১০:২৯ এম
জাপান দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কতটা শক্তিশালী তা মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি দিয়ে পরিমাপ করা হয়। মানুষ যেভাবে ডলারের উপর ভিত্তি করে পণ্য ও সেবা ক্রয় করে, বিনিয়োগ করে, সরকারি ব্যয় এবং রপ্তানির মোট মূল্য সব কিছুর হিসাব জিডিপির মাধ্যমে করা হয়।
সাধারণভাবে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি দেশের মধ্যে উৎপাদিত এবং বাজারে বিক্রি হওয়া সমস্ত পণ্য ও পরিষেবার বাজার মূল্য হচ্ছে জিডিপি।
বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আইএমএফের ২০২৬ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ৩২.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের অর্থনীতি ২০.৮৫ ট্রিলিয়ন ডলারের।
আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু
তৃতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি, যার অর্থনীতি ৫.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার। জাপান চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে এবং এর অর্থনীতি ৪.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্য পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে, যার অর্থনীতি ৪.২৬ ট্রিলিয়ন ডলার। ষষ্ঠ স্থানে ভারত রয়েছে, যার অর্থনীতি ৪.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
২০ বছর আগে, ২০২৬ অর্থবছরে, জাপান দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল, তার অর্থনীতি ছিল ৪.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০ বছর পরও জাপানের জিডিপি একই জায়গায় রয়েছে।
অপর দিকে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম স্থানে ১৩.৮১ ট্রিলিয়ন ডলারের অধিকারী ছিল, বর্তমানে ৩২.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার।
এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে থাকা জাপান বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে নেমে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দা ও স্থবিরতা, ইয়েনের ব্যাপক অবমূল্যায়ন এবং তীব্র জনসংখ্যাগত সংকট। ২০১০ সালে চীনের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারানোর পর, জাপান দীর্ঘদিন তৃতীয় স্থানে ছিল। তবে ২০২৩ সালের শেষে, জার্মানি এবং ভারতের দ্রুত উন্নতির কারণে, জাপান চতুর্থ অবস্থানে নেমে গেছে।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ‘ইয়েন’-এর মান প্রায় ১৮-২০% কমে গেছে, যার ফলে জাপানের অর্থনৈতিক পতন ঘটে। এই বিষয়টিকে প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিকভাবে সমস্ত দেশের গৃহীত মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ডলারের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। কিন্তু ইয়েনের মান কমে যাওয়ায় ডলারের পরিমাপের তুলনায় জাপানের অর্থনীতির আকার ছোট দেখাচ্ছে, যা তাকে তালিকায় পিছিয়ে দিয়েছে।
এছাড়া, জাপানের জনসংখ্যা দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া এবং জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়াকেও বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মনোনীত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: লুলার বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা, ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন