব কাছ থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। চিকিৎসকরা নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, রক্তচাপ ও গ্লুকোজ পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান এবং ক্রোমোজোমজনিত ত্রুটির জন্য প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিংয়ের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

বয়সি মাতৃত্বের কারণে ডাউন সিনড্রোমের মতো ক্রোমোজোমজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণু তৈরির প্রক্রিয়ায় ত্রুটি হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে। এ ছাড়াও গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, সময়ের আগেই জন্ম এবং কম ওজনের শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়। মায়ের যদি গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দেখা দেয়, তবে শিশু অনুমানের চেয়েও বড় হয়ে জন্ম নিতে পারে, যা প্রসবের সময় জটিলতা বাড়িয়ে দেয়। অপরিপক্ব বা প্রি-ম্যাচিওর শিশুদের ফুসফুস, মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ার কারণে বিশেষ ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, এই প্রতিকূলতাগুলোই শেষ কথা নয়; বয়সি মায়েদের ঘরে জন্ম নেওয়া বহু শিশুই সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে। নিয়মিত চেকআপ, সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করলে চিকিৎসকরা যেকোনো সম্ভাব্য সমস্যা আগে থেকেই চিহ্নিত করে তা সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু, ৭৪১টি মণ্ডপে পূজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২২ এম


যশোরে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু, ৭৪১টি মণ্ডপে পূজা

শরৎ শুভ্রতা এবং শিউলি ফুলের সুবাসের মধ্যে মায়াময়ী মায়ের আগমন ঘটেছে। আজ শুক্রবার মহাষষ্ঠী তিথি থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে, যা দেবী দুর্গার অসুরবিনাশিনী রূপে মর্ত্যে পদার্পণের মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে। দেশের প্রতিটি মন্দির ও মণ্ডপ ‘রূপং দেহি, যশো দেহি, জয়ং দেহি, দ্বিষো জহি’ মন্ত্রে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

পঞ্জিকামতে, দেবীপক্ষের পঞ্চমী তিথি অতিক্রম করে আজ মহাষষ্ঠী শুরু হয়েছে। সূর্যোদয়ের পর কল্পারম্ভ ও বোধনের মাধ্যমে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে, যেখানে বোধনের অর্থ হলো জাগরণ বা চৈতন্য প্রাপ্তি।

আজ সন্ধ্যায় দেবীর বোধন ও ঘট স্থাপনের জন্য ধূপের সুবাস, পঞ্চপ্রদীপের আলো, ঢাক-কাঁসরের বাদ্য এবং শঙ্খ ও উলুধ্বনির যুগলবন্দি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রোববার সকালে ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভে দেবীর আমন্ত্রণ, অধিবাস ও মূল পূজা শুরু হবে।

এদিকে, পূজার আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি কিছুটা উদ্বেগও দেখা দিয়েছে ভক্তদের মধ্যে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূজার দিনগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সকল বাধা পেরিয়ে নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্যাপনের জন্য প্রার্থনা করছেন সর্বস্তরের মানুষ।

যশোর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবারের দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে যশোর শহরের লালদীঘির পূর্বপাড়স্থ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন ও সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তারা জানান, এ বছর জেলার ৮টি উপজেলায় গত বছরের তুলনায় ৩৩টি বেড়ে মোট ৭৪১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭০টি, অভয়নগরে ১৩২টি, মণিরামপুরে ১০৩টি, কেশবপুরে ১০১টি, বাঘারপাড়ায় ৯২টি, ঝিকরগাছায় ৫৯টি, চৌগাছায় ৫৩টি এবং শার্শায় ৩১টি মণ্ডপ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ৭৩৩টি, ২০২৪ সালে ৬৫২টি এবং ২০২৫ সালে ৭০৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টায় ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভে দেবীর বোধন এবং বিকেল ৫টায় পূজা শুরু হবে। ১৭ অক্টোবর সকাল ৫টায় মহাষষ্ঠীর বিহিত পূজা এবং সায়ংকালে আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৫টায় মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ অক্টোবর সকাল ৫টায় মহাঅষ্টমী পূজা, সকাল সাড়ে ৯টায় কুমারী পূজা এবং সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ৪৬ মিনিটের মধ্যে সন্ধিপূজা সম্পন্ন হবে। এছাড়া ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর সকাল ৬টায় দশমী পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গা সমস্ত অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক। এ বছর দেবীর আগমন ঘটছে ঘোটকে (ঘোড়ায়), যার ফল ‘ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে’ অর্থাৎ অগোছালো ও অশুভ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। তবে দেবী কৈলাসে প্রস্থান করবেন নৌকায়, যার ফল হিসেবে ‘নৌকায়াং শস্যবৃদ্ধি জলবৃদ্ধিশ্চ’ অর্থাৎ সমৃদ্ধি, সুবৃষ্টি ও শস্যপূর্ণ পৃথিবীর শুভবার্তা পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ মহারাজ জানান, গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দেবী দুর্গার সঙ্গে অসুর যেমন সর্বদাই যুদ্ধে লিপ্ত, তেমনই মানবের দৈবী সত্তা ও মনুষ্যত্ববোধের সঙ্গে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য—এই ছয় আসুরিক রিপুর লড়াই চলছে। মহাশক্তি জগন্মাতার শরণাগত হলে এসব রিপু থেকে মুক্তিলাভ করে মানুষের ভেতর দৈবী সত্তার জাগরণ ঘটে।

তিনি সকলকে শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাত্রাবাড়ীতে দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় যুবক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২২ এম


যাত্রাবাড়ীতে দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় যুবক নিহত

ঢাকার যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার সংলগ্ন এলাকায় একটি দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয়ের এক যুবক মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ঘটে এই দুর্ঘটনা।

গুরুতর আহত অবস্থায় যুবকটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যুবকটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা কামাল হোসেন জানান, রাত ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের ঢালের পকেট গেটের সামনে একটি দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় একজন আহত হন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%