০৬:৫৬ এম
উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বশাসিত অঞ্চল সেউটায় চলতি সপ্তাহের শুরুতে ১০ হাজারেরও বেশি অভিবাসীর অনুপ্রবেশ ঘটার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সরকার সীমান্ত সমুদ্রে ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি প্রতিরোধক বাঁধ বা ব্যারিয়ার স্থাপন করেছে।
শনিবার স্পেনীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অনুপ্রবেশের ঘটনায় সাঁতরে পার হওয়ার সময় ডুবে যাওয়া এবং ব্রেকওয়াটার ব্যারিয়ার অতিক্রম করতে গিয়ে সৃষ্ট হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ৬৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে হঠাৎ করে সেউটায় ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ অভিবাসীর অনুপ্রবেশ একটি চরম মানবিক সংকট তৈরি করেছে। এর ফলে ইউরোপ ও বিশ্বজুড়ে অভিবাসন বিতর্ক নতুন করে উসকে উঠেছে। যদিও অনুপ্রবেশকারীদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই মরক্কোয় ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
আরও পড়ুন: আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন
মেডিটেরেনিয়ান সাগরের প্রবেশদ্বার এবং জিব্রাল্টার প্রণালিতে অবস্থিত সেউটা ১৫৮০ সাল থেকে স্পেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অঞ্চলে অভিবাসীদের জটলা বেঁধে আকস্মিক অনুপ্রবেশের দৃশ্য সামনে আসার পর স্পেনের ডানপন্থী ও উগ্র-ডানপন্থী বিরোধীরা দেশটির সমাজতান্ত্রিক সরকারের কড়া সমালোচনা শুরু করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আমেরিকার কড়া অভিবাসনবিরোধী নীতির বিপরীতে স্পেনের বর্তমান সরকার ২০২৬ সালের আগে আসা অবৈধ শ্রমিকদের আইনি বৈধতা দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছিল।
সেউটা সংকটের পর ইউরোজোনের কিছু নেতা স্পেনকে সীমান্তমুক্ত ‘শেনজেন’ এলাকা থেকে সাময়িক বহিষ্কারের দাবি তুললে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের দাবি কুসংস্কার, ভুয়া খবর, অজ্ঞতা বা রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে অনুপ্রাণিত।’
আরও পড়ুন: ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন
সানচেজ আরও উল্লেখ করেন, সংকট সত্ত্বেও ইতালি বা গ্রিসের তুলনায় স্পেনে অবৈধ অনুপ্রবেশের হার গত কয়েক বছরে বেশ কম ছিল।
শনিবার সকালে কয়েকজন অভিবাসী সেউটার তারাজাল সৈকতে সাঁতরে পৌঁছালে স্প্যানিশ সামরিক বাহিনী তাদের আটক করে সীমান্তে ফেরত পাঠায়। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা অনমনীয়।’
দুদেশের ভারী নিরাপত্তা সত্ত্বেও কীভাবে এমন অনুপ্রবেশ সম্ভব হলো এমন প্রশ্নের জবাবে স্প্যানিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরক্কোর সরকারের প্রতিরক্ষায় কথা বলেন।
তিনি জানান, যৌথ মূল্যায়নের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার কারণেই মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্পেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘মরক্কো সেউটা বা স্পেনের জন্য কোনো হুমকি নয়, তারা আমাদের বিশ্বস্ত সহযোগী।’
আরও পড়ুন: আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ৪৭.৪২% পরিবার ঋণের চাপের মধ্যে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন