বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৯ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সকাল হলেই যেন উধাও হয়ে যান, যদিও রাতভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। ৮০ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কার্যক্রমের একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডেইলি বিস্ট। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জুন মাসের পুরো সময়টাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে সকাল ১১টার আগে জনসমক্ষে ট্রাম্পকে দেখা গেছে মাত্র তিন দিন। তার সরকারি কর্মসূচির প্রথম ভাগে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ উল্লেখ থাকে, কিন্তু এই সময় তিনি আসলে কী করেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের রাতজাগার অভ্যাস নতুন নয়। গভীর রাত পর্যন্ত তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন এবং অন্যদের পোস্ট শেয়ার করেন। তবে সকালে জনসমক্ষে তার উপস্থিতি খুবই কম। ডেইলি বিস্টের গত তিন মাসের কর্মসূচি বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে সকাল ১১টার আগে ট্রাম্পকে জনসমক্ষে দেখা গেছে মাত্র তিনবার। যদিও সকাল ১১টা থেকে দুপুরের প্রথম ভাগে কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, তবে তার অধিকাংশ প্রকাশ্য কর্মসূচি ছিল বিকেলের দিকে। দেশের বাইরে সফরের তিন দিন ছাড়া জুন মাসে সকালে তাকে প্রায় দেখা যায়নি।
ডেইলি বিস্ট জানায়, জুন মাসে ৩০ দিনের মধ্যে ২৬ দিন সকাল ৮টা থেকেই ট্রাম্পের কর্মসূচিতে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ উল্লেখ ছিল। এই সময়ের বাইরে জনসমক্ষে তার উপস্থিতি ছিল দিনের পরের ভাগে, কখনো কখনো একেবারেই ছিল না। মে মাসেও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে ৩১ দিনের মধ্যে ২৬ দিন সকাল ৮টায় ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ রাখা হয়েছিল। এপ্রিলে মাসের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকেই এই সময় উল্লেখ ছিল।
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প গভীর রাত পর্যন্ত ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এবং অন্যের পোস্ট শেয়ার করার অভ্যাস বজায় রেখেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেলের বিভিন্ন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখা গেছে। ওভাল অফিস, গোলটেবিল বৈঠক এমনকি হোয়াইট হাউসের মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তার চোখ বুজে আসার ঘটনা ঘটেছে।
‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ কি ঘুমানোর সময়?
ট্রাম্পের রাতজাগার অদ্ভুত অভ্যাস এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ ব্যবহারের বিষয়টি উঠে এসেছে হোয়াইট হাউসের দুই সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা বই ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এ। বইটিতে লেখকরা উল্লেখ করেছেন, কখনো কখনো সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন না তার সহযোগীরা। পরে তারা বুঝতে পারেন, আগের রাতে ফোনে কথা বলা কিংবা টেলিভিশন দেখতে দেখতে তিনি প্রায় সারারাত জেগে ছিলেন। ভোর ৪টা বা ৫টার দিকে ঘুমাতে যেতেন।
বইয়ে এমন একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একদিন বেলা গড়িয়ে গেলেও ট্রাম্পের কাছ থেকে কোনো খবর পাচ্ছিলেন না তার সহযোগীরা। তাদের যোগাযোগের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত একজন সহযোগী প্রেসিডেন্টের খোঁজ নিতে তার আবাসিক কক্ষে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, ট্রাম্প তখনো ঘুমাচ্ছেন। বইটিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প রাতজাগা মানুষ হিসেবে পরিচিত। হোয়াইট হাউসে থাকা অবস্থায় তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আলাদা শয়নকক্ষে ঘুমান।
জুনে সকালে মাত্র তিনবার জনসমক্ষে
ডেইলি বিস্টের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুন মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে সকাল ১১টার আগে ট্রাম্পকে দেখার তিনটি ঘটনা ছিল মাসের শেষ দিকের একটি সপ্তাহান্তে। শনিবার সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটে হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের গাড়িবহর রওনা হয় তার নিজস্ব ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবের উদ্দেশে। পরদিন রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে লাফায়েত পার্কে যেতে দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের সংবাদকর্মীরা তার এই সফরের তথ্য জানান। তার সহযোগী মার্গো মার্টিনও এ সফরের একটি ছোট ভিডিও প্রকাশ করেন।
এরপর পটোম্যাক নদীর তীরবর্তী হেইনস পয়েন্ট গলফ কোর্সে যান ট্রাম্প। ওই গলফ কোর্সটি তিনি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করছেন। পরে সকাল ১১টা ৪১ মিনিটে ভার্জিনিয়ায় নিজের গলফ ক্লাবে পৌঁছান তিনি। জুন মাসে সকালে জনসমক্ষে ট্রাম্পের উপস্থিতির আরেকটি ব্যতিক্রম ছিল বিদেশ সফর। ১৫ থেকে ১৭ জুন বিশ্বনেতাদের জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিতে ফ্রান্সে তিন দিনের সফরে যান তিনি। ওই সফরের সময় তাকে সকালে দেখা যায়।
এসব ঘটনা ছাড়া জুনের প্রতিটি দিন সকাল ১১টার আগে জনসমক্ষে আসেননি ট্রাম্প।
সকাল ১০টার অনুষ্ঠানও শুরু হয় দেরিতে
জুন মাসে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সকালে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা একমাত্র অনুষ্ঠানও নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি। ১০ জুন সকাল ১০টায় ‘সিকিউর আমেরিকা অ্যাক্ট’ স্বাক্ষরের কথা ছিল ট্রাম্পের। কিন্তু অনুষ্ঠানটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় পিছিয়ে যায়। সকাল ১১টা ১৭ মিনিটে সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ১১ জুন সকাল ৮টায় ফক্স নিউজের অনুষ্ঠান ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এ ফোনে যুক্ত হয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে তাকে ক্যামেরায় দেখা যায়নি।
এ ছাড়া দিনের প্রথম ভাগের কর্মসূচিতে সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ উল্লেখ করা থাকে। সকাল ১১টার থেকে ‘নীতিনির্ধারণী বৈঠক’ থাকার কথাও বলা হয়। তবে এসব বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশের অনুমতি থাকে না। দুপুর ১২টার অনুষ্ঠানও ছিল বিরল। ২৪ জুন বুধবার দুপুরে দ্বিদলীয় সমর্থন পাওয়া একটি আবাসনবিষয়ক বিলে স্বাক্ষর করতে ক্যাপিটল হিলে যাওয়ার কথা ছিল ট্রাম্পের। কিন্তু সকাল ১১টার কিছু আগে ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়ে অনুষ্ঠান বাতিল করেন তিনি। এতে ক্যাপিটল হিলে থাকা রিপাবলিকান নেতারা হতবাক হয়ে যান। স্ট্যাচুয়ারি হলে তার স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ তৈরি করে অপেক্ষা করছিলেন তারা।
শেষ পর্যন্ত দুপুর ১টার কিছু পর ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকান সিনেটরদের মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন ট্রাম্প। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
হোয়াইট হাউসের জবাবেও বিতর্ক
ডেইলি বিস্ট ট্রাম্পের সকালে জনসমক্ষে কম উপস্থিতি এবং দিনের প্রথম ভাগে তাকে কেন অধিকাংশ সময় আড়ালে রাখা হয়, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। তবে হোয়াইট হাউস সরাসরি তার কর্মসূচি নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এর পরিবর্তে হাফিংটন পোস্টকে আগে দেওয়া একটি বক্তব্য হুবহু পাঠিয়ে দেয়। ওই বক্তব্যে বৈঠকের সময় ট্রাম্পের ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রখর বুদ্ধিমত্তা, অসাধারণ কর্মশক্তি এবং ইতিহাসে নজিরবিহীন সহজলভ্যতা আগের প্রশাসনের চিত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। সে সময় ডেমোক্র্যাটরা এবং ব্যর্থ হাফিংটন পোস্টের মতো পুরোনো সংবাদমাধ্যমগুলো জো বাইডেনের গুরুতর মানসিক ও শারীরিক অবনতির বিষয়টি আমেরিকার জনগণের কাছ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করেছিল।’
৩২ বছর বয়সি ডেভিস ইংল ফ্লোরিডার সাউথইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে যোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক করেছেন। তার বাবা কেন্ট ইংল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট। ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ বলতে আসলে কী বোঝায়, সে বিষয়েও ডেইলি বিস্টের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি হোয়াইট হাউস।
তবে এই সময়ের মধ্যেও কখনো কখনো ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন ট্রাম্প। বিশেষ করে কেবল টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদে যা দেখানো হয়, তার প্রতিক্রিয়ায় প্রায় তাৎক্ষণিক পোস্ট করার ঘটনাও রয়েছে। যদিও জুন মাসে এমন পোস্টের সংখ্যাও ছিল কম।
‘এক্সিকিউটিভ টাইম’-এর শুরু ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে। প্রেসিডেন্টের সরকারি কর্মসূচিতে প্রথম মেয়াদ থেকেই ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। মূলত এই সময়কে প্রেসিডেন্টের নিজের ইচ্ছামতো কাটানোর জন্য নির্ধারিত অনানুষ্ঠানিক সময় হিসেবে রাখা হয়।
ডেইলি বিস্টের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মে মাসের ৩১ দিনের মধ্যে ২৬ দিন সকাল ৮টা থেকে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ ছিল ট্রাম্পের কর্মসূচিতে। ওই মাসে ১১ দিন সকাল ১১টার আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এর মধ্যে চার দিন ছিল গলফ খেলার জন্য এবং তিন দিন ছিল চীন সফরের সময়। অর্থাৎ মে মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে মাত্র চার দিন সকাল ১১টার আগে জনসমক্ষে দেখা গেছে তাকে।
১৯ মে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে হোয়াইট হাউসের বাইরে এসে নিজের বলরুম নির্মাণকাজ সাংবাদিকদের দেখান ট্রাম্প। পরদিনই কোস্ট গার্ড একাডেমিতে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে কানেকটিকাটে যান তিনি। ৫ মে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের কথা থাকলেও অনুষ্ঠানটি প্রায় আধা ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। ২৬ মে সকালে নিজের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ওয়াল্টার রিড সামরিক চিকিৎসাকেন্দ্রে যান ট্রাম্প। সেখানে ২২ জন বিশেষজ্ঞ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরে তার চিকিৎসক জানান, প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা চমৎকার। তবে চিকিৎসকের এই মূল্যায়ন নিয়ে ব্যাপক সংশয় ও উপহাসের সৃষ্টি হয়।
এপ্রিলেও একই চিত্র
এপ্রিল মাসেও সকাল ৮টা থেকে প্রতিদিন ট্রাম্পের কর্মসূচিতে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ রাখা হয়েছিল। ওই মাসে সকালে কয়েকটি টেলিফোন সাক্ষাৎকার দিলেও সকাল ১১টার আগে জনসমক্ষে অনুষ্ঠানে অংশ নেন মাত্র ছয়বার। এর মধ্যে একটি ঘটনা ছিল বেশ আলোচিত। ১ এপ্রিল খুব সকালে সুপ্রিম কোর্টে যান ট্রাম্প। সেখানে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত মামলার মৌখিক শুনানির প্রথম অংশ দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুনানি শেষ হওয়ার আগেই মাঝপথে আদালত ছেড়ে চলে যান। মামলায় শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে তার প্রশাসন। ২ এপ্রিল সকালে হোয়াইট হাউসের ইস্টার এগ রোল অনুষ্ঠানে অংশ নিতেও দেখা যায় তাকে। অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্প ট্রুম্যান ব্যালকনিতে আসেন সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে।
এরপর শনিবার সকালে নিজের গলফ ক্লাবে যান তিনি। ১৮ এপ্রিল সকাল ৯টার কিছু পর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেন এবং কয়েকটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এরপর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে যায়, সকালে আর কোনো অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি তাকে। অবশেষে ২৮ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসকে স্বাগত জানান ট্রাম্প। সেদিনও নির্ধারিত সময়ের দেরিতে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সকাল ১১টার কিছু আগে শুরু হয় সেই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান।
তথ্যসূত্র: দ্য বিস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাযা ও দাফনে বাধা প্রদান এবং জামাত শিবিরের দেশ বিরোধী চক্তান্তের প্রতিবাদে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনের সড়কে জেলা ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, নেত্রকোনা জেলা সংসদের যুগ্ম আহবায়ক শামসুল হক মাহবুব, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান তালুকদার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহবায়ক হায়দার জাহান চৌধুরী, আব্দুল মতিন খান, মোজাম্মেল হক বাচ্চু, আক্কাস আলী, তরিকুল ইসলাম, আলী আজগর খান পন্নী, বোরহান উদ্দিন, পূর্বধলার আবদুল আজিজ, কেন্দুয়ার নুরুল হক, কলমাকান্দার আব্দুল বারী চান মিয়া এবং উদীচীর সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান। মানববন্ধন পরিচালনা করেন সুব্রত ঘোষ।
মানববন্ধনে বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাযা ও দাফনে বাধা প্রদান এবং জামাত শিবিরের দেশ বিরোধী চক্তান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধার লাশটি কবর থেকে তুলে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের দাবী জানান। বক্তারা স্বাধীনতা বিরোধী জামাত শিবিরের সম্প্রতি দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ টুর্নামেন্টের প্রথম দিনে মাঠে নামবে বিভিন্ন দল। বিকেল সাড়ে ৩টায় উদ্বোধনী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে লড়াই শুরু হবে। এরপর রাত ৮ টায় স্বাগতিক বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভুটানের সঙ্গে।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি ম্যাচের সম্প্রচার এবং গ্যালারির টিকিটের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যারা স্টেডিয়ামে বসে খেলা উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্ব এবং সেমিফাইনালের প্রতিটি ম্যাচ-ডেতে অনুষ্ঠিত দুটি ম্যাচের জন্য একটি মাত্র টিকিটের মূল্য দিতে হবে। অর্থাৎ, দর্শকরা একই দিনে মাঠে দুটি ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন, এবং এর জন্য আলাদা টিকিট কেনার প্রয়োজন হবে না। দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বার ম্যাচ শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে খুলে দেওয়া হবে।
যারা স্টেডিয়ামে আসতে পারবেন না, তারা টেলিভিশন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই সাফের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে পারবেন। জনপ্রিয় ক্রীড়া চ্যানেল টি স্পোর্টস টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে। এছাড়াও, বাংলালিংকের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে খেলা দেখা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই সময়ের মধ্যে ৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মিরপুর বিভাগ থেকে ১৪১ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৯৪ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৯০ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৮৫ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪৬ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৪২ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪১ জন, রমনা বিভাগ থেকে ৩৭ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১৫০ গ্রাম গাঁজা, ২৫৩৯ পিস ইয়াবা, ১.৮৫ গ্রাম হেরোইন, ৩টি মোটরসাইকেল, ৮টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া, একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সউদী আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ৬৬টি রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং একটির লাইসেন্স বাতিল করেছে। এ সিদ্ধান্তটি গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে বিলম্ব, অভিযোগের সমাধান না করা এবং নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে পরিচালিত তদারকি ও তল্লাশি অভিযানের ফলস্বরূপ মোট ৬৭টি এজেন্সির বিরুদ্ধে এই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, রিক্রুটমেন্ট ও শ্রমিক সেবা সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন, গ্রাহকদের পাওনা টাকা ফেরত দিতে দেরি করা এবং সেবাগ্রহীতাদের করা অভিযোগের সমাধান না করার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থার মুখে পড়া ৬৭টি এজেন্সির মধ্যে ৬৬টিকে অবিলম্বে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনিয়ম শুধরে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ১টি এজেন্সির লাইসেন্স সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক উভয় পক্ষের অধিকার সুরক্ষিত আছে কি না এবং রিক্রুটমেন্ট অফিস ও কোম্পানিগুলো সঠিক নিয়মনীতি অনুসরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে। সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানায় যে, রিক্রুটমেন্টের নিয়ম কিংবা অন্য যেকোনো আইন অমান্যকারী এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।
সরকার এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে শ্রমবাজারে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য, রিক্রুটমেন্ট সেবার মান উন্নত করার জন্য এবং এজেন্সিগুলো যেন তাদের চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে।
গৃহকর্মী নিয়োগ ও অন্যান্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতা এবং নিয়োগকর্তাদের সরকারের অনুমোদিত 'মুসানেদ' প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে ইলেকট্রনিক চুক্তি সম্পাদন করতে পারবেন। এছাড়া, সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে রেটিং দেওয়া, আবেদনের আপডেট ট্র্যাক করা এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা রিপোর্ট করার সুযোগও রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মটি পুরো রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনবে এবং নিবন্ধিত লাইসেন্সধারী এজেন্সির সঙ্গে নিরাপদ লেনদেনে গ্রাহকদের সহায়তা করবে। সউদী শ্রমবাজারকে আরও নির্ভরযোগ্য, প্রতিযোগিতামূলক এবং টেকসই করে তোলার লক্ষ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ