১২:৪৭ এম
ইতালির রাজধানী রোমে বাংলাদেশি দম্পতি ও তাদের শিশু কন্যাকে হত্যা করা ঘটনায় রোম প্রসিকিউটর কার্যালয় এক বাংলাদেশি যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে তার ছবি প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত ছবিতে ব্যক্তির নাম মো.শাহাদাত হোসেন, যিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, তাঁকে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা চেনেন।
শাহাদাত হোসেন আবদুল আহাদের ছেলে, যিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব বলে জানা গেছে। নিহত পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় ও পরিবারিক যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি পার্কসংলগ্ন ফ্ল্যাট থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: নড়াইলে ‘ড. রাফি-বেগম মেমোরিয়াল জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার ও চারা বিতরণ
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাঁকড়া বিজয়নগর এলাকার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরিশা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ছেলে অয়ন (১৮), যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার খবর কোম্পানীগঞ্জে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের স্বজনদের মতে, একসময় কামাল উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেনের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল এবং শাহাদাতের কামালের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
স্থানীয়রা জানান, কামাল প্রথমে একাই ইতালিতে ছিলেন, তখন তার পরিবার কোম্পানীগঞ্জে ছিল। সেই সময় শাহাদাতের সঙ্গে কামালের স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। এ নিয়ে এলাকায় সালিশ-বৈঠকও হয়েছিল। পরে কামাল তার স্ত্রী ও সন্তানদের ২০২৫ সালের কোরবানির ঈদে দেশে আসার পরই ইতালিতে নিয়ে যান।
তাদের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি আসে। চিঠিতে স্বর্ণালঙ্কার ও অর্থ দাবি করা হয় এবং তা না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি থানাকে জানানো হয়েছিল। এরপর তারা নিরাপদ হয়ে তাড়াতাড়ি ইতালিতে ফিরে যান।
আরও পড়ুন: খুলনায় ৯৬৬টি মণ্ডপে বৈচিত্র্যময় থিম ও দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা
স্বজনদের অভিযোগ, শাহাদাত হোসেন প্রায় চার বছর আগে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে পারিবারিক বিচ্ছেদের পর, তিনি প্রায় এক বছর আগে ইতালিতে ফেরেন, তাদের অভিযোগ, ইতালিতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও শাহাদাতকে সহায়তা করেছিলেন নিহত আরজু।
নিহত পরিবারের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মো. ইউনুস সুমন জানিয়েছেন, দেশে থাকাকালীন শাহাদাতের ও কামালের স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই পারিবারিক অশান্তি তৈরি হয়েছিল। এ কারণে কামাল পরিবারকে ইতালিতে নিয়ে যান। কিন্তু ইতালিতে শাহাদাতের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে হত্যাকাণ্ড ঘটার পর শাহাদাতের ফেসবুকে পোস্ট সন্দেহের সৃষ্টি করে।
শাহাদাত হোসেন তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, সেখানে লেখেন, "একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে অন্যকেও মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারও জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না। "
নিহত কামাল উদ্দিনের বাবা সিরাজুল ইসলামও দাবি করেছেন, আবদুল আহাদ এবং একই গ্রামের প্রবাসী শাহাদাত হোসেন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত৷
আরও পড়ুন: গাজীপুরবাসীর ১৪ বছরের অপেক্ষা, দ্রুত বিআরটি চালুর দাবি
শনিবার কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া বিজয়নগর এলাকায় শাহাদাতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তার মা ও ছোট ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা বসবাস করছে। তাঁদের দাবি, গত চার বছর ধরে শাহাদাতের সঙ্গে তাদের কোনও যোগাযোগ হয়নি।
শাহাদাতের বড় ভাই, সৌদি আরবপ্রবাসী ইসমাইল হোসেন হারুন বলেন, "চার বছর আগে শাহাদাত সব সম্পত্তি বিক্রি করে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে চলে যায়। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। আমি দুই মাস আগে দেশে এসেছি, তবে তার সঙ্গে কোনও কথা হয়নি।"
ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতে পার্ক এলাকা থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান রিপন বলেন, "বিষয়টি আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি, তবে এ বিষয়ে আমার বিস্তারিত জানা নেই।"
আরও পড়ুন: বনপাড়া শহর প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটি গঠন: সভাপতি হযরত আলী,সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন হায়দার বলেন, "শাহাদাত হোসেন চার বছর আগে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর থেকে দলের সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা নেই।"
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, "উড়ো চিঠির মাধ্যমে হুমকির বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছিল। তারপর পুলিশ নিয়মিত টহলের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছিল।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন