ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশের কৃষিপণ্য ও ফলে আগ্রহ চীনা ব্যবসায়ীদের


বাংলাদেশের কৃষিপণ্য ও ফলে আগ্রহ চীনা ব্যবসায়ীদের

কুনমিং (চীন), ২১ আগস্ট, ২০২৬ : চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের হ্যালো ওয়ার্ল্ড লিভিং মলে শুরু হয়েছে ২০২৬ মেকং-লানচাং ফল, কফি, ফুল ও বিয়ার কার্নিভ্যাল। এই আন্তর্জাতিক উৎসবটি ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ৯৪টি স্টল নিয়ে মেকং অঞ্চলের দেশগুলোর ফল ও কৃষিপণ্য দেখা যাচ্ছে। উৎসবের শুরু থেকেই বাংলাদেশ স্টল ঘিরে স্থানীয় দর্শনার্থী এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

আঞ্চলিক কৃষি ও বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ উৎসবটিতে অংশ নিয়েছে চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, লাওস, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের নিজ নিজ দেশের বৈচিত্র্যময় ফল, কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি বিক্রির ব্যবস্থাও করেছে।

এই উৎসবের আয়োজনে সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্টলে প্রদর্শিত ফল ও কৃষিপণ্য দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার পাশাপাশি, চীনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমাজের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৃষিপণ্য বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কৃষিপণ্য রপ্তানি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, গত বছরের ফল উৎসবের পর বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে ‘থ্রি ফ্রিস অ্যান্ড থ্রি ফ্যাসিলিটেশনস’ নীতির আওতায় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

শাহনাজ রানু আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালীন বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল চীনের বাজারে রপ্তানির জন্য উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিধি প্রটোকল স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

বাংলাদেশের আম ইতোমধ্যেই চীনের বাজারে প্রবেশ করেছে এবং ভবিষ্যতে পেয়ারা ও অন্যান্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি ইউনানকে বাংলাদেশের তাজা কৃষিপণ্যের জন্য চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের কৃষি বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১২৬ ফ্লাইট বাতিল, ১৯৩৭৭ যাত্রী ভোগান্তিতে

‘বড় বাজার ভাগাভাগি, চীনে রপ্তানি’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেকং-লানচাং অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, কৃষি ও বাণিজ্য খাতের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে এছাড়া বক্তব্য দেন লানচাং-মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের উপপরিচালক লিউ জি, কুনমিংয়ে নিযুক্ত কম্বোডিয়ার কনসাল জেনারেল হেং পিসাল, থাইল্যান্ডের বাণিজ্যিক প্রতিনিধি মি. চ্যানউইট রুয়াংচাইথাওয়েসুক, ভিয়েতনামের কনসাল জেনারেল নঘিয়েম ভিয়েত চুং এবং ইউনান প্রদেশের কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগের প্রধান কৃষিবিদ কে বিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। আয়োজকরা আশা করছেন, এ উৎসব অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কুনমিংয়ে শুরু হওয়া এ উৎসব আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। মেলায় দর্শনার্থীরা বিভিন্ন দেশের ফল, কৃষিপণ্য, কফি, ফুল ও অন্যান্য পণ্য দেখার পাশাপাশি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোমস্তাপুরে ৬ লিটার চোলাইমদসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


গোমস্তাপুরে ৬ লিটার চোলাইমদসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে অভিযান চালিয়ে ৬ লিটার দেশীয় চোলাইমদসহ স্বামী ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬:৪৫ ঘটিকায় গোমস্তাপুর থানাধীন আলিনগর ইউনিয়নের নাদেরাবাদ গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আলিনগর নাদেরাবাদ গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে মোঃ বাবলু (৪৫) এবং তার স্ত্রী মোসাঃ হানেফা বেগম (৩৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে মাদক ও চোরাচালানমুক্ত করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের দিক-নির্দেশনায় এবং গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) মোঃ মেসবাহুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম এই অভিযান চালিয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাদেরাবাদ গ্রামস্থ বাবলুর বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি প্লাস্টিকের বোতলে রক্ষিত মোট ৬ লিটার দেশীয় চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। এসময় এই ঘটনায় জড়িত দম্পতিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে মাদক ও চোরাচালানমুক্ত করতে সাধারণ জনগণকে তথ্যের মাধ্যমে পুলিশকে সহায়তা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুধু প্রাচীন ইতিহাস নয়, বাণিজ্যেরও নতুন রাজধানী হতে যাচ্ছে রহনপুর!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


শুধু প্রাচীন ইতিহাস নয়, বাণিজ্যেরও নতুন রাজধানী হতে যাচ্ছে রহনপুর!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র রহনপুর। এটি শুধুমাত্র এক টুকরো ভূখণ্ড নয়, বরং এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যের একটি অপূর্ব মেলবন্ধন। বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধারণ করে রহনপুর আজ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

প্রাচীনত্বের ছাপ রহনপুরের আনাচে-কানাচে স্পষ্ট দেখা যায়। সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক 'রহনপুর অক্টোবর গম্বুজ মসজিদ' কিংবা নওদা বুরুজ—এসব landmarks সমৃদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী। কথিত আছে, রহনপুর নামটি এসেছে ফারসি শব্দ 'রূহ' (আত্মা) এবং 'পুর' (নগর) থেকে, যার অর্থ আত্মিক শান্তির স্থান। শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতির আদান-প্রদান এই এলাকাকে করেছে সমৃদ্ধ।

যদিও রহনপুরের প্রধান পরিচিতি এর বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় নিহিত। এখানকার রেলওয়ে জংশনটি ভারত ও বাংলাদেশের পণ্যের পরিবহনের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। 'রহনপুর শুল্ক স্টেশন' দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়, যা জাতীয় অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, এই শুল্ক স্টেশনটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিলে এবং প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু করা হলে দুই দেশের যাতায়াত ও বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

অর্থনীতির পাশাপাশি রহনপুরের প্রাণ হচ্ছে কৃষি। সুস্বাদু ও বৈচিত্র্যময় জাতের আমের জন্য এই অঞ্চলের সুখ্যাতি সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। ফজলি, খীরসাপাত, আর ল্যাংড়ার মিষ্টি গন্ধে জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ়ে রহনপুরের হাট-বাজার মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। শুধু আমই নয়, বরেন্দ্র অঞ্চলের ধান এবং সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও রহনপুরের নাম সর্বদা শীর্ষে অবস্থান করে।

নদী-ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মেহনতি মানুষের কোলাহলে মুখরিত রহনপুর আজ বদলে যাওয়ার পথে রয়েছে। ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবং আধুনিক সম্ভাবনার হাত ধরে এই প্রাচীন জনপদ সামনে এগিয়ে চলেছে একটি নতুন ভবিষ্যতের দিকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২০ পি.এম


রাজধানীতে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের

রাজধানীর ভাটারা ১০০ ফিট সড়কে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী সাজ্জাদ হোসেন রাতল (৩২) নামে এক কাপড় দোকানের কর্মচারী নিহত হয়ে গেছেন।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃতের চাচা তো ভাই আনিসুর রহমান জানিয়েছে, তার ভাই সকালে বাসা থেকে কাজে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর সংবাদ পেয়ে সেখান থেকে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাকে বিকেল ৩টায় মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ ফারুক জানিয়েছেন, মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়েছে।

মৃত সাজ্জাদ হোসেন বনানীর মহাখালী মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান গাজীর ছেলে। তিনি তিন বোন এবং এক ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। এক বছর আগে বিবাহ করেছিলেন। স্ত্রীর নাম নুপুর আক্তার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামাজিক অবদানের জন্য মানুষকে স্মরণ করা উচিত: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


সামাজিক অবদানের জন্য মানুষকে স্মরণ করা উচিত: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

ঢাকা, ২১ আগস্ট, ২০২৬ : ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, সমাজে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন, তাদের ধর্ম, দল বা পরিচয় দিয়ে নয়- তাদের কর্মের মাধ্যমে স্মরণ ও মূল্যায়ন করতে হবে। মানুষের সামাজিক অবদানের স্বীকৃতি দিলে নতুন প্রজন্মও সমাজের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত হবে।

আজ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে ছায়ানীড় আয়োজিত ‘শতবর্ষের সফল ব্যক্তি স্মারক সম্মাননা প্রকাশনা ও সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সামাজিক অবদানের জন্য মানুষকে স্মরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে, অতীতে কারা সমাজ ও দেশের জন্য কী অবদান রেখে গেছেন। তাদের সম্পর্কে জানলে তরুণরাও ভবিষ্যতে সামাজিক কাজে উৎসাহিত হবে। কারণ, মানুষ তখনই সামাজিক কাজে আগ্রহী হয়, যখন দেখে ভালো কাজ করলে সমাজ তাকে মনে রাখে।

তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে অনেক গুণী মানুষের অবদান রয়েছে। নবী হাসান চৌধুরী, আবদুল হামিদ খান, প্রসাদ সাহা, ইব্রাহিম সাহা, আবু সাদ চৌধুরীসহ অনেকেই সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে গেছেন। কিন্তু নতুন প্রজন্মের অনেকেই তাদের অবদান সম্পর্কে জানে না। তাদের এসব ইতিহাস জানাতে হবে এবং বই পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে।

‘শতবর্ষের সফল ব্যক্তি’ নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের প্রশংসা করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এ ধরনের বই আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। প্রয়োজন হলে তিনি বইটি বিভিন্ন লাইব্রেরিতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগে সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।

সমাজে বিভিন্ন মানুষের অবদানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ওয়ালটনের মতো প্রতিষ্ঠান দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। একইভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিরা শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প-সাহিত্য ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের অবদান।’ সমাজে যারা হাসপাতাল, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, তাদের অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণ করা উচিত। ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, যার যার কর্মের ভিত্তিতে মানুষকে মূল্যায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের আগের সময়ের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তৎকালীন জমিদার ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের উদ্যোগে বহু শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল।

তাদের অবদানকে ধর্মীয় বা দলীয় পরিচয়ের সংকীর্ণতায় না দেখে সামাজিক অবদানের জায়গা থেকে মূল্যায়ন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কৃতী ব্যক্তিদের অবদান তুলে ধরে তাদের স্মরণ ও সম্মান জানানোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সমাজের জন্য যারা কাজ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, আবুল কাশেম চৌধুরী এবং ছায়ানীড়ের সভাপতি ড. ইউসুফ খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মন্ত্রী কৃতী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত বই সংগ্রহ ও পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুণী ও সফল ব্যক্তিদের অবদান তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে অনুষ্ঠানের বক্তব্যে কৃতী ব্যক্তিদের অবদান সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে শতবর্ষের সফল ব্যক্তিদের স্মৃতি ও অবদানকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%