সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪০ পি.এম
ফিফা আসিয়ান কাপ বাংলাদেশের জন্য এক দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে। তিনটি ম্যাচে ১৩ গোল হজম করেছেন হামজা-জামালরা। তাই আগামী ৫ নভেম্বর ঘরের মাঠে শুরু হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে রক্ষণভাগের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আজ অনুশীলনের আগে ডিফেন্ডার তপু বর্মণ জানিয়েছেন, তারা দলগতভাবে সাফে রক্ষণভাগকে সামলাতে চান। তার বিশ্বাস, প্রতিপক্ষ দল আর গোলবন্যা বইয়ে দিতে পারবে না। রক্ষণভাগ সামলে ঘরের মাঠে সাফ শিরোপা জয়ের স্বপ্নের কথাও বলেছেন তপু।
আসিয়ান কাপে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে তিন গোল খেয়েছি আর শেষ ম্যাচে খেয়েছি ৯ গোল। এটি খুবই হতাশার। শেষ কবে আমরা ৯ গোল হজম করেছি জানি না। তবে গোল হজমের ক্ষেত্রে শুধু গোলকিপার বা ডিফেন্ডারদের দোষ দেখলে হবে না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলগতভাবে রক্ষণ সামলানো। তবে এটা বলতে পারি, সাফে আমরা এত গোল হজম করব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাফ আমাদের জন্য অনেক বিশেষ। আট বছর পর আবার নিজেদের মাঠে খেলছি। আমাদের লড়াই করতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, অর্থাৎ ২৩ বছর পর শিরোপা জিততে হবে। সে জন্য আমাদের সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’
সাফের শুরুতে দলের সবচেয়ে বড় তারকা দেওয়ান হামজা চৌধুরীকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তপু বলেন, ‘হামজা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। প্রথম ম্যাচে সে না থাকলে অবশ্যই তাকে মিস করব। তবে আমরা যদি দলগতভাবে খেলতে পারি, তাহলে তার অনুপস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। প্রথম ম্যাচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো শুরু করতে পারলে পরের পথ সহজ হবে।’
এদিকে বাংলাদেশের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দলে জায়গা পেয়েছেন প্রবাসী ফুটবলার মাহি খান। এর আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে সাফে খেলেছেন এই ফরোয়ার্ড। এবার বাংলাদেশ সিনিয়র দলে জায়গা পেলেন মাহি। এবার হামজা, শমিতদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন এই তরুণ। গতকাল মাহি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাফ একাদশে সুযোগ পেয়ে গোল করে দলকে শিরোপা জেতাতে চান তিনি। মাহি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছি। এতে আমি গর্ববোধ করছি এবং আমার পরিবারের সবাই ভীষণ খুশি। এখন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করার সময় এবং ইনশাল্লাহ আমরা সাফ শিরোপাও জিতব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী। এখানে ক্যাম্পে আসার আগেও ব্যক্তিগতভাবে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। তাই ইনশাল্লাহ আমি গোল করতে পারব। কোচ আমার কাছে কী প্রত্যাশা করছেন, তা আমি স্পষ্ট জানি। মাঠে কোচের পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব এবং আশা করি গোল পাব।’
৫ থেকে ১৭ নভেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে, যার মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এই ঘটনার ফলে হানিফ ও নুর মোহাম্মদ নামের দুই শিশু আহত হয়েছে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে হ্লাথুই পাড়া এবং আব্দুল্লাহ ঝিরি পাড়ায় পৃথকভাবে বজ্রপাতের এই দুর্ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন—হ্লাথুই পাড়ার বাসিন্দা খ্যইচিং মার্মার ছেলে মংপ্রু মার্মা (৪০) এবং অন্যজন বড়ছন খোলা পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ সজিব (১১)।
স্থানীয়রা আহত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে নিয়ে যায়।
কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জামিল আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "বজ্রপাতে হতাহতের এ ঘটনা সঠিক।"
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন যে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক আদর্শকে উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত ভারতে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসা সম্ভব নয়। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি তাঁর একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
খাড়গের এই মন্তব্য ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আরএসএস এবং ভারতের শাসনব্যবস্থায় তাদের আদর্শিক প্রভাব নিয়ে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। কংগ্রেস দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আরএসএস এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলো এমন একটি ভারতের রূপরেখা প্রচার করছে, যা দেশের বহুত্ববাদী এবং ধর্মনিরপেক্ষ চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে।
বর্তমানে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শগত চালিকাশক্তি হিসেবে আরএসএস কাজ করছে, যা মূলত হিন্দু সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে তাদের ভারতীয় জাতীয়তাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। সংগঠনটি এবং তার সমর্থকরা ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘু অধিকার সম্পর্কিত সমস্ত অভিযোগ নাকচ করে দাবি করে যে, তাদের জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ভারতের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল।
খাড়গের এই মন্তব্য ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মীয় বহুত্ববাদ এবং রাজনীতিতে ধর্মের অবস্থান সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে পুনরায় ভারতের মূল রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে মনে করে যে, দেশের সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিককে সমান অধিকার দেওয়া উচিত এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ সামাজিক সম্প্রীতির জন্য একটি বড় হুমকি।
ভারতে সংখ্যালঘু অধিকার, ধর্মীয় পরিচয় এবং জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝে আরএসএস-এর আদর্শগত প্রভাব নিয়ে এই দ্বন্দ্ব বহুদিন ধরেই ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কংগ্রেসের জন্য দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ধরে রাখা এবং বহুত্ববাদী ঐতিহ্য রক্ষা করাই প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। অন্যদিকে, বিজেপি এবং আরএসএস বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাকে প্রতিহত করে নিজেদের জাতীয়তাবাদী ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবস্থানকেই সমর্থন জানিয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বাঘের আক্রমণের ফলে নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করার লক্ষ্যে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল থেকে ঢাকা থেকে আগত ছয় সদস্যের বন বিভাগের একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে। তবে, এখনো বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ড্রোন ব্যবহার করে সেটিকে শনাক্ত করার জন্য নজরদারি চালাচ্ছে।
এর আগে, রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে স্থানীয়রা বাঘটিকে দেখতে পান, কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেটি আর কারো নজরে আসেনি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে বাঘের আতঙ্ক এখনও কাটেনি। বাঘের আক্রমণে নারীসহ তিনজন আহত হওয়ার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে রাত-দিন পাহারা দিচ্ছেন। বাঘটিকে শনাক্ত করতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে, কিন্তু উদ্ধার এখনও সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় আমঝোল এলাকায় বাঘের আক্রমণে শরিফা বেগম, আফসার হোসেন ও নজরুল ইসলাম আহত হন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার বিকেলে ধানক্ষেতে ছাগল খুঁজতে গিয়ে শরিফা বেগম বাঘের আক্রমণের শিকার হন। এরপর তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুজন বাঘের হামলার শিকার হন। ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকার মানুষ বাঘ আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। বাঘটি রাতভর দেখা গেলেও সোমবার সকাল থেকে সেটি মিলছে না।
রোববার মধ্যরাতে ড্রোন ক্যামেরায় বাঘটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হলেও শেষ রাতের দিকে সেটি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে চলে যায়। সোমবারও ড্রোন উড়িয়ে বাঘটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে বিজিবি।
এদিকে, বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে বন বিভাগের ৬ জনের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
রংপুরের সামাজিক বন বিভাগের উপ-বন সংরক্ষক ও বিভাগীয় বন-কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, "আমাদের মনে হচ্ছে এখানে আর বাঘটি নেই। রোববার রাতেই সে তার নিজ গন্তব্যে চলে গেছে।"
বাঘটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সীমান্ত এলাকার মানুষের আতঙ্ক কাটছে না। স্থানীয়রা এখন বন বিভাগের বিশেষ দলের অভিযান এবং বিজিবির নজরদারির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নবনির্মিত লাইব্রেরি, অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও আর্ট গ্যালারি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে, অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে এগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।
আজ সোমবার, রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমি সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় নবনির্মিত স্থাপনাগুলোর কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, "মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাস। এ গৌরব ধারণ ও লালন করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব।"
তিনি আরও বলেন, "রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে যাঁরা শায়িত আছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ যেন যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ স্মরণ করে, সে লক্ষ্যেই স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।" এখানকার স্থাপনাগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতেই তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে স্থাপনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্মিত লাইব্রেরিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণার সুযোগ থাকবে। আহমেদ আজম খান বলেন, আর্ট গ্যালারিতে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা, যুদ্ধ ও বীরত্বগাথা তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবে।
মন্ত্রী বলেন, "তারা নিজেরা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরব। এ গৌরব ধারণ ও লালন করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে রেখে যেতে চান তারা।" মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও গৌরবগাথা তুলে ধরা।
পরিদর্শন শেষে, মন্ত্রী আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানান। একই সঙ্গে নবনির্মিত স্থাপনাগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে এসব অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় বধ্যভূমিতে লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল, আর্ট গ্যালারি, প্রশাসনিক ও অফিস কক্ষ, জেনারেটর রুম, ১০টি দোকান এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ১০০ কেভিএ ট্রান্সফরমার, ৪০ কেভিএ জেনারেটর, সিসিটিভি ক্যামেরা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ইন্টারকম, স্টেজ লাইটিং, সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। নবনির্মিত লাইব্রেরি, অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও অফিস কক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও সরবরাহ করা হয়েছে।
তবে, এসব স্থাপনার কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় মন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগে স্থাপনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা এবং ভবিষ্যতে এগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. শাহজাহান মিয়া, যুগ্মসচিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. জেহাদ উদ্দিন, যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ সামছুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ