বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:৩৮ এম
কিয়েভ, ইউক্রেনের রাজধানী, এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুত্ব সহকারে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রাতভর এই হামলার ঘটনায় আরও ২৩ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো, যা ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে খবরটি প্রচার করেছে, তারা জানাচ্ছে যে হামলার পরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা আছেন কিনা তা জানার জন্য জরুরি উদ্ধারকারী দল নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই সেই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অলৌকিকভাবে একটি বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিওালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, আবাসিক ভবন, গুদামঘর এবং শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ছিল এই বিমান হামলার প্রধান নিশানা। হামলায় একটি শিশু হাসপাতাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া কিয়েভের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সলোমিয়ানস্কি জেলার বড় শিল্পকেন্দ্রও রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত থেকে রক্ষা পায়নি। কিয়েভ অঞ্চলের আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তাকাচেনকো জানিয়েছেন, ব্রোভারি জেলায় পরিচালিত একটি হামলায় এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পরই পুরো অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উচ্চ সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী।
এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলায় কিয়েভ অঞ্চলের হাজার হাজার বাড়িঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মূল শক্তি সরবরাহ কেন্দ্র বা এনার্জি গ্রিড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে প্রকৌশলীদের জরুরি দল অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, যাতে মস্কোর উপর মানসিক এবং সামরিক চাপ সৃষ্টি করে যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনায় বসতে প্রলুব্ধ করা যায়। সম্প্রতি রাশিয়ার ভেতরে দুটি পৃথক হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফে কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ম্যাগাজিনসহ বিপুল পরিমাণ তাজা গোলা। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, মিয়ানমার থেকে একটি অসাধু চক্র নাফ নদ এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে আগমন করবে, যা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সম্পূর্ণ পরিকল্পনার একটি অংশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বুধবার (১৯ আগস্ট) মধ্যরাত ১টা থেকে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত বিসিজি স্টেশন টেকনাফ কর্তৃক টেকনাফ থানাধীন নাফ নদে একটি বিশেষ অভিযান চলানো হয়। অভিযান চলাকালীন সন্দেহজনক একটি কাঠের নৌকাকে থামার সংকেত দেওয়া হলে, সে সংকেত অমান্য করে নৌকাটি দ্রুত নাইট্যংপাড়া প্যারাবনের গভীরে প্রবেশ করে এবং চক্রের সদস্যরা নৌকাটি রেখে পালিয়ে যায়। পরে ওই নৌকায় অভিযান চালিয়ে জালের মধ্যে অভিনব কায়দায় লুকায়িত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ১টি বিদেশি এসভিডি ড্রাগুনভ রাইফেল (ম্যাগাজিনসহ), ১টি ৯ মিমি বিদেশি পিস্তল (ম্যাগাজিনসহ), ২২৯ রাউন্ড রাইফেলের তাজা গোলা, ২ রাউন্ড তাজা ও ১ রাউন্ড ফাঁকা পিস্তলের গোলা এবং ২টি এমএ-১ রাইফেলের ম্যাগাজিন। চক্রের সদস্যদের আটকের উদ্দেশ্যে গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষেত্রে, গোলাবারুদ এবং জব্দকৃত নৌকার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর তৎপরতা প্রতিরোধে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৫৫টি মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ঢাকার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত এবং অস্ত্র, মাদকদ্রব্য উদ্ধার সহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
যার মধ্যে রমনা বিভাগের আওতায় ২৫ জন, লালবাগ বিভাগের আওতায় ৪৫ জন, ওয়ারী বিভাগের আওতায় ৬৫ জন, মতিঝিল বিভাগের আওতায় ৪৭ জন, তেজগাঁও বিভাগের আওতায় ৪১ জন, মিরপুর বিভাগের আওতায় ১২০ জন, গুলশান বিভাগের আওতায় ৯৩ জন, উত্তরা বিভাগের আওতায় ৬৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগের আওতায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযানে দুটি সুইচ গিয়ার, ২৭ কেজি ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ২৩১ পিস ইয়াবা, ৫ গ্রাম হেরোইন, একটি এনা বাস, একটি ট্রাক, ১৭টি মোটরসাইকেল, ৮টি মোবাইল ফোন, ৫৯৭.৭৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ২ লাখ ৬৭ হাজার চোরাই টাকা, ৪ ভরি ১৫ আনা ৫ রতি চোরাই স্বর্ণালংকার এবং দুজন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত রয়েছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। তিনি টনি স্টার্ক ওরফে ‘আয়রন ম্যান’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এবং মার্ভেল ফ্র্যাঞ্চাইজির শক্তিশালী ভিত তৈরি করেছেন।
আয়রন ম্যান চরিত্রটির বিদায়ের সাত বছর পরে তিনি আবারও মার্ভেল ইউনিভার্সে ফিরে আসছেন। তবে এবার তিনি কোন নায়ক হিসেবে নয়, বরং মার্ভেলের অন্যতম ভয়ংকর খলনায়ক ‘ডক্টর ডুম’ চরিত্রে দেখা যাবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ডিজনি ফ্যান ইভেন্টে তিনি নিজের এই নতুন চরিত্র নিয়ে কথা বলেছেন। রবার্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমানে আয়রন ম্যানের চেয়ে ‘ডক্টর ডুম’ চরিত্রটিই তার অধিক পছন্দের।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সহ-অভিনেতাদের এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার এবং একটি ভিন্নতর অভিজ্ঞতা নেবার সুযোগ পাচ্ছেন।
অ্যান্টনি ও জো রুশো পরিচালিত আগামী ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-তে ডক্টর ডুমের বিরুদ্ধে মার্ভেল ইউনিভার্সের বহু সুপারহিরোকে লড়াই করতে দেখা যাবে। এই গল্পের বিপদ নিছক একটি নির্দিষ্ট পৃথিবীতে সীমাবদ্ধ থাকবেনা, বরং ছড়িয়ে পড়বে পুরো মাল্টিভার্সে। ছবিতে রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের পাশাপাশি অভিনয় করতে যাচ্ছেন ক্রিস হেমসওয়ার্থ, ক্রিস ইভান্স, পেড্রো পাস্কাল, পল রাড, ফ্লোরেন্স পিউ, ভ্যানেসা কার্বি, সেবাস্টিয়ান স্ট্যান, টম হিডলস্টন, চ্যানিং ট্যাটাম এবং প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের মতো খ্যাতনামা তারকারা।
‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ আগামী ১৮ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। একই দিনে, ডেনিস ভিলনভ পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত ‘ডুন ৩’ ছবিটিও মুক্তি পাবে, ফলে বছরের শেষে বক্স অফিসে দুই মেগা ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে একটি বড় ধরনের লড়াই দেখা যাবে দর্শকদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই; বরং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণ প্রস্তাবের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তিনি জানান, ‘আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে গুঞ্জন থাকলেও সুনির্দিষ্ট জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে বাংলাদেশ কতৃক এই মুহূর্তে কোনো তাড়াহুড়ো না করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে ঢাকা ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করবে।’
১৭ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে দেওয়া একান্ত বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নতুন আন্তর্জাতিক জোটের সমীকরণ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক, মালয়েশিয়ায় বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালু, এবং পররাষ্ট্রনীতির মূল অগ্রাধিকারগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত খবরগুলোকে জল্পনা-কল্পনা আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরগুলো ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর। দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের শীর্ষ পর্যায়ের সফরের বিষয়টি ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের মাইন্ডসেট (মানসিকতা) বা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে। দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতাকে প্রতিবেশী দেশকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকারের সাথে ভারত কী ধরনের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করতে চায়Ñ তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করে শীর্ষ সফর করার কোনো যুক্তি নেই। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে উভয় দেশের ঐকমত্য এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণ প্রস্তাবের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়া ছাড়া আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ।’
বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা প্রচারমাধ্যমে স্পেস দেওয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর অপরাধী হিসেবে ভারতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে সেখানে রাজনৈতিক কিংবা মিডিয়াতে কথা বলার সুযোগ দেওয়া ভারতের গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার পরিপন্থী।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, ‘ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো অস্থিতিশীল তৎপরতা চালানো কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, সন্ত্রাসী বা খুনিকে স্পেস দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী দিল্লি এটিকে কোনোভাবেই যৌক্তিক প্রমাণ করতে পারে না। সেইসাথে তা কোনো অবস্থাতেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে জাস্টিফাই করা যায় না। এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার ইতোমধ্যে নয়াদিল্লির কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। এবং ভবিষ্যতে যেকোনো বাংলাদেশ বিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।’
বর্তমান সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে বর্তমান সরকার। বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা ফ্রেমওয়ার্কে যুক্ত হওয়া নিয়ে বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনা করেই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে গ্রীষ্মকাল অতিবাহিত হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রিয়াদ সফর চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সাথে স্বাভাবিক কাজের অংশ হিসেবে ওয়ার্কিং বাইল্যাটারাল রিলেশনশিপ, বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি জোরদার করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি-বেসরকারি খাতের সাথে সয়াবিন আমদানি ও বোয়িং বিমান ক্রয়ের আলোচনা এগোনোর পাশাপাশি ট্রেড ভলিউম বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ইইউ’র সাথে ট্রেড অ্যান্ড পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের সুনির্দিষ্ট আলোচনা শুরু হয়েছে।
চীনের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্ক এখন এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক চাপ এড়িয়ে চীনের সাথে ‘টু প্লাস টু’ মেকানিজম এবং কম্প্রিহেন্সিভ পার্টনারশিপের আওতায় বাংলাদেশকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চীনের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের বিষয়টি জোরালো আলোচনা চলছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সাথে ডায়াসপোরা কমিউনিটি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে বিশেষ কূটনৈতিক জোর দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতি গভীর আস্থার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্সি নির্বাচনে আফ্রিকার ৫৪টি দেশের মধ্যে ৫২টি দেশই বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছে। আফ্রিকান ব্লকের সাথে এই ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে খুব শিগগিরই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আফ্রিকা সফর করবেন। সেখানে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এবং বাংলাদেশি পণ্যের নতুন রফতানি বাজার গড়ে তুলতে একাধিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হবে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সফল দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলে বরফ গলতে শুরু করেছে। খুব শিগগিরই জটিলতা কাটিয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী গমনের পথ উন্মোচিত হবে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, লিডারশিপ কোয়ালিটি এবং সরকারের প্রগ্রেসিভ গণতান্ত্রিক ইমেজেরই বৈশ্বিক স্বীকৃতি। উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জাতিসংঘের এই প্রেসিডেন্সি প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে নীতিভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির আদর্শ তুলে ধরা হবে। একইসাথে মিয়ানমার ও চীনসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর সুনির্দিষ্ট আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা জোরদার করা হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকারের গত ১৮০ দিনে একটি সুদৃঢ় ফরেন পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের জয় এবং সরকারের গৃহীত কূটনৈতিক নীতিগুলো প্রমাণ করে- একটি গণতান্ত্রিক সরকার কতটা দ্রুত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের হারানো ভাবমূর্তি ও সার্বভৌম মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে।
এদিকে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের আধুনিক ডিপ্লোমেসির মূল শক্তি তার সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক পটভূমি। সিলেটের ওসমানীনগরের সন্তান হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠেন।
তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে স্নাতকের পর লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই), কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও লিডস ল’ স্কুল থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএমপি কোর্স সম্পন্ন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি বরিস জনসন, লিজ ট্রাস ও ঋষি সুনাকের মতো যুক্তরাজ্যের তিন তিনজন প্রধানমন্ত্রীর সাথে কাজ করেছেন। এছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ