০৮:৫৮ এম
রাশিয়া রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ৫০ জনের বেশি মানুষ। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
হামলার সময় রাশিয়ার একটি ক্ষепণাস্ত্র পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন
নিরাপত্তার স্বার্থে ন্যাটো সঙ্গে সঙ্গে তাদের যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। পরে ক্ষেপণাস্ত্রটি পোল্যান্ডের একটি গ্রামীণ এলাকায় পড়ে। এতে কেউ হতাহত হননি এবং কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি। রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
তবে সর্বশেষ এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজধানী কিয়েভও ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি। বিমান হামলার সতর্কতা জারি হওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পাতাল রেলের স্টেশনগুলোতে ছুটে যান।
কিয়েভের পাতাল রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর ৫৬ হাজারের বেশি মানুষ স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে রাশিয়া।
পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় মস্কো এই দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ক্যাবের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি, বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার
জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩৪।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, এই হামলায় রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার তৈরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাদুশনে এলাকায় দীর্ঘদিন পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। জেলেনস্কি আরো বলেন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ক্রমেই গভীর হচ্ছে।
তার অভিযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, ইউরোপের সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন এবং ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের ওপর হামলার মাধ্যমে এই জোট আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ন্যাটো জানিয়েছে, হামলার সময় রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে। যদিও এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবু ঘটনাটি ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো আশঙ্কা করছে, চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ভবিষ্যতে তাদের ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এ ঘটনাকে রাশিয়ার আরেকটি বেপরোয়া পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের এটি একটি বিপজ্জনক পরিণতি। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন।
তবে তিনি বলেন, পোল্যান্ডকে সরাসরি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়েছে—এমনটি বিশ্বাস করার কোনো কারণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার এই হামলা এমন সব এলাকায় চালানো হয়েছে, যেখানে অস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎপাদনের স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর ফলে দেশটিতে জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলেনস্কি বলেন, সর্বশেষ হামলায় ইউক্রেনের অন্তত ১০টি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অসংখ্য বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের বিমানঘাঁটি, অস্ত্র কারখানা, সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রসদ সরবরাহের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ড্রোন তৈরির কারখানা ও অস্ত্র সংরক্ষণাগারও ছিল।
আরও পড়ুন: নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রথমবার সমুদ্রে সফলভাবে ফ্রি-ফল জাম্প সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন