ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদকবিরোধী অভিযানে নওগাঁয় দুই কোটি টাকার মাদক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৭৩৩


মাদকবিরোধী অভিযানে নওগাঁয় দুই কোটি টাকার মাদক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৭৩৩

নওগাঁয়ে গত ছয় মাসের মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, পাশাপাশি ৭৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। একাধিক অভিযানে নিয়মিত মামলা, গ্রেফতার, মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ও কারাদণ্ডের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদের মধ্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং ১১টি থানার পুলিশ সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নওগাঁয় এসপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এ জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদক এবং বেশ কিছু মাদক সম্রাটকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শহরের নুনিয়া পট্রিতে সফল ও প্রশংসিত অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে সেখানে অভিযানের কারণে স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। মূলত যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার জন্য মাদক নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকারে নিয়ে কাজ করছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ৬ মাসের মধ্যে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে হেরোইন ৪৮৬ গ্রাম, ফেন্সিডিল ৬২৮ বোতল, ইয়াবা ৪ হাজার ২৩৯ পিচ, গাঁজা ২২৩ কেজি ১৯ গ্রাম, গাছ ১৯ কেজি, এম্পুল ইনজেকশন ১ হাজার ১৬ পিচ, চোলাই মদ ৮ হাজার ৭৮ লিটার, উপকরণ ৩ হাজার ২৯৬ লিটার, বিদেশি মদ ৪ লিটার এবং ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ১৯ হাজার ৬৪৪ পিচ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সব ঘটনায় ৩৯৪টি মামলায় এজাহার নামীয় ৬০৮ আসামীর মধ্যে ৫২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১৭২টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, এসপি স্যারের নির্দেশে মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় নেই। তাই এই উপজেলায় বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত আছে। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানিয়ে বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কিছু স্থানে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে আমাদের কাজ অব্যাহত আছে। ডিবির অফিসার ইনচার্জ হাসিবুল্লাহ হাবিব বলেন, বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি কাজ করতে হয়। তারপরও এসপি স্যারের নির্দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং জেলার অভিযানের ফলস্বরূপ ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার ও বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে এই অভিযান চলমান থাকবে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। মোট কথা, এই জেলাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সেই সাথে মাদক ব্যবসায়ীরা যেন পুনরায় সুযোগ নিতে না পারে, এজন্য আমাদের জেলা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাগেরহাটে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১১ পি.এম


বাগেরহাটে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

 

বাগেরহাটে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার শুভ উদ্বোধন করা হয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দ্বারা। শনিবার সকাল বেলায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে তিনি বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

উদ্বোধন সম্পন্ন হওয়ার পর, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বন প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করি। গাছ ঠিক উল্টো কাজটি করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। মানুষের জীবন ও গাছের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতি ও গাছপালা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৌদি আরবে যে নিমগাছ রোপণ করেছিলেন, তা তীব্র রোদ ও ৪০ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও মানুষকে স্বস্তি দেয়।"

প্রতিমন্ত্রী আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করছে। তবে, শুধু গাছ লাগালেই হবে না; সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। অবহেলায় গাছ মারা গেলে বা নষ্ট হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহিন কবির এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম আরও বক্তব্য রাখেন। সভার শেষে প্রতিমন্ত্রী মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন নার্সারির স্টল পরিদর্শন করেন এবং একটি ঔষধি ও ফলদ গাছের চারা রোপণ করেন।

সামাজিক বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় ১৯টি স্টল বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা নিয়ে অংশ নিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চারা বিক্রি চলবে এবং আগামী ১৭ জুলাই সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী এ বৃক্ষমেলা শেষ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি–মায়ামির জাদুতে আমেরিকায় বেকহ্যামের রাজত্ব!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২০ পি.এম


মেসি–মায়ামির জাদুতে আমেরিকায় বেকহ্যামের রাজত্ব!

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো টেলিভিশন চ্যানেল চালু করলে এখন মূলত তিন ধরনের বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। প্রথমটি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুড বা মুখরোচক খাবারের, দ্বিতীয়টি হলো ভয়ানক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পণ্যের, আর তৃতীয় প্রকারের বিজ্ঞাপন কেবল ডেভিড বেকহ্যামের।

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের সময়ে আমেরিকার আকাশ-বাতাস যেন এখন সম্পূর্ণ বেকহ্যামময় হয়ে গেছে। মাঠে না নেমেও, ৫২ বছর বয়সী সাবেক ইংলিশ মিডফিল্ডার এই বিশ্বকাপে একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আয় করতে চলেছেন।

বিশ্বকাপের শেষভাগের রোমাঞ্চ যখন তুঙ্গে, তখন মাঠের বাইরে বেকহ্যাম একটি অনন্য রূপকথা সৃষ্টি করছেন। এবারের টুর্নামেন্ট থেকে বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য চুক্তি মিলিয়ে তাঁর সম্ভাব্য আয় প্রায় আড়াই কোটি মার্কিন ডলার ছুঁতে চলেছে। যুক্তরাজ্যের মানুষ হয়তো পরিপূর্ণভাবে বোঝতে পারছে না যে, আমেরিকার বিনোদন ও বাণিজ্য অর্থনীতিতে বেকহ্যামের প্রভাব কতটা ব্যাপক। পপ সম্রাট অ্যান্ডি ওয়ারহল একবার বলেছিলেন, ‘অর্থ উপার্জন করা একটি শিল্প।’ বেকহ্যাম যেন সেই শিল্পকেই বাস্তবে রূপ দিয়েই নিজেকে একটি আস্ত ‘বিজ্ঞাপন মেশিনে’ পরিণত করেছেন।

স্টেডিয়ামের বড় পর্দা থেকে টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন; সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি দেখা যায়। কখনো তিনি চিপস খাচ্ছেন, কখনো গাড়ি চালাচ্ছেন, আবার কখনো কোনো দামি ঘড়ির বিজ্ঞাপনে হাসছেন। ফোর্বস সাময়িকী সতর্ক করে বলেছে, বেকহ্যামের জনপ্রিয়তা বর্তমানে প্রায় অতি-সম্পৃক্ততার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আমেরিকায় ব্রিটিশ তারকাদের সফল হওয়ার ইতিহাস নতুন নয়। তবে বেকহ্যাম দ্য বিটলস-এর মতো গান গেয়ে বা জে কে রাউলিংয়ের মতো বই লিখে তাঁকে রাজত্ব করছেন না। ফুটবলার হিসেবে তাঁর মাঠের দক্ষতা অনবদ্য হলেও আমেরিকাবাসী তাঁর সেই নিখুঁত ফ্রি-কিক বা কর্নারের জাদুকে স্মরণ করতে পারেনি। তিনি সফল হয়েছেন নিছক ‘বিখ্যাত হওয়ার অসাধারণ যোগ্যতা’ দিয়ে।

সম্প্রতি তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিনেতা টম ক্রুজের পাশে দাঁড়িয়ে হলিউড ওয়াক অব ফেমে নিজের তারকা উন্মোচন করেছেন। আমেরিকার রাজনৈতিক বিভাজন, হট্টগোল ও চিৎকার-চেঁচামেচিতে ভরা জনজীবনে বেকহ্যাম যেন এক শান্ত, মার্জিত ও নির্ভরতার প্রতীক। তিনি যেন আমেরিকার সেই কাঙ্ক্ষিত অভিভাবক, যার কাছ থেকে সবাই একটু প্রশংসা বা স্বীকৃতি চান।

বেকহ্যামের এই আমেরিকান সাম্রাজ্যের গড়ে ওঠার পিছনে কেবল গ্ল্যামার নয়, তার সুদূরপ্রসারী ব্যবসায়িক বুদ্ধি কাজ করেছে। মার্কিন মুলুকে তাঁর দৃঢ় ভিত তৈরি হয়েছে ‘ইন্টার মিয়ামি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিকানা অর্জনের মাধ্যমে। আর এই যাত্রায় তাঁর চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছেন কিউবান-আমেরিকান ধনকুবের মাস ভ্রাতৃদ্বয়—হোর্হে ও হোসে মাস সান্তোস। তাঁদের বাবা হোর্হে মাস সিনিয়র কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো বিরোধী আন্দোলনের এক প্রভাবশালী, সশস্ত্র ও আপসহীন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ম্যামির রাজনীতি ও প্রশাসনে ক্ষমতাধর এই মাস পরিবারের সাক্ষাত পেয়ে ফুটবলকে ব্যবসার মোক্ষম হাতিয়ারে পরিণত করেছেন বেকহ্যাম। বর্তমানে ইন্টার মিয়ামি ক্লাবের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারে, যার নতুন স্টেডিয়াম ‘ফ্রিডম পার্ক এরিনা’ এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়।

তবে, বেকহ্যামের এই বাণিজ্যিক সাফল্যের ঘটনার পিছনে ২০২৩ সালে আসা লিওনেল মেসির নামও আসে। মেসি ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার ফলে, বেকহ্যামের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য এক টানে বহু গুণ বেড়ে গেছে। এখন মিয়ামির উইনউড এলাকায় মেসির বিশাল এক ম্যুরাল রয়েছে যা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে, এবং এর একটি অংশে বেকহ্যাম নিজে ক্রেনে চড়ে রঙ করেছিলেন। মেসির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ইন্টার মিয়ামির জার্সি বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ বিক্রিত ফুটবল জার্সিতে পরিণত হয়েছে।

এখন চলতি বিশ্বকাপে মিয়ামিতে যখন ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, তখন নেপথ্যের আসল নায়ক হিসেবে আলোকে কেড়ে নিয়ে যাচ্ছেন বেকহ্যামই। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নিজের ব্র্যান্ডকে গড়ে তোলা আজ সফলতার চূড়ায় এসে পৌঁছেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ এড়িয়ে তেল পরিবহনের বিকল্প পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৩ পি.এম


হরমুজ এড়িয়ে তেল পরিবহনের বিকল্প পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির একটি নতুন এবং নিরাপদ পথ খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ মানছে। ইরান সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজে বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে। এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে একটি নতুন ও নিরাপদ তেল রপ্তানির পথ খুঁজতে উদ্যোগী হয়েছে।

এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য একটি পুরনো পাইপলাইনকে নতুন করে চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই পাইপলাইনটি ইরাকের উত্তরের শহর কিরকুক থেকে সিরিয়ার বানিয়াস পর্যন্ত যাবে। সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ এই বিষয়ে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এই কাজে ইরাক ও সিরিয়াকে সাহায্য করছে।

প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি গত কিছু দশক ধরে বন্ধ রয়েছে এবং এটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক কর্মকর্তা এই বিষয়ে বলেন, পাইপলাইনটি সম্ভবত পুরোপুরি নতুন করে বসাতে হবে। এতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কোম্পানিকে ইতিমধ্যে এই কাজের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি এবং ট্রাম্প এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, উত্তেজনার এই পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমান সফরে গেছেন। তিনি রাজধানী মাসকাটে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কিভাবে নিরাপদে করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে তাদের আলোচনা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে ‘আয়রন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৪ পি.এম


ভারতে ‘আয়রন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে ইসরাইল

ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংঘাতের জেরে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে এবার ভারতের দিকে ঝুঁকছে ইসরাইল। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস’ তাদের অত্যাধুনিক ‘আয়রন ডোম’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ভারতে যৌথভাবে উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসছে। সূত্র মারফত জানা গেছে যে, তামির ক্ষেপণাস্ত্র সহ-উৎপাদনের বিষয়ে ইতোমধ্যে ভারতের বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে রাফায়েল। মূলত একটি যৌথ স্থিতিস্থাপকতা চুক্তির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদি ভারতে এই উৎপাদন লাইন চালু হয়, তাহলে এটি রাফায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি অন্য দেশে ইন্টারসেপ্টর রপ্তানির ক্ষেত্রে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যাকআপ হিসেবে এই ভারতীয় কারখানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেলে তা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ রূপকল্পকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে নতুন দিল্লিকে একটি নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে জেরুজালেমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে যে ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক মূলত সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা এই দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যৌথ উৎপাদন, পরবর্তী প্রজন্মের সামরিক প্রযুক্তির সহ-উন্নয়ন এবং বিশেষ করে সংঘাত বা জাতীয় নিরাপত্তার তীব্র সংকটের সময়ে জরুরি সংগ্রহ ব্যবস্থা সচল করা। এই ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অনানুষ্ঠানিক কিন্তু গভীর প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এখন একটি সুসংগঠিত, স্থিতিস্থাপক এবং পারস্পরিক দায়বদ্ধতার রূপ নিতে যাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে ইসরাইলের কাছ থেকে সরাসরি অস্ত্র ক্রয়ে কিছু দেশের রাজনৈতিক আপত্তি থাকলেও, ভারতে এই সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে পারলে রাফায়েল সেই রাজনৈতিক বাধাগুলো সহজেই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। বর্তমানে রাফায়েল উত্তর ইসরাইলের একটি কারখানায় আয়রন ডোমের ইন্টারসেপ্টর তৈরি করে থাকে। এছাড়া গত বছর মার্কিন সংস্থা রেইথিয়নের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে তারা। ইসরাইলের বাইরে ভারতের এই উদ্যোগ তাদের সক্ষমতা আরও বাড়াবে। উল্লেখ্য, ইসরাইলের আরেকটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘এলবিট সিস্টেমস লিমিটেড’ ইতোমধ্যে ভারতে তাদের ‘হার্মিস ৯০০’ এবং ‘হার্মিস ৪৫০’ ড্রোনের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%