ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্ব অর্থনীতির দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাপান এখন চতুর্থ কেন


বিশ্ব অর্থনীতির দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাপান এখন চতুর্থ কেন

জাপান দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কতটা শক্তিশালী তা মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি দিয়ে পরিমাপ করা হয়। মানুষ যেভাবে ডলারের উপর ভিত্তি করে পণ্য ও সেবা ক্রয় করে, বিনিয়োগ করে, সরকারি ব্যয় এবং রপ্তানির মোট মূল্য সব কিছুর হিসাব জিডিপির মাধ্যমে করা হয়।

সাধারণভাবে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি দেশের মধ্যে উৎপাদিত এবং বাজারে বিক্রি হওয়া সমস্ত পণ্য ও পরিষেবার বাজার মূল্য হচ্ছে জিডিপি।

বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আইএমএফের ২০২৬ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ৩২.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের অর্থনীতি ২০.৮৫ ট্রিলিয়ন ডলারের।

আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু

তৃতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি, যার অর্থনীতি ৫.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার। জাপান চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে এবং এর অর্থনীতি ৪.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্য পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে, যার অর্থনীতি ৪.২৬ ট্রিলিয়ন ডলার। ষষ্ঠ স্থানে ভারত রয়েছে, যার অর্থনীতি ৪.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

২০ বছর আগে, ২০২৬ অর্থবছরে, জাপান দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল, তার অর্থনীতি ছিল ৪.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০ বছর পরও জাপানের জিডিপি একই জায়গায় রয়েছে।

অপর দিকে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম স্থানে ১৩.৮১ ট্রিলিয়ন ডলারের অধিকারী ছিল, বর্তমানে ৩২.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে থাকা জাপান বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে নেমে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দা ও স্থবিরতা, ইয়েনের ব্যাপক অবমূল্যায়ন এবং তীব্র জনসংখ্যাগত সংকট। ২০১০ সালে চীনের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারানোর পর, জাপান দীর্ঘদিন তৃতীয় স্থানে ছিল। তবে ২০২৩ সালের শেষে, জার্মানি এবং ভারতের দ্রুত উন্নতির কারণে, জাপান চতুর্থ অবস্থানে নেমে গেছে।

আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে

দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ‘ইয়েন’-এর মান প্রায় ১৮-২০% কমে গেছে, যার ফলে জাপানের অর্থনৈতিক পতন ঘটে। এই বিষয়টিকে প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিকভাবে সমস্ত দেশের গৃহীত মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ডলারের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। কিন্তু ইয়েনের মান কমে যাওয়ায় ডলারের পরিমাপের তুলনায় জাপানের অর্থনীতির আকার ছোট দেখাচ্ছে, যা তাকে তালিকায় পিছিয়ে দিয়েছে।

এছাড়া, জাপানের জনসংখ্যা দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া এবং জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়াকেও বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মনোনীত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: লুলার বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা, ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ এম


৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার যুবক

মুন্সীগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ৫ কেজি গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জ থানার আদারিয়াতলা এলাকায় এ অভিযানটি পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মো. সুমন, যাদের বয়স ২৩ বছর এবং তিনি আদারিয়াতলা এলাকার আব্দুল কাদিরের সন্তান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল আদারিয়াতলা এলাকায় অভিযান শুরু করে। এ সময় হিরণের বাড়ির সামনে রাস্তা থেকে সুমনকে ৫ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়। মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আশফাক জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) সৈয়দ হাসিব আহম্মেদের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান পরিচালনা করেছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমের নির্দেশে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসায় নতুন নীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪১ এম


বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসায় নতুন নীতি

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক ভিসা পেতে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত (বন্ড) নেওয়ার নিয়মটি স্থায়ী করতে যাচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

অনলাইনে প্রকাশিত মার্কিন অফিশিয়াল রেকর্ড ‘ফেডারেল রেজিস্টার’-এর একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ৩ আগস্ট থেকে নতুন এই নিয়মটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এটি মূলত বি-১ (ব্যবসা) এবং বি-২ (পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বি-১ ও বি-২ ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে শর্ত হিসেবে সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে বলতে পারবেন। ২০২৫ সালে চালু হওয়া এক বছরের পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার বা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার জামানতের বিধান ছিল। তবে এবার চূড়ান্ত নীতিমালায় ৫ হাজার ডলারের সর্বনিম্ন সীমাটি বাদ দিয়ে শীর্ষ সীমা বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ৫০টি দেশের তালিকায় আফ্রিকার সিংহভাগ দেশের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া থেকে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের নাম রয়েছে।

তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এই অস্বাভাবিক অর্থ জামানত রাখার বাধ্যবাধকতা বৈধ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকে চরমভাবে নিরুৎসাহিত করবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তারা বর্ণভিত্তিক বৈষম্য এবং বৈষম্যমূলক নীতির অভিযোগ এনেছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অবৈধ অবস্থানজনিত খরচ বাঁচাতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে নীতিটি শুধু অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৈধভাবে প্রবেশের পথও দুর্গম করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি নির্দেশনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকির ফলস্বরূপ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার বিষয়টি ওয়াশিংটন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

রোববার, ২ আগস্ট, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ সম্পর্কিত তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাহরাইন, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো অনলাইনে একযোগে এই বিশেষ সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য যে কোনো সময় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘কঠোর আঘাত’ হানার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনি তেহরানের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন কারণ তারা চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না।

এই হুমকির পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স নাগরিকদের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের বিমান চলাচল বন্ধ এবং ফ্লাইট বাতিলের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এমনকি কোনো জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য সফর না করার সুপারিশও করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা তাদের নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকদের সম্ভবপ নির্ভরযোগ্য বিকল্প উপায়ে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য বলেছে।

এ ছাড়া, অঞ্চলটির নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে বাড়তি নির্দেশিকা প্রদান করা হয়েছে। যেমন, জর্ডানের মার্কিন দূতাবাস সম্প্রতি নাগরিকদেরকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোর চারপাশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। অপরদিকে, জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ইসরায়েলে বসবাসরত নাগরিকদের দ্রুত নিকটতম আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান চিহ্নিত করার পরামর্শ দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের পক্ষে কি ফেরেশতারাও যুদ্ধ করছে! শত্রুর পতন অনিবার্য?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ এম


ইরানের পক্ষে কি ফেরেশতারাও যুদ্ধ করছে! শত্রুর পতন অনিবার্য?

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতকে কেউ সামরিক কৌশলের লড়াই হিসেবে দেখছেন, কেউ বা ভূ-রাজনীতির বাস্তববাদী একটি সংঘর্ষ হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্ব পরাশক্তি ও তাদের মিত্রশক্তি দ্বারা যে ইরান অর্ধশত বছর ধরে নিষেধাজ্ঞাপীড়িত, একঘরে হয়ে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, সামরিক প্রযুক্তি আমদানি করতে পারেনি, এমনকি আধূনিক বিশ্বে একটি যুদ্ধবিমানও কিনতে দেয়া হয়নি তেমন একটি দেশ নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়েই বিশ্বের পরাশক্তি তথা বিশ্ব মোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের মত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভয়ংকর ও বিধ্বংসী প্রতিরোধ এমনভাবে গড়ে তুলেছে যে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের কোন যুদ্ধের সমীকরণও সেখানে হিসেব মেলাতে পারছে না। কিন্তু বিশ্বাসী মানুষের কাছে ইতিহাস কখনো কখনো কেবল অস্ত্রের ইতিহাস নয়; বরং এটি ঈমান, ধৈর্য, পরীক্ষা এবং আল্লাহর সাহায্যের ইতিহাসও। তবে কি ইসলামের ইতিহাসের বদর, খন্দক ওহুদ, ইয়ামামার যুদ্ধের মত ইরানের পক্ষ হয়ে আল্লাহর ফেরেশতারাও যুদ্ধ করছে?

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে ইরান এমন এক রাষ্ট্র, যাকে পশ্চিমা বিশ্ব—বিশেষ করে বিশ্বব্যবস্থায় প্রভাবশালী মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা—নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে দুর্বল করে রাখার চেষ্টা করেছে। অথচ আজ সেই রাষ্ট্রটিই বিশ্বের সুপার পাওয়ার এবং দীর্ঘ কয়েক দশকের অপরাজেয় বিশ্ব মোড়ল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ৫ মাসে ইতিহাসের সেরা ও মারাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে । 

 
এমনকি বিশ্ব মোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের একগুঁয়েমি ও আধিপত্য বিস্তার চলতে থাকায় তার ভয়ে বিশ্বের অপর উদীয়মান পরাশক্তিগুলোও তার সাথে যুদ্ধ তো দূরের কথা, কখনো সংঘর্ষেও জড়াতে চায়নি, কিন্তু ইরান এমন ভয়াবহ এবং মারাত্মক ও বিধ্বংসী এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, কোটি কোটি ডলার মূল্যের সর্বাধুনিক রাডার সিস্টেম, ড্রোন, অস্ত্রাগার, পঞ্চম প্রজন্মের সর্বাধুনিক স্টিল্থ যুদ্ধবিমান, রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার,  সর্বাধুনিক থার্ড কিংবা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, বিশ্বসেরা মার্কিন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র - সবকিছু মাটিতেই তছনছ করে দিয়েছে ইরানের তুলনামূলক সামান্য মূল্যের ড্রোন  এবং বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন রেঞ্জের ও ক্ষমতার হাইপারসনিক মিসাইলগুলো। ফলে বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তার মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সামরিক ঘাঁটি ,সেনা ও অবশিষ্ট রসদ সবকিছু নিয়ে একপ্রকার বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে সরিয়ে ইসরাইলের মাটি ও ঘাটিতে স্থানান্তর করতে হচ্ছে এবং নতুন করে যুদ্ধ কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন বিপর্যয়কর পরাজয় দেখে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র শক্তি তথা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোও ইরানের বিরুদ্ধে গিয়ে যুদ্ধে যোগ দিতেও সাহস করছে না।

একে কেউ কেউ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, ড্রোন সক্ষমতা বা সামরিক পরিকল্পনার ফল বলতেই পারে। সে ব্যাখ্যা অমূলক নয়। কিন্তু একজন ঈমানদার মানুষের কাছে প্রশ্ন উঠতেই পারে—ইতিহাসের প্রতিটি ঘটনাই কি কেবল দৃশ্যমান শক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়? নাকি অদৃশ্য জগতেরও কোনো বাস্তবতা রয়েছে, যার কথা পবিত্র কুরআন ও ইসলামের ইতিহাস বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়?

দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী শক্তির ক্রমাগত গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী যুদ্ধে পবিত্র ভূমি মুসলিম ও ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের প্রথম কিবলা আল-আকসার মাটিতে বিশ্বাসী ও খাঁটি মুসলিমদের রক্ত ঝরছে। নারী, শিশু ও নিরীহ মানুষের মৃত্যু বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করছে। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিশ্বাসঘাতক ও মার্কিন ইহুদীদের দালাল অনেক রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও আজ প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান, কাতার, কুয়েত ও ওমান সহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো তাদের রাষ্ট্র ক্ষমতা ও বিলাসিতার লোভে তাদের নীতি, আদর্শ যে বিসর্জন দিয়েছে এমন অবস্থান নিয়েও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা রয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, এসব দেশ প্রকাশ্যে বা নীরবে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়ে এমন এক বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনে গণ হত্যাকারী ইসরাইলের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা তো দূরের কথা, মৌখিক ভাবেও তারা এই বর্বরতা ও মুসলিম নিধনের কর্মকান্ডকে ঘৃনা প্রকাশ করছে না। ফলে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থকদের বিশ্বাস, মুসলিম উম্মাহর এই বিভক্তিই ফিলিস্তিনের ট্র্যাজেডিকে দীর্ঘায়িত করেছে যেখানে মহান রাব্বুল আলামিন নিজে হয়তো বাধ্য হয়ে বর্বর ইহুদিবাদীদের দমনে মাঠে তার ফেরেশতাদের নামিয়ে দিয়েছেন।


এই প্রেক্ষাপটেই একজন বিশ্বাসীর মনে প্রশ্ন জাগে—মানুষ যখন তার সামর্থ্যের শেষ সীমায় পৌঁছে যায়, তখন কি আল্লাহর সাহায্যের দুয়ার উন্মুক্ত হয় না ? ইসলামের ইতিহাস তো বারবার সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বদর, উহুদ, খন্দক, তাবুক, সিফফিন, মুতা' ইয়ারমুকের  মতো অনেক অসম যুদ্ধে দৃশ্যমান শক্তির চেয়েও বিশ্বাসীদের অল্প শক্তিও বড় হয়ে উঠেছিল । আল্লাহর রাসুল ও তার সাহাবীদের ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর সাহায্যের প্রতি অবিচল বিশ্বাস তাদেরকে অসম শক্তির যুদ্ধেও জয়লাভ করিয়েছিল।

তাই আজকের ঘটনাপ্রবাহকেও অনেক ঈমানদার মানুষ কেবল সামরিক শক্তির হিসাব দিয়ে নয়, বরং আল্লাহর অদৃশ্য ফয়সালার সম্ভাবনার আলোয় দেখার চেষ্টা করছেন। এটি নিছক একটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও কাল্পনিক বিষয় নয় বরং তা বাস্তবেই ইসলামের ইতিহাসে এমন অসম যুদ্ধের ঘটনাগুলো ঘটেছিল।

দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের প্রথম কিবলা ও অসংখ্য নবী রাসুলের পদচারণায়  মুখরিত হওয়া পবিত্র ও পূণ্যভূমি ফিলিস্তিনে যুগের পর যুগ ইহুদী খ্রীষ্টানদের গণহত্যায় নিরীহ মুসলিমদের রক্ত ঝরছে এবং এখনো তা বর্তমান। গত বছর দুয়েক এর মধ্যেই নির্বিচার গণহত্যায় প্রায় ৭৫ হাজার বিভিন্ন বয়সী যুবক, বৃদ্ধ, নারী, শিশু ও নিরীহ মানুষের  মৃত্যু বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করছে। একই সঙ্গে বহু মুসলিম দেশের নিষ্ক্রিয়তা বা সীমিত প্রতিক্রিয়া নিয়েও মুসলিম বিশ্বে গভীর হতাশা বেড়েই চলেছে। দীর্ঘ ঈমানি পরীক্ষার পর অনেকের বিশ্বাস, মুসলিম উম্মাহর এই দীর্ঘ পরীক্ষা একদিন না একদিন আল্লাহর বিশেষ ফয়সালার দিকে গড়াবে এবং হয়তো এখন সেটা ইরানের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে।

ইসলামের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়—বদর, উহুদ, খন্দকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে মুসলমানরা সংখ্যায় ও অস্ত্রে পিছিয়ে ছিল। তবুও কুরআনে উল্লেখ রয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর নির্দেশে ফেরেশতাদের মাধ্যমে মুমিনদের সাহায্য করেছেন।

সেই ঘটনাগুলো মুসলমানদের বিশ্বাসের-ই অংশ। সেখান থেকেই প্রশ্ন—আজ যদি কোনো মুসলিম রাষ্ট্র এমন এক অসম লড়াইয়ে টিকে থাকে, যা কেবল প্রচলিত সামরিক হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন বলে মনে হয়, পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকদের কল্পনা ও চিন্তাতেও যা ধরা পড়ছে না, তখন একজন বিশ্বাসী মানুষ কি এ সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে পারেন না যে, ইরানের মাধ্যমে যুদ্ধের ময়দানে আল্লাহ তাঁর অদৃশ্য সাহায্য দান করছেন? খোদা ভীরু বিশ্বাসীদের কাছে এই প্রশ্ন অমূলক নয়।


বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটা নিশ্চিত নয় যে, আল্লাহর ফেরেশতারা ইরানের পক্ষে যুদ্ধ করছেন। তবে ইসলামের ইতিহাসের সেই অসম যুদ্ধগুলোর কথা স্মরণ করলে এমনটা মনে করার যথেষ্ট কারণ তৈরি হয়। কারণ অদৃশ্য জগতের চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই। তবে একজন ঈমানদার হিসেবে এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন, তখন তিনি এমনভাবে সাহায্য করেন যা মানুষের হিসাব-নিকাশকে অতিক্রম করে যায়। ইসলামের ইতিহাসের সেই অসম যুদ্ধগুলোতেও এর বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। আর আল্লাহ যেখানে তার বান্দার পক্ষে দাঁড়িয়ে যান তখন তার সৃষ্টি জগতের সমস্ত শক্তি দিয়েও তার বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব নয়।

বাস্তববাদীদের মতে সাম্প্রতিক বিশ্বশক্তিগুলোর ইতিহাসও আমাদের শিক্ষা দেয় যে, একসময় রোমান সাম্রাজ্য ছিল অপরাজেয় শক্তি, এরও অনেক পরে সাম্প্রতিক বিশ্বে চোখে দেখা ক্ষমতাধর স্পেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন এর মতো প্রতিটি পরাশক্তিই নিজেদের ক্ষমতাকে স্থায়ী মনে করেছিল যা আজকে  রোমান সাম্রাজ্যের মতো ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করেছে, পৃথিবীতে কোনো আধিপত্যই চিরস্থায়ী নয়। স্থায়ী কেবল আল্লাহর ইচ্ছা ও তাঁর ফয়সালা।

আজ যদি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরাইল মনে করে যে, সামরিক শক্তির জোরে একটি জাতিকে চিরতরে ধ্বংস করা যাবে, কিংবা তাদের মিত্র শক্তিগুলো মোনাফেক, মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলো যদি মনে করে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধ করবে এবং ইরানকে পরাজিত করবে তাহলে তারাও হয়তো সেই মারাত্মক ধ্বংসলীলায় পরিণত হবে যা তাদের কল্পনারও বাইরে। ইতিহাস তাদের জন্যও একই শিক্ষা গ্রহণ করার ইঙ্গিত প্রদান করে। শক্তি যত বড়ই হোক, তা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা আল্লাহর ইচ্ছার কিংবা ক্ষমতার ঊর্ধ্বে নয়।

ইহুদীবাদী ইসরাইল ও বিশ্ব পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দূর্বল মনে করা ইরানের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে দেখে মনে হয় এটি কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয় বরং এটি সম্পূর্ণ একটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধি। আধ্যাত্মবাদীদের সূত্র মতে, এটা একটা শক্তিশালী বিশ্বাস যে, সারা বিশ্বের মুসলিমদের উপর ইহুদি খ্রিস্টানদের দীর্ঘদিনের গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ, নিপীড়ন, রক্তপাত ও ঈমানের পরীক্ষার পর আল্লাহ চাইলে তাঁর অদৃশ্য সাহায্যের দরজা খুলে দিতে পারেন। সেই সাহায্য কীভাবে আসে, তা মানুষের পক্ষে সবসময় উপলব্ধি করা সম্ভব নয়, যা হয়তো ইরানের পক্ষে এখন ঘটছে।

তাই আজ যখন ইরানের প্রতিরোধ অনেকের কাছে বিস্ময়ের জন্ম দিচ্ছে, তখন একজন বিশ্বাসী হিসেবে অনেক বিশ্বাসীদের মনে হয়—এটিকে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা সামরিক প্রযুক্তির শক্তি হিসেবে নয়, আল্লাহর ইচ্ছা ও সাহায্যের সম্ভাবনার আলোকেও দেখা যেতে পারে। যদি সত্যিই আল্লাহ তাঁর সত্যিকারের মুমিন বান্দাদের সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি-ই সেই সিদ্ধান্তের সামনে স্থায়ীভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। যারাই তার বিপক্ষে যুদ্ধে নামবে তারা সকলেই পরাজিত এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে এমনকি মক্কা মদিনা ধারনকারী সৌদি আরবও। কারণ তারাও ইহুদি নাছারাদের প্রথম শ্রেণীর তাবেদার। আল্লাহ চাইলে শুধু মাত্র মক্কা মদিনাকে রক্ষা করে তাদেরকেও ধ্বংস করতে পারেন।

এটি ইসলামের ইতিহাসের সকল অসম যুদ্ধে মুসলিমদের জয় লাভের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি যুদ্ধ বলে আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও অনুমান করা মোটেও অমূলক নয়, কারণ অদৃশ্য জগতের জ্ঞান একমাত্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মালিক ও সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলার কাছেই রয়েছে-যা অবিশ্বাসীদের উপলব্ধি যোগ্য নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%