ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সেমিফাইনালের আগে যে কারণে দুশ্চিন্তায় আর্জেন্টিনা শিবির


সেমিফাইনালের আগে যে কারণে দুশ্চিন্তায় আর্জেন্টিনা শিবির

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে টানা ১২০ মিনিট খেলার পরে, সোমবার তিনি দলের নিয়মিত অনুশীলনে অংশ নেননি।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ওলে জানিয়েছে, অনুশীলনের পরিবর্তে পুনরুদ্ধারমূলক (রিকভারি) কার্যক্রমে সময় কাটিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো ম্যাচের ধকল কাটিয়ে সেমিফাইনালের জন্য তাকে পুরোপুরি প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোচিং স্টাফ।

নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনাকে টানা দুইটি ম্যাচে অতিরিক্ত সময় খেলতে হয়েছে। শেষ ষোলোতে মিসর এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে নামতে হয়; যার ফলে দলের খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি শারীরিক চাপ পড়েছে। মেসি এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নন।

আরও পড়ুন: ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ম্যাচে উত্তেজনা

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে গোল করতে পারেননি মেসি। তবে আলেক্সিস মাক আলিস্তারের প্রথম গোলের আক্রমণ তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অতিরিক্ত সময় শুরুর আগেই গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পরে, হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে।

ম্যাচ শেষে মেসি জানান, টানা কঠিন লড়াইয়ের কারণে পুরো দলই ক্লান্ত। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালের আগে দ্রুত সেরে ওঠার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

মেসি বলেন, "আমরা ক্লান্তি অনুভব করছি, তবে যতটা সম্ভব ভালোভাবে নিজেদের পুনরুদ্ধার করব। এই ম্যাচটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আমরা জানি। ফাইনালে ওঠার জন্য আমরা সর্বস্ব উজাড় করে দেব।"

আরও পড়ুন: ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক এসএসপি পদে পদোন্নতি পেলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঠবাড়ীয়ায় অবৈধ জালের দৌরাত্ম্য: খাল-বিল ও নদী অবরুদ্ধ, জলাবদ্ধতায় কৃষকের দুর্ভোগ; মৎস্য বিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি, মঠবাড়ীয়া (পিরোজপুর)

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ এম


মঠবাড়ীয়ায় অবৈধ জালের দৌরাত্ম্য: খাল-বিল ও নদী অবরুদ্ধ, জলাবদ্ধতায় কৃষকের দুর্ভোগ; মৎস্য বিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলায় খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে অবাধে অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা নিধন এবং মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং বলেশ্বর নদীর তুষখালী থেকে সাংরাইল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে গড়া জাল, চড় গড়া জাল, বেহুন্দী জাল, বোডা জাল ও চায়না দুয়ারি জাল পেতে নদী, খাল ও বিল প্রায় সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং বীজতলা ও ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ জালের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ দেশীয় মাছের পোনা ধ্বংস হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন মৎস্যসম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকরাও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে মাসিক অর্থের বিনিময়ে নদীতে অবৈধভাবে জাল পেতে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার আগে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য ফাঁস হওয়ায় অভিযানের দিন জেলেরা জাল সরিয়ে ফেলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, একাধিকবার বিষয়টি উপজেলা মৎস্য দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে তারা হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঠবাড়ীয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জনবল ও অর্থসংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সব স্থানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ) বিতরণে মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। তাদের দাবি, সমিতির প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে ইচ্ছামতো তালিকা প্রস্তুত ও চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে অবৈধ জাল বিক্রি হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে অবৈধ জালের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক, জেলে ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা, জলাশলগুলো অবমুক্ত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিজার, তুরস্কে শতাধিক চিকিৎসককে বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিজার, তুরস্কে শতাধিক চিকিৎসককে বহিষ্কার

সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রসূতিদের সিজার অপারেশন করায় তুরস্কের পর্যটননগরী আন্তালিয়ায় শতাধিক চিকিৎসক ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞকে সাময়িকভাবে পেশা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার, এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তালিয়াভিত্তিক চিকিৎসকদের সংগঠন ‘আন্তালিয়া চেম্বার অব ফিজিশিয়ান্স’।

সংগঠনটি জানিয়েছে, সাময়িক বহিষ্কারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কঠোর সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। কিছু চিকিৎসককে আর্থিক জরিমানার শিকার হতে হয়েছে, এবং কিছু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদের বাধ্যতামূলক প্রসবসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশটির ক্রমহ্রাসমান জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সরকার ২০২৫ সালে ‘পরিবার দশক’ নামে ১০ বছর মেয়াদি একটি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে জরুরি স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন ছাড়া প্রসূতিদের সিজার অপারেশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকার এই নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা।

তুরস্ক উন্নত ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের ৩৮টি দেশের জোট অর্গানাইজেশন অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)-এর সদস্য। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কেই সিজার অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের হার সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া শিশুর ৬১ দশমিক ৫ শতাংশই সিজার অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয়।

আন্তালিয়া চেম্বার অব ফিজিশিয়ান্স তাদের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, সারা দেশে সিজারিয়ান অপারেশনের উচ্চ হার বিবেচনায় নিয়ে প্রসূতি বিশেষজ্ঞদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সতর্কবার্তা, বিভাগীয় তদন্ত, সাময়িক বহিষ্কার এবং বাধ্যতামূলক প্রসবপূর্ব প্রশিক্ষণের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিংপোস্ট ও টার্কিশ মিনিট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক বেচাকেনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক বেচাকেনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

সাইবার মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ মাদক চোরাকারবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬ সংসদে পাস হয়ে গেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন।

জনমত যাচাই, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি পাস হয়। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত বিলে প্রযুক্তিনির্ভর মাদক-সংক্রান্ত অপরাধকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ কেনা, বিক্রি, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, যোগাযোগ, সহায়তা বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

যদি কোনো অপরাধ আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। বিলে আদালত বা মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালকে এ ধরনের অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস, অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, বাজেয়াপ্ত, অপসারণ বা রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মাদকপ্রবণ এলাকায় স্বতন্ত্র মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত আদালতে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিধানও বহাল রাখা হয়েছে। বিলের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ডগ স্কোয়াড গঠন এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ পাস হয়েছিল। ওই আইনে ২০০ গ্রামের বেশি ইয়াবা অথবা ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন বা কোকেন বহনের দায়ে দোষী ব্যক্তির জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিজেদের পছন্দের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন ক্ষুব্ধ নেপালের জেন-জি প্রজন্ম?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ এম


নিজেদের পছন্দের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন ক্ষুব্ধ নেপালের জেন-জি প্রজন্ম?

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ট্রাফিক পুলিশের অত্যাচারের শিকার হয়ে এক রাইড-শেয়ারিং চালকের আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে তীব্র গণ-অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে ওই তরুণ চালক মোটরসাইকেলের চাকা লক করে দেওয়ার পর ক্ষোভ ও অভিমান থেকে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বা নেপালের 'জেন জি' আন্দোলন নিয়ে এসেছে।

নেপালি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কাঠমান্ডুর একটি সড়কে তিনি গ্রাহকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল (পৌর) পুলিশ আকস্মিকভাবে এসে তার মোটরসাইকেলের চাকায় লক লাগিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশের এই অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে এবং জীবিকার ক্ষতি হওয়ায় হতাশ হয়ে তরুণ চালক নিজের শরীরে পেট্রোল ঢালেন এবং আগুন ধরিয়ে দেন।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আসার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও, পরের দিন শুক্রবার (১০ জুলাই) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে, দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর সরকারি দপ্তর ‘সিংদরবার সচিবালয়’-এর বাইরে শত শত মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে ‘গরিবদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করুন’ এবং ‘মানবাধিকারকে সম্মান করুন’-এর মতো স্লোগান লেখা দেখা যায়। সাধারণ জনগণ এই ঘটনার জন্য বালেন শাহ সরকারের ‘দরিদ্র-বিরোধী ও আগ্রাসী’ নীতি দায়ী হিসেবে দেখছেন। বালেন্দ্র শাহ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ফুটপাত পরিষ্কার, হকার উচ্ছেদ এবং নদীর ধারের অবৈধ বসতি সরানোর নামে দরিদ্র ও ভূমিহীনদের ওপর পুলিশের বর্বর নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইনজীবী ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠমান্ডুর পৌর পুলিশ নিজেদের ক্ষমতার বেআইনিভাবে অপব্যবহার করছে। প্রবীণ আইনজীবী রাজু চাপাগাঁই বলেন, ‘আইন অনুযায়ী পৌর পুলিশকে শারীরিক বলপ্রয়োগ বা দাঙ্গা দমনের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাদের কাজ হচ্ছে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা। যেকোনও যানজট বা আইন ভঙ্গের সমস্যা হলে ট্রাফিক পুলিশকে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু তারা হকারদের ধাওয়া করছে এবং নাগরিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।’

২০২৩ সালে পাস হওয়া ‘কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি মিউনিসিপ্যাল পুলিশ অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, এই বাহিনীর প্রধান কাজ হল সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি ও উৎসবের শৃঙ্খলা বজায় রাখা। তাদের লাঠিচার্জ বা কাউকে আটক করার কোনো এখতিয়ার নেই। নেপাল পুলিশের সাবেক ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল পূর্ণচন্দ্র যোশী জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা বলপ্রয়োগের পরিস্থিতি তৈরি হলে পৌর পুলিশ ‘নেপাল পুলিশ’-কে ডাকতে বাধ্য, তারা নিজেদের উদ্যোগে কোনো কাজ করতে পারবেনা।

আইনি সীমাবদ্ধতা ও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে দিনমজুর ও প্রান্তিক মানুষের ওপর পুলিশের এই অতি উগ্র আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, বালেন্দ্র শাহ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%