ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি বহুল আলোচিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত : চরমোনাই পীর


জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি বহুল আলোচিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি বহুল আলোচিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত বলে মন্তব্য করেছেন।

বুধবার দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ হলরু‌মে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার জেলা সম্মেলন এই মন্তব্যটি তিনি করেন।

মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, জামায়াত যেদিন তাদের লোগো থেকে আকিমুদ্দিন উঠিয়ে ফেলেছে, তখনই তারা একপর্যায়ে পরাজিত হয়ে গেছে। কারণ জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি বহুল আলোচিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত।

আরও পড়ুন: রাজশাহীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিনুর ৬ দফা দাবি

তাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলের সাথে তাল মিলিয়ে চলা, এটা আমাদের সামনে পরিষ্কার।

এছাড়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কুমিল্লা জেলা উত্তর সভাপতি ক্বারী মো. সাইফুল ইসলাম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন ও কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নুরুল করীম আকরাম।

সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উত্তর জেলার উপদেষ্টা মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, মুফতি এহতেশামুল হক কাসেমী (উজানী), মাও. রাশেদুল ইসলাম রহমতপুরী ও আব্দুল করীমসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

সম্মেলনে ক্বারী সাইফুল ইসলাম সরকার‌কে সভাপ‌তি এবং মুফতি রা‌শেদুল ইসলাম‌কে সে‌ক্রেটারি ক‌রে কু‌মিল্লা উত্তর জেলা ক‌মি‌টি ঘোষণা ক‌রেন আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম।

আরও পড়ুন: রাজনীতিবিদদের জনকল্যাণমুখী রাজনীতি করার আহ্বান জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কি শুরু হচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কি শুরু হচ্ছে?

যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর গত দুই সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার এই ঘটনায় মধ্যপ্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপাল্টি হামলাগুলো ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই চলছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। এই পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একটি বড় ধরনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ঘনিয়ে আসছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা।

এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি। মে মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় ইরান দাবি করছে, তাদের সীমানার মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রণালির চলাচল নীতি তারা নিজেই নির্ধারণ করবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন দাবি জানাচ্ছে, ইরানকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য এই প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

নতুন করে এই সংঘাতের সূচনা হয় গত ৭ জুলাই। ওয়াশিংটন অভিযোগ তোলে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানে শক্তিশালী হামলা শুরু করে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানায়, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় তারা একটি ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে। এক্ষেত্রে তেহরান পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, তাদের নির্ধারিত রুট দিয়েই জাহাজ চলাচল করতে হবে এবং ওমান উপকূল ধরে মার্কিন সমর্থিত রুটটি পুরোপুরি অবৈধ।

মার্কিন এই হামলার পর, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে সমঝোতা স্মারকের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে। এই হামলাকে কেন্দ্র করে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী নির্ধারক জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসিসি) ও সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা ৮৫টি কী ইউএস মিলিটারি ফ্যাসিলিটিজ বা প্রধান মার্কিন সামরিক স্থাপনায় মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটিকে শেষ বলে ঘোষণা করেন এবং ইরানি নেতৃত্বকে নিকৃষ্ট বলে গালি দেন। ১৩ জুলাই মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্প জানান, তিনি সীমাবদ্ধ আত্মরক্ষামূলক হামলা আবার শুরু করেছেন। পরবর্তীতে ট্রাম্প তেহরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, মার্কিন দাবি না মানলে পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ব্রিজের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা সম্প্রসারিত করা হবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং জাহাজ চলাচলের জন্য ফি আদায় করবে। নিজেকে তেহরানের “এক নম্বর টার্গেট” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হুমকি দেন, ইরান যদি তাকে নিশানা করে তবে দেশটিকে “সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস” করে দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে তেহরান একে মিথ্যা অজুহাতে সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ গালিবাফ বলেছেন, সমঝোতা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার জন্য ওয়াশিংটনকে মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, একতরফা চুক্তির যুগ শেষ।

আইআরজিসি তাদের এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি আমাদের ভূখণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অঞ্চলে তাদের অবৈধ সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে, তবেই এই পথ উন্মুক্ত থাকবে। মার্কিন হামলার প্রতিবাদে তেহরান প্রণালীটি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর এই পথে ট্যাঙ্কার চলাচল গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন হামলার জবাবে তেহরানের কাছে যুদ্ধ তীব্র করার এমন পরিকল্পনা রয়েছে যা পুরো চমকে ভরা। তিনি আরও সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের অংশ হিসেবে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার ধারা অব্যাহত রাখে, তবে পুরো অঞ্চলকেই এর মূল্য দিতে হবে।

এই যুদ্ধে উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে চার মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে মার্কিন বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, জর্ডানে ইরানি হামলায় বহু মার্কিন সেনা আহত হওয়া এবং হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পেন্টাগন গোপন করছে। অন্যদিকে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যানুযায়ী, ইরানে মার্কিন হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

সংঘাতের পরিণামে জ্বালানি তেলের বাজার মারাত্মকভাবে উদ্বেলিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দাম এক ধাক্কায় ২০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।

এই চরম পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে একে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। পাকিস্তান দুই পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বিশ্বশান্তির স্বার্থে মধ্যস্থতার আশ্বাস দিয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে কৌশলগত নৌ অবরোধ ঘোষণা করায় বাব আল-মানদেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ মার্কিন গোয়েন্দা পর্যালোচনার বরাতে বলা হচ্ছে, ওয়াশিংটনের লাগাতার সামরিক আক্রমণ সত্ত্বেও তেহরান তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটবে না, যার ফলে উভয় দেশ এখন যুদ্ধ ও শান্তির মাঝামাঝি এক অনির্দিষ্ট অবস্থায় আটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে বলে খবর এসেছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও ধ্বংসাত্মক সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের ‘চায়না মোমেন্ট’: সম্ভাবনা ও কিছু কথা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


বাংলাদেশের ‘চায়না মোমেন্ট’: সম্ভাবনা ও কিছু কথা

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে দুই দেশের মধ্যে অবকাঠামো, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা ও দলীয় পর্যায়ে বেশ কিছু বড় চুক্তি করা হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ যে এ ধরনের ঘনিষ্ঠতা দেখাচ্ছে, তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে নতুন এই সম্পৃক্ততার গতি ও বিস্তৃতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। প্রশ্নটি হলো, —নিজস্ব কৌশল’ অক্ষুণ্ণ রেখে বাংলাদেশ কীভাবে এর সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে পারবে?

এবারের সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক। সাধারণ রাষ্ট্রীয় কূটনীতির বাইরের এ ধরনের চুক্তি দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করে। বেইজিংয়ের বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রসারের অংশ হিসেবে সিপিসি তাদের আন্তর্জাতিক বিভাগের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘকাল ধরে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। প্রবাসীদের সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে চীনের সম্পৃক্ততা বাড়াতে দেশটির 'ইউনাইটেড ফ্রন্ট ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্ট'-এর ভূমিকার কথাও গবেষকরা তুলে ধরেছেন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে শিক্ষা। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’ কার্যরত রয়েছে এবং নতুন চুক্তির আওতায় আরও এমন কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো বাংলাদেশের বহু শিক্ষার্থীকে ভাষা শিক্ষা, বৃত্তি এবং শিক্ষাবিনিময়ের দারুণ সুযোগ প্রদান করছে। তবে একই সঙ্গে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে এই প্রতিষ্ঠান গভীর পর্যবেক্ষণের মুখেও পড়েছে।

গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘চায়না মিডিয়া গ্রুপ’ (সিএমজি) কনটেন্ট শেয়ারিং, সাংবাদিকদের পারস্পরিক সফর এবং স্থানীয় সম্প্রচারকদের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ততা ধারাবাহিকভাবে বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া কূটনীতিতে এমন অংশীদারত্ব সাধারণ বিষয় হলেও, এর মাধ্যমে বেইজিং বিদেশে নিজেদের বয়ান প্রচারের বিশাল সুযোগ পাচ্ছে।

চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা অবকাঠামো খাতে সমানভাবে দৃশ্যমান। মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ, এর কাছাকাছি প্রস্তাবিত চীনা শিল্পপার্ক এবং চট্টগ্রামের চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল—বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগের বড় সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। এসব প্রকল্প দূরদর্শিতার সঙ্গে পরিচালিত হলে বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা মতে, দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এবং সতর্ক ঋণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।

অর্থনৈতিক নির্ভরতার বিষয়টিও সমান মনোযোগ দাবি করে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বার্ষিক ২ হাজার ৪০০ কোটি (২৪ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে, কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ কিন্তু তুলনামূলকভাবে সামান্য। তাই ভবিষ্যৎ আলোচনায় শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণ নয়, বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতির সমস্যা সমাধানের দিকেও জোর দিতে হবে।

এসব পর্যালোচনার অর্থ এই নয় যে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করা যাবে না। বাংলাদেশের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব অপরিহার্য, যেখানে চীন বড় অবদান রাখতে পারে। তবে সফল অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনার ভিত্তিতে।

বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান এই ঘনিষ্ঠতার মাঝে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কী সমান স্পষ্টতা, আত্মবিশ্বাস ও দূরদর্শিতার সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে কিনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসিরনগরে ইমামের ঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নগদ আড়াই লাখসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল লুট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


নাসিরনগরে ইমামের ঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নগদ আড়াই লাখসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল লুট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের উড়িয়াইন গ্রামে একটি ইমামের বসতঘরে গভীর রাতে একটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা ঘরের তালা ভেঙে নগদ আড়াই লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, কাপড়-চোপড়, ঘরের ফ্যান, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংসসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে, এ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী মাওলানা হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি চাপরতলা এলাকার একটি মসজিদে ইমামতি করেন। ঘটনার সময় তার পরিবারের সদস্যরা শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন এবং তিনি কর্মস্থলে থাকায় বসতঘরে কেউ ছিলেন না। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, “ডাকাতরা নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, কাপড়-চোপড়, ঘরের ফ্যান, এমনকি ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংসও নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের ঘরবাড়ির নিরাপত্তা কোথায়? আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হোক।”

এই ঘটনায় এলাকায় একটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রাও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এডিপি বড় ভূমিকা রাখে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এডিপি বড় ভূমিকা রাখে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে, এই কথা জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি উল্লেখ করেছেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এবং উন্নতি সঞ্চারে এডিপি একটি বড় ভূমিকা রাখে। যদি এটি সঠিকভাবে করা হয়, তাহলে দেশি এবং বিদেশি নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হবে।

বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেছেন। উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে।

সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে ৩টি এবং সংশোধিত প্রকল্পের সংখ্যা ৫টি।

পরে ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কিছু প্রকল্পের বিষয়ে সরাসরি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, আইএমইডি’র সাম্প্রতিক রিপোর্ট বর্তমানে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের নীতিমালার খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এগুলো সম্পন্ন হলে একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নির্দেশিকা তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সাহায্য করবে। নতুন সরকারের বর্তমান মেয়াদে অল্প সময়ের মধ্যে পুরনো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে আইনি বা নীতিগত পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়; সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ভালো পরিবেশ তৈরির কাজ চলছে।

রেট শিডিউল বা দর তালিকা পর্যালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা সংস্থার (যেমন-এলজিইডি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) আলাদা আলাদা রেট শিডিউল রয়েছে, যা প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেটি ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে।

খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই রেট শিডিউলগুলো পর্যালোচনা করে সাধারণ এবং বিশেষ কাজের জন্য নতুন রেট শিডিউল তৈরি করা হবে, যেন সে অনুযায়ী প্রাক্কলন তৈরি করা যায়।

প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা ও গাফিলতি প্রসঙ্গে সাকি বলেন, প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাড়তি অপচয় ঘটে। এর পেছনে সমন্বয় ও জবাবদিহির অভাব এবং দায়িত্বহীনতা কাজ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%