০২:১৬ পি.এম
তুরস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে কড়া বিরোধিতা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, আঙ্কারার হাতে এ ধরনের যুদ্ধবিমান যাওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের কথা বলছেন। তিনি রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে আঙ্কারার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছেন, যেন তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন না দেওয়া হয়। তিনি মন্তব্য করেন, শুধু এফ-৩৫ সরবরাহ করলেই তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হবে না।
নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তুরস্ক এমন একটি সরকারের অধীনে রয়েছে, যার সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী একটি সংগঠন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান তুর্কি নেতৃত্ব মার্কিন আদর্শ মিত্র নয় এবং প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইসরায়েলকে ধ্বংস করার হুমকিও দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তিনি আরও মন্তব্য করেন, তুরস্কের হাতে এফ-৩৫ তুলে দিলে এর প্রভাব কেবল দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রতিফলিত হবে। নেতানিয়াহুর মতে, এমন সক্ষমতা একটি দেশের হাতে তুলে দিলে আগ্রাসনের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
এ বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হচ্ছে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে ট্রাম্পের তুরস্ক সফর। ওই সফরে তিনি ঘোষণা করেন, রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তা প্রত্যাহার করা হবে। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন মতে, এস-৪০০ কেনার কারণে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্প বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছি। এখন সময় এসেছে।
তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তার মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো। এস-৪০ ব্যবস্থা এখনও তুরস্কের কাছে থাকা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, এ মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে তার বড় কোনো চিন্তা নেই।
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
এরদোয়ানের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। তিনি তুরস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অসাধারণ মিত্র’ বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জানান, তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই তুরস্ক এমন কিছু দেশের চেয়েও বেশি বিশ্বস্ত, যাদের যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে। এ সময় তিনি এফ-৩৫-কে বিশ্বের অন্যতম সেরা যুদ্ধবিমান বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগেই আলোচনা হয়েছে এবং তুরস্ক ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে তুরস্ককে পাঁচটি যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং ট্রাম্প সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন।
আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের
তুরস্ককে এফ-৩৫ বিক্রির বিরোধিতা করলেও ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে—এমন ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখেন, আর তিনি ইসরায়েলের স্বার্থ দেখেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুই দেশের স্বার্থ একই জায়গায় মিলে যায়। তিনি মন্তব্য করেন, দুই নেতা এখনো ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করছেন।
সূত্র : সিএনএন।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন