বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:২৭ পি.এম
পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক ছেলে-মেয়ের আইনগত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে সন্তানের গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। ভরণপোষণের মধ্যে খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং সঙ্গ প্রদান অন্তর্ভুক্ত।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। যদি একাধিক সন্তান থাকে, তারা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এ দায়িত্ব পালন করবে। পিতা-মাতার একই স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না।
এ ছাড়া সন্তানের নিয়মিত পিতা-মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে সন্তানের দৈনিক বা মাসিক আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত দিতে হবে।
আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনির ওপর বর্তাবে। এই দায়িত্বও পিতা-মাতার ভরণপোষণের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
আইন ৫(১) ধারায় জানানো হয়েছে, ৩ বা ৪ ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
আইনের ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণপোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে তাকেও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে একই দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ বাংলাদেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন।
তিনি বলেন, আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক সন্তানের জন্য পিতা-মাতার ভরণপোষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাসে পাঠানো নিষিদ্ধ করে পারিবারিক বন্ধনকে আইনি সুরক্ষা দেয়া হয়েছে।
অ্যাডভোকেট খালিদ আরও বলেন, ৫ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান দায়িত্বহীন সন্তানদের জন্য একটি কঠোর আইনি বার্তা। আর ৪ ধারার মাধ্যমে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নাতি-নাতনির ওপর অর্পণ করে তিন প্রজন্মের পারিবারিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, আইনের ৮ ধারায় আপোষ-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে পারিবারিক বিরোধ আদালতের বাইরে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে, যা দেশের সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি জানান, ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণ-পোষণ তহবিল ও পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এটি অসহায় প্রবীণদের জন্য নতুন আশার আলো।
তিনি বলেন, এ আইন শুধু শাস্তি দেয়ার জন্য নয়, সন্তানদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যও প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে পারিবারিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হবে এবং প্রবীণরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, আমরা চাই না বাংলাদেশের মাটি প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হোক। একইসঙ্গে, প্রতিবেশীরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাক, সেটাও আমরা চাই না।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এ কথা বলেন।
চিফ হুইপ আরো বলেন, ভারতে যে হারে মসজিদ ভাঙা হয়, বাংলাদেশে কি সে হারে মন্দির ভাঙা হয়? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের বিষয়ে ভারত কীভাবে নিয়েছে, সেটি যদি সবাই তাদের কর্মকাণ্ডে নজর দেয়, তাহলে সবার বুঝতে অসুবিধা হবে না।
বাজেট নিয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, সরকারের দেয়া বাজেটকে বিরোধীদলও গ্রহণ করেছে। সুতরাং, এ বাজেট বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
এসময় তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংশোধনে সংসদের ভেতরে-বাইরে সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে কাজ করবে।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কবে খুলে দেয়া হবে জানতে চাইলে চিফ হুইপ জানান, তিনি এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না।
চিফ হুইপ তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দেশ বাঁচানোর প্রকল্প হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ যেন কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় পানি পায়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর তিনটি এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটজন মাদক কারবারি ও সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত র্যাব-১-এর সিপিসি-১, সিপিসি-২, সিপিসি-৩ এবং সদর কোম্পানি যৌথভাবে মেরুল বাড্ডা, ভাটারা ও খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী তাদের অপরাধের প্রকৃতির ভিত্তিতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. শামিম মিয়া (৩২), মো. জয় (২৩), মো. মিনকুল ইসলাম (৩৫), অভিজিত দেবনাথ (৩৯), মো. ছাব্বির হোসেন শিপন (২৩), মো. শাহদাত হোসেন (৩০), মো. স্বপন মিয়া (৪০) ও মো. মিলন (৩৩)।
র্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম জানিয়েছেন, সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতির অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে হত্যার বিষয়ে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘে একটি চিঠি দিয়েছেন।
ইরাভানি বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের এই হুমকি হলো ইরানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি ‘পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের নীতির’ অংশ।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অবৈধ আগ্রাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা এবং এসব কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও সহযোগিতা এই নীতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইরাভানি আরো বলেন যে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইসরায়েল দায়মুক্তির সুযোগ পাচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেবে তেহরান। চিঠিতে তিনি আরও যোগ করেন যে, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতা দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করেছে।
এর ফলে ইসরায়েল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
এদিকে, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের জন্য দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ছয় দিনব্যাপী এই কর্মসূচি ইরানের পাঁচটি শহরের পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকের দুটি শহরেও অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা নামাজ কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে এবং সোমবার তেহরানের রাজপথে জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র শহর কুমে। পরে ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরেও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
সবশেষে ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে এনে তার জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে। শেষকৃত্যে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এতে দেড় থেকে দুই কোটি শোকাহত মানুষ উপস্থিত হতে পারেন। এ উপলক্ষে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ।
এ ছাড়া রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং ৯০টি দেশের ধর্মীয় নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও এর আগে দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘদিনের আন্দোলন, দাবি ও প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা থেকে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন উপজেলা বাঙ্গরা বাজার গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় বুধবার (১ জুলাই) এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এর ফলে বাঙ্গরা ও মুরাদনগর জুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠাকে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখছেন।
নিকারের অনুমোদনের মাধ্যমে মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, পূর্বধইর পূর্ব, পূর্বধইর পশ্চিম, বাঙ্গরা পূর্ব (সদর), বাঙ্গরা পশ্চিম, চাপিতলা, রামচন্দ্রপুর উত্তর ও টনকীসহ ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাঙ্গরা বাজার উপজেলা।
উপজেলা অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। অনেকেই এটিকে বাঙ্গরা অঞ্চলের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, এতদিন তাদের প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের জন্য প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে মুরাদনগর উপজেলা সদরে যেতে হতো। একটি কাজ সম্পন্ন করতেই অনেক সময় পুরো দিন ব্যয় হয়ে যায়। নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে সরকারি বিভিন্ন সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে এবং সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
বাঙ্গরাকে উপজেলা করার দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে ১০টি ইউনিয়নের জনগণ ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন, সভা ও সমাবেশ এবং গণসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালন করে চলেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উপজেলা বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বিষয়টি এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অবশেষে নিকারের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।
বাঙ্গরা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন বলেন, ‘বাঙ্গরাকে উপজেলা করা ছিল আমাদের প্রাণের দাবি। ২০১৪ সালে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বাঙ্গরা থানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আজ উপজেলা অনুমোদন পাওয়ায় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে।’
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম সরকার ও যুবদল নেতা চঞ্চল রায়হান বলেন, ‘প্রায় এক দশকের আন্দোলনের ফসল আজকের এই উপজেলা।’ তারা এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ঐতিহ্য কুমিল্লার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল বক্তব্য রাখেন, ‘জাতীয় কবির স্মৃতিকে ধারণ করে নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ রাখা হলে অঞ্চলটি যেমন গর্বিত হবে, তেমনি কবির প্রতিও যথাযথ সম্মান জানানো হবে।’
এনসিপি কুমিল্লা উত্তর জেলা আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া সরকার বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই বাঙ্গরা উপজেলার অনুমোদন এসেছে। নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রশাসনিক সেবার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ