০৭:৩৪ পি.এম
মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব স্বরমঙ্গল এলাকায়, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলমান জমি বিরোধের বিষয় নিয়ে আদালতের নির্দেশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে, রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহফুজুল হকের নেতৃত্বে, রাজৈর থানা পুলিশের সহযোগিতায় এই অভিযান কার্যকর করা হয়।
আদালতের লিখিত নির্দেশনা অনুসারে প্রকৃত মালিকদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উচ্ছেদ কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়। এ সময় অবৈধ স্থাপনায় বসবাসকারী একজন ব্যক্তি, গৌতম ভট্টাচার্য (খুদু) লিখিতভাবে সময়ের আবেদন জানান। তিনি বলেন যে সেখানে বসবাসরত শিশু এবং পরিবারের মানবিক দিক বিবেচনার জন্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজ দায়িত্বে স্থাপনা অপসারণের জন্য অতিরিক্ত তিন দিনের সময় দেন।
মামলার নথি এবং স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায় যে, স্বরমঙ্গল মৌজার প্রায় ২২ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘ সময় থেকে আদালতে মামলা চলছিল। আদালত জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের অভিযোগে আবুল কালাম আজাদ, তার মেয়ে লিপি বেগম, শ্যালক গৌতম ভট্টাচার্য (খুদু), এবং তার স্ত্রী কণা ভট্টাচার্যকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রকৃত মালিকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত। জানা যায়, গৌতম ভট্টাচার্য বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ গেল যুবদল নেতা তারেক হোসেন বাপ্পির
বাদীপক্ষের দাবী করা হয় যে, গৌতম ভট্টাচার্য অবৈধভাবে জমির দখল রেখেছিলেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে জমির অংশ বিক্রি করেছিলেন। পরে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে মো. সানোয়ার হোসেন ও মো. সেলিম শরীফ বৈধ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি পান।
এদিকে, উচ্ছেদ অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে, গৌতম ভট্টাচার্যের বোন মুক্তি ভট্টাচার্য নিজের মাথায় আঘাত করেন এবং এক সাংবাদিক, তার পরিবারের সদস্য এবং মামলার বাদীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানোর চেষ্টা করেন বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ। তাদের দাবি, নির্ধারিত সময় শেষে উচ্ছেদ কার্যক্রম ব্যাহত করতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অতীতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে হয়রানির জন্য একাধিক মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ তুলেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গৌতম ভট্টাচার্য অথবা মুক্তি ভট্টাচার্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহফুজুল হক বলেন, "নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা না হলে, আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
আরও পড়ুন: রংপুরে আবাসিক হোটেল থেকে ইয়াবাসহ দুই পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, "আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ওই নারী সাংবাদিক ও তার বাবার বিরুদ্ধে দা-ছুরি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তার শরীরে অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে মাথায় সামান্য কাটা ছিল এবং শরীরে রক্ত মাখানো ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, সাংবাদিক এবং অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার চেষ্টার অভিযোগ বাদীপক্ষের দাবী। এই বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন