০৩:১৯ পি.এম
বর্ষাকালের টানা বৃষ্টির ফলে পাবনার কাঁচাবাজারে পড়েছে প্রভাব। সরবরাহ কম থাকায় বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম আকাশছোঁয়া পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকায়। কাঁচামরিচের এই অস্বাভাবিক দামে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপদ নেমে এসেছে। তবে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এছাড়া বেগুন, পটল, পটোলা (স্থানীয়ভাবে পোল্লা), ঝিঙে, করলা, শশাসহ অধিকাংশ সবজির দামও বেড়েছে। এই অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে কাঁচামরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে বিদেশ থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
পাবনার বড়বাজার, মাসুম বাজার, দাশুড়িয়া বাজার, বেড়া সিঅ্যান্ডবি চত্বর বাজার, সাঁথিয়া বাজার ও কাশীনাথপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এসব বাজারে বর্তমানে কাঁচামরিচ ২৮০-৩৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা, শশা ৫০-৬০ টাকা, আলু ২৫-৩০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, পটল ৬০-৭০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকা, ঝিঙে ৬০-৭০ টাকা, মুখিকচু ৬০-৭০ টাকা, মুলা ৬০-৮০ টাকা, টমেটো ১২০-১৫০ টাকা এবং আগাম জাতের শিম ২৫০-৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ প্রতিটি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং চালকুমড়া প্রতিটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু, পেঁপে ও পোল্লার দাম তুলনামূলক কম থাকায় কিছুটা স্বস্তি ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে।
জানা গেছে, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসের ভারী বর্ষণে পাবনার অধিকাংশ আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এই জলাবদ্ধতার ফলে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বেগুন, মরিচ, পটলসহ বিভিন্ন সবজির গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে।
আরও পড়ুন: ৮ বছর ধরে বিদ্যুৎ খুঁটি-মিটার থাকলেও সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুরে নেই বিদ্যুৎ
দাশুড়িয়া এলাকার ফটোস্ট্যাট ও স্টুডিও ব্যবসায়ী তুহিন জানান, মরিচসহ অন্যান্য তরকারির দাম বাড়ছে, যার কারণে তাদের মতো মধ্যবিত্তদের টিকে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে গেলেও চার থেকে পাঁচ সদস্যের পরিবারের এক সপ্তাহের কাঁচাবাজার (সয়াবিন তেলসহ) হয় না। এভাবে চলতে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
আতাইকুলা এলাকার কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, বাজার করতে গিয়ে কাঁচা তরিতরকারির দাম দেখে তিনি হতবাক হয়েছেন। কাঁচামরিচ না কিনেই ফিরে এসেছেন। যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
নাকালিয়া নয়নপুর এলাকার গৃহবধূ জেসমিন আক্তার বলেন, তারা নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুরির আয়ে সংসার চলে। ৭০-৮০ টাকার এক পোয়া কাঁচামরিচ কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। বাধ্য হয়ে মরিচ ছাড়া তরকারি রান্না করছে তারা।
পাবনার মাসুম বাজারের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। দাম বাড়ায় ক্রেতার সংখ্যাও কমে গিয়েছে। তারা অন্য এলাকা থেকে পণ্য কিনে এনে বিক্রি করে। বিক্রি কম হওয়ায় অনেক কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: দেশ প্রতিদিন পত্রিকার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, অর্থ ফেরত ও পত্রিকার নিবন্ধন বাতিল করতঃ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক যাদুর শাস্তি চায় ভুক্তভোগীরা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলশিক্ষক জানান, তাদের সীমিত বেতনের চাকরি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের স্বার্থে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকার সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পাবনার সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সবজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
আরও পড়ুন: নাব্যতা সংকটে হবিগঞ্জের সুতাং নদী মরা খালে পরিণত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন