০৯:৪৫ এম
ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকার কঠোর অভিযান শুরু করেছে। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানার অভিযোগে কলকাতায় ইতোমধ্যেই ১৩টি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, আরও ১৬টি হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতার ৫০টি হোটেল এবং রাজ্যের অন্যান্য বিভিন্ন জেলার ২৯টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া বা নোটিশ পাওয়া হোটেলগুলোর বেশিরভাগই মধ্য কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট এবং এসএন ব্যানার্জি রোডের এলাকায় অবস্থিত। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: সৌদিতে কীভাবে কার্যকর হামলা চালাচ্ছে হুথিরা
রাজ্য দমকল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘মধ্য কলকাতার অন্তত ১৬টি হোটেলকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কারণে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতার ৫০টির বেশি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।’
বুধবার ভোরে মধ্য কলকাতার শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ৯ জন নিহত হওয়ার পরে এই অভিযান শুরু হয়। ওই ঘটনায়, হোটেলটির লিজধারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মধ্য কলকাতার ওই হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রও কয়েকদিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এই ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত বাংলাদেশিদের ছয়জনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে এবং আরেকজনের মরদেহ শুক্রবার কলকাতাতেই দাহ করা হয়েছে।
এর আগে, গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মন্দিরশহর তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুনের ঘটনায় দুই শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছিল। ওই ঘটনার পর তারাপীঠের ১৫টি হোটেল ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: দাঁড়িপাল্লার বিজয়ে তৎপর জামায়াতসহ ১১ দল
রাজ্যের দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে’। তিনি আরও জানান, হোটেলগুলোতে পরিদর্শন চলবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজ্যের নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন, ‘১০০টি হোটেল বন্ধ করার পরও আমরা থামব না। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল চলতে দেওয়া হবে না। তৃণমূল কংগ্রেসকে (টিএমসি) এর দায় নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, হোটেলগুলোর কক্ষ ছিল খুবই ছোট। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের কারণে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ অবস্থায়, এসব হোটেল কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স ও ফায়ার লাইসেন্স পেল—সে বিষয়ে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘নিয়ম না মানলে হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার অন্তত ২৯টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানার কারণে কেন সেগুলো বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দরে ড্রোন হামলা, দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত
দমকল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কিছু হোটেল কোনও ধরনের ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল। আবার কিছু হোটেলের লাইসেন্স চার থেকে পাঁচ বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি।
এছাড়া, অনেক হোটেলে বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ ছিল না, জরুরি গেট বন্ধ রাখা হতো, অনুমোদনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হতো, কক্ষে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না এবং অনুমোদন ছাড়াই ভবনের নকশা পরিবর্তন করা হয়েছিল। এ ধরনের আরও বেশ কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন