০১:৩৮ পি.এম
ভোলা সদর উপজেলায় দাফনের ১৮ দিন পর মৃত মরিয়ম (২০) নামে এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন স্বজনরা, আরও ঠিক জানানো হয়নি তার স্থানে কি দেখেছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে, উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
মৃত মরিয়ম ওই বাড়ির প্রবাসী দিনমজুর খলিল লাহারি-তাসনুর বেগম দম্পতির কন্যা।
আরও পড়ুন: পলো বাওয়া উৎসব আছে, কিন্তু নেই আগের মতো মাছ
জানা গেছে, মরিয়ম বাবার সংসারের অভাব দূর করতে গত কয়েক বছর আগে চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। গত ২৬ মে ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তার পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য বাড়িতে রেখে দেন। চিকিৎসার সময় ২৮ জুন ভোরে, ঈদের দিন, তিনি নিজেদের বসতঘরে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পুকুর পাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে, দাফনের কয়েকদিন পরে কবরটি থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় তরুণীর কবরটি। প্রতিদিন উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
স্থানীয় পাঞ্জেখানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম গণমাধ্যমকে জানান, আমি মরিয়মের জানাজা নামাজ পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিলেন, মরিয়ম তার ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানান যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় অন্যান্য আলেমদের সঙ্গে আলোচনা করলে তারা জানান, এটি অবাস্তব।
অন্যদিকে, কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার সম্পর্কে জানালে তারা কবরটির উপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার ফতোয়া দিলে স্বজনরা মাটি দেন।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে প্রাণ গেল খামারির
আরও জানা গেছে, সর্বশেষ মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনরা প্রায় ৩০০ মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খুঁড়ে দেখেন, কবরের ভেতরে মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে। পরে পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, যেহেতু মরিয়ম তার সংসারের উপার্জনক্ষমদের মধ্যে একজন ছিলেন, তাই তার স্বজনরা মরিয়মকে নিয়ে মৃত্যুর পর অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার ফলে ঘুমের মধ্যে এরকম স্বপ্ন দেখতে পারেন।
পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন মূলত জানার জন্য তিনি বেঁচে আছেন কিনা। আমিও তাদেরকে সহযোগিতা করেছি কবর খুঁড়তে। কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেন তিনি মৃত অবস্থায় রয়েছেন, কবর খোঁড়ার পর কবরের ভেতর থেকে কোন সুগন্ধির ঘ্রাণ আমি পাইনি।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিলেন যে তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন। আমি তাদেরকে বলেছি- যদি আপনারা কবর খুঁড়ে দেখতে চান, তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। পরে কবর খোঁড়ার বিষয়টি আমি জানি না।
আরও পড়ুন: ঘুষের ভিডিও ভাইরাল, বরিশালের ভূমি অফিসের ২ কর্মচারী প্রত্যাহার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন