১১:৪৭ পি.এম
রবিবার রাজধানীর রাজউক ভবনের সভাকক্ষে টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত একটি প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নগর উন্নয়নের জন্য আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, কার্যকর পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং Sewage Treatment Plant (STP) বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশসম্মত এবং টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশন আয়োজন করেছে। রবিবার (৫ জুলাই) এই অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ, আবাসন খাতের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি। এছাড়া ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী, রিহ্যাবের সভাপতি, গুলশান, বনানী, নিকেতন ও বারিধারা সোসাইটির প্রতিনিধিসহ রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি - মো. তমিজ উদ্দিন এমপি
সভাপতির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে পরিবেশসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এ কারণে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ভবনে এসটিপি স্থাপন খুবই প্রয়োজনীয় এবং এর কার্যকর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, এসটিপি বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণত তিনটি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়—কতটুকু জায়গা প্রয়োজন, স্থাপনে কী পরিমাণ ব্যয় হবে এবং বিদ্যমান ভবনে এটি স্থাপন কতটা সম্ভব। এসব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে এবং আধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরতেই এই প্রেজেন্টেশনের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এসটিপি বাস্তবায়নে রাজউক তদারকি আরও জোরদার করবে।
পাশাপাশি ভবন মালিক, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: মাদ্রাসা ও মানবিক বিভাগে পড়েও জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন ইবি শিক্ষার্থী জাহিদ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো ‘Reuse, Renew, Recycle’ নীতি। সেই নীতির আলোকে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এসটিপি স্থাপন এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। তিনি বলেন, এটি শুধু জলাশয় ও পরিবেশ দূষণ রোধের বিষয় নয়; বরং একটি স্বাস্থ্যসম্মত, আধুনিক ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মৌলিক শর্ত।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে এসটিপি স্থাপন এবং পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে।
এ লক্ষ্যে সরকারি সংস্থা, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশলী, ডেভেলপার এবং ভবন মালিক—সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রেজেন্টেশনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রযুক্তি, এসটিপির কার্যপদ্ধতি, স্থাপন প্রক্রিয়া, ব্যয় কাঠামো, প্রয়োজনীয় জায়গা, পরিচালনা ব্যবস্থা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে এর কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেয়। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয় এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে ছয় বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে কামরুলের ১০ বছরের কারাদণ্ড
অনুষ্ঠানে Innovations Ltd., Daiki Axis Bangladesh, Acumen Engineering Ltd., Ellipse Engineering & Construction Ltd. এবং Pivot Engineering Ltd. তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক এসটিপি সমাধান উপস্থাপন করে।
বক্তারা বলেন, দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। ভবনভিত্তিক এসটিপি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরীর জলাশয় রক্ষা, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে এসটিপি বাস্তবায়নকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: ‘১৬ বছর রাজপথে ছিলেন না, এখন ত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন’: খালিদুজ্জামানকে রাশেদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন