০৮:১৫ পি.এম
কুনমিং (চীন), ২১ আগস্ট, ২০২৬ : চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের হ্যালো ওয়ার্ল্ড লিভিং মলে শুরু হয়েছে ২০২৬ মেকং-লানচাং ফল, কফি, ফুল ও বিয়ার কার্নিভ্যাল। এই আন্তর্জাতিক উৎসবটি ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ৯৪টি স্টল নিয়ে মেকং অঞ্চলের দেশগুলোর ফল ও কৃষিপণ্য দেখা যাচ্ছে। উৎসবের শুরু থেকেই বাংলাদেশ স্টল ঘিরে স্থানীয় দর্শনার্থী এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
আঞ্চলিক কৃষি ও বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ উৎসবটিতে অংশ নিয়েছে চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, লাওস, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের নিজ নিজ দেশের বৈচিত্র্যময় ফল, কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি বিক্রির ব্যবস্থাও করেছে।
এই উৎসবের আয়োজনে সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্টলে প্রদর্শিত ফল ও কৃষিপণ্য দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার পাশাপাশি, চীনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমাজের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৃষিপণ্য বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কৃষিপণ্য রপ্তানি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, গত বছরের ফল উৎসবের পর বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে ‘থ্রি ফ্রিস অ্যান্ড থ্রি ফ্যাসিলিটেশনস’ নীতির আওতায় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
শাহনাজ রানু আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালীন বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল চীনের বাজারে রপ্তানির জন্য উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিধি প্রটোকল স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বাংলাদেশের আম ইতোমধ্যেই চীনের বাজারে প্রবেশ করেছে এবং ভবিষ্যতে পেয়ারা ও অন্যান্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি ইউনানকে বাংলাদেশের তাজা কৃষিপণ্যের জন্য চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের কৃষি বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১২৬ ফ্লাইট বাতিল, ১৯৩৭৭ যাত্রী ভোগান্তিতে
‘বড় বাজার ভাগাভাগি, চীনে রপ্তানি’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেকং-লানচাং অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, কৃষি ও বাণিজ্য খাতের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে এছাড়া বক্তব্য দেন লানচাং-মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের উপপরিচালক লিউ জি, কুনমিংয়ে নিযুক্ত কম্বোডিয়ার কনসাল জেনারেল হেং পিসাল, থাইল্যান্ডের বাণিজ্যিক প্রতিনিধি মি. চ্যানউইট রুয়াংচাইথাওয়েসুক, ভিয়েতনামের কনসাল জেনারেল নঘিয়েম ভিয়েত চুং এবং ইউনান প্রদেশের কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগের প্রধান কৃষিবিদ কে বিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। আয়োজকরা আশা করছেন, এ উৎসব অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কুনমিংয়ে শুরু হওয়া এ উৎসব আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। মেলায় দর্শনার্থীরা বিভিন্ন দেশের ফল, কৃষিপণ্য, কফি, ফুল ও অন্যান্য পণ্য দেখার পাশাপাশি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন