ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভ্যাট রিটার্ন জমার নিয়মে আসছে নতুন পরিবর্তন


ভ্যাট রিটার্ন জমার নিয়মে আসছে নতুন পরিবর্তন

ভ্যাট রিটার্ন জমার নিয়মে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে প্রতি তিন মাসের কর মেয়াদ শেষে একবার রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেকটি কর মেয়াদের জন্য আলাদাভাবে রিটার্ন জমা দিতে হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্নটি জমা দিতে হবে। পূর্বে এই নিয়ম কার্যকর ছিল এবং এখন সেটি পুনর্বহাল করা হচ্ছে।

সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এই খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে।

মন্ত্রিসভার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়কে আরও কার্যকরী করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ৬৪ ধারা সংশোধন করা হবে।

আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর

প্রস্তাবিত সংশোধনীর আওতায়, প্রত্যেক কর মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে যদি ১৫তম দিনটি সরকারি ছুটির দিন হয়, তাহলে পরবর্তী কার্যদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

কিছু প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলি এই সুবিধার আওতায় আসবে। ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলিও এই সুবিধা পাবে। যারা শূন্য রিটার্ন জমা দেন, তারাও এই সুবিধা পাবেন। তারা কর মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

অধ্যাদেশের খসড়াটি এখনো একটি ধাপ অতিক্রম করতে বাকি রয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এটি ভেটিং করবে। মন্ত্রিসভা সেই ভেটিংয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে।

আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই দশক পর ইরাক থেকে সম্পূর্ণভাবে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


দুই দশক পর ইরাক থেকে সম্পূর্ণভাবে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার

মার্কিন সেনা ইরাক থেকে সম্পূর্ণভাবে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পর, এই প্রত্যাহারকে ইরান এবং তার মিত্ররা নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে। তবে ইরাকি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং দেশটিতে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।

মার্কিন বাহিনী বুধবারের মধ্যে ইরাকের শেষ ঘাঁটিগুলো থেকেও সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের এই যুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

ইরাকের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরান ও তার মিত্ররা ইরাকে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়ানোর সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ইসলামিক স্টেটসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিপক্ষরাও আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জসিম আল-বাহাদলি মন্তব্য করেছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ইরাক ছাড়ার ফলে ইরান কৌশলগতভাবে লাভবান হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন সেনাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি ইরাকের মধ্যে ইরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য তৈরি করেছিল। এখন সেই সামরিক উপস্থিতি চলে যাওয়ায় ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।

আল-বাহাদলি আরও বলেন, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের বিজয় হিসেবে প্রচার করবে এবং নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করবে।

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইরাকি ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’-এর কমান্ডার আবু মোজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি ‘আমেরিকান প্রকল্পের চরম পরাজয়’।

রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর আমরা ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান উদযাপন করব। একই সঙ্গে আমাদের দেশের ওপর বিদেশি শক্তির ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিও উদযাপন করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরাক প্রমাণ করেছে, বিদেশি শক্তির মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যায় না। বরং জনগণের প্রতিরোধ ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমেই সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব।’

এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি চলে যাওয়াকে অনেক ইরাকি স্বাগত জানালেও, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্তি নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরাকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

ফালুজার সুন্নি গোত্রের নেতা আব্দুল রহমান আল-জোবাই রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে ইরাক নিজের নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এখনও প্রস্তুত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব ইরাকিই দেশের পূর্ণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব চায়। এ নিয়ে কারও আপত্তি নেই। কিন্তু মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট এখন চলে গেলে দেশে নিরাপত্তার শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এটাই ইরাকিদের সবচেয়ে বড় ভয়।’

ইরাকে মার্কিন সেনাদের দীর্ঘ উপস্থিতি

২০০৩ সালে সুন্নি মুসলিম শাসক সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতা থেকে সরাতে মার্কিন বাহিনী ইরাকে হামলা চালায়। এরপর তারা দেশটি দখল করে এবং শিয়া-নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনে সহায়তা করে। ২০১১ সালের শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনারা ইরাকে বিদ্রোহ দমনের অভিযান চালায়। এরপর তারা দেশটি থেকে চলে যায়।

তবে তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন সেনারা আবার ইরাকে ফিরে আসে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তারা ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে। ওই যুদ্ধে ইসলামিক স্টেট পরাজিত হয়।

‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’-এ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হন। আফগানিস্তানে চলা যুদ্ধের তুলনায় ইরাকে প্রায় দ্বিগুণ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল। আফগানিস্তানের যুদ্ধ ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে শেষ হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মাঝখানে ইরাক

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। একই সময়ে ইরান মাঝে মাঝে ইরাকের ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।

২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। এরপর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে বারবার হামলা চালায়। এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত ১৮ জন মার্কিন সেনার মধ্যে ৭ জনই ইরাকে নিহত হন। সর্বশেষ জুলাই মাসে এরবিলের কাছে একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় এক মার্কিন সেনা সার্জেন্ট নিহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উদ্যোক্তাদের জন্য বিসিকের দরজা সবসময় খোলা: চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ টিটো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


উদ্যোক্তাদের জন্য বিসিকের দরজা সবসময় খোলা: চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ টিটো

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ টিটো মন্তব্য করেছেন, দেশের অনেক বড় জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের শুরু বিসিক থেকে হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তা তৈরি করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্যোক্তাদের জন্য বিসিকের দরজা সবসময়ই খোলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জে বিসিক চাকরি মেলা ২০২৬-এর শুভ উদ্ধোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিসিক চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, বিসিকের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলা চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিদাতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। চাকরি পাওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

চাকরি প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে বেনজির আহমেদ টিটো বলেন, "সবাই চাকরি করলে হবে না, ভবিষ্যতে আপনি চাকরি দিতে পারবেন সেটার জন্যও প্রস্তুত হতে হবে।" বিসিক উদ্যোক্তা তৈরি করছে এবং নিজস্ব মেকানিজমের মাধ্যমে অতিক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করছে।

বিসিক চেয়ারম্যান আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে কর্মচাঞ্চল্যতা সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের মধ্যে গতিশীলতা এনেছেন। তার চলার গতি ও কর্মের গতি, সেটার সঙ্গে আমরা কতটুকু তাল মেলাতে পারব, সেটি নিয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিকেএমইএ'র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নাসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজিব, বিকেএমইএ'র সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেলসহ অন্যান্য অতিথিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালিতে সেনা ও রুশ ভাড়াটে বাহিনীর হামলায় ৩৪ বেসামরিক নিহত: অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


মালিতে সেনা ও রুশ ভাড়াটে বাহিনীর হামলায় ৩৪ বেসামরিক নিহত: অ্যামনেস্টি

মালির সেনাবাহিনী এবং রাশিয়ার আধাসামরিক বাহিনী ওয়াগনারের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, যৌথ অভিযানের সময় এসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। সংস্থাটি এগুলোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেগু, মপতি ও তিম্বুকতু অঞ্চলের সাতটি স্থানে অন্তত ৩৪ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে। নিহতদের মধ্যে কেউই মৃত্যুর সময় সংঘাতে অংশগ্রহণ করছিলেন না বলে জানায় সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজনকে পালানোর সময় বা গ্রেপ্তারের পর গুলি করে হত্যা করা হয়। আবার কিছু ব্যক্তির গলা কেটে দেওয়া হয়। অন্যদের জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। অ্যামনেস্টি তিম্বুকতু অঞ্চলের টিন আদান্ডা গ্রামের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে।

২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মালির সেনাবাহিনী ও ওয়াগনারের যৌথ টহলের সময় সেখানে চারজনকে হত্যা করা হয় বলে সংস্থাটি জানায়। এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চ ও নভেম্বরে একই এলাকায় দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত ২৩ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন শিশু ছিল।

অ্যামনেস্টি আরও জানায়, যৌথ টহলের সময় এবং লেরে ও নামপালা সামরিক ঘাঁটিতে আটক থাকা ১৫ জন পুরুষের নির্যাতনের সাক্ষ্য তারা গ্রহণ করেছে। সাক্ষীদের বক্তব্য অনুযায়ী, টহল ও সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ৩০ জনকে নির্যাতন বা দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘাঁটিতে নির্যাতন ও খারাপ পরিবেশের কারণে পাঁচজন মারা গেছেন বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

অ্যামনেস্টির মতে, নিহত ও নির্যাতনের শিকার বেশিরভাগ মানুষ ফুলানি, আরব ও তুয়ারেগ পশুপালক সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। সংস্থাটি বলেছে, কিছু মানুষকে তাদের জাতিগত পরিচয় এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় এলাকায় থাকার কারণে ওই গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ করা হয়েছে।

এপ্রিল মাসে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ) সহ তিনটি নাগরিক সংগঠন মালির সেনাবাহিনী ও ওয়াগনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আফ্রিকান ইউনিয়নের মানবাধিকার আদালতে মামলা করে।

২০২০ ও ২০২১ সালে দুটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মালির জান্তা সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর তারা জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাশিয়ার সহায়তা গ্রহণ করে। এই সময় রাশিয়ার ওয়াগনার বাহিনীকে মালিতে কাজে লাগানো হয়। পরে এই বাহিনী ‘আফ্রিকা কর্পস’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। মালিতে বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য দেশটির সেনাবাহিনী ও রুশ বাহিনীকে এর আগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযুক্ত করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান মার্কিন জনগণের উদ্দেশে চিঠিতে সামরিক উপস্থিতি ও বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তুললো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


ইরান মার্কিন জনগণের উদ্দেশে চিঠিতে সামরিক উপস্থিতি ও বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তুললো

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশ্যে পাঠানো ইরানের চিঠিটি শুধুমাত্র গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য নয়, বরং ইরানের অবস্থান ও যুক্তি সরাসরি উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে—এমনটি জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ বিষয়টি তুলে ধরেন।

জেনারেল মোহেব্বি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু পোস্টের মাধ্যমে সাময়িক প্রচারণা চালানোর পরিবর্তে ইরান মার্কিন জনগণের সঙ্গে ‘সৎ, যৌক্তিক ও বাস্তব’ উপায়ে আলোচনা করতে চায়।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক মার্কিন নাগরিক ইরানের অবস্থান ও যুক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নয়। তাই সরাসরি বার্তা পৌঁছানোর জন্য চিঠিকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

মোহেব্বি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে শত শত টেলিভিশন ও রেডিও নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও মার্কিন ভূখণ্ডে ইরানের নিজস্ব বিস্তৃত গণমাধ্যম নেটওয়ার্কের অভাব রয়েছে। এই বাস্তবতার কারণে সরাসরি ও স্পষ্টভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য চিঠিকে উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। চিঠিটি পড়ে মতামত, সমালোচনা বা ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগের আগ্রহও প্রকাশ করেছে ইরান।

চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান আইআরজিসির মুখপাত্র। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মহাসাগরবেষ্টিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশগুলোর কেউ যখন দেশটির জন্য বড় ধরনের সামরিক হুমকি তৈরি করে না, তখন বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখার প্রয়োজন কী। একই সঙ্গে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের অর্থনৈতিক ও যৌক্তিক ভিত্তি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

মোহেব্বি আরও বলেন, গত সাত দশকে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানগুলোর ইতিহাসও মার্কিন জনগণের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

মার্কিন গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং সেসবের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি সম্পর্কে তারা অবগত। তাই এসব বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%