ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু-শিখ-জৈনদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত


ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু-শিখ-জৈনদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত

বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের শনাক্ত করে তাদের সরিয়ে দেওয়ার জন্যও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে ভারতের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন অমিত শাহ। তিনি জানান, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকদের বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অমিত শাহ বলেন, “বাংলাদেশ থেকে বাধ্য হয়ে পালিয়ে আসা সব হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীকে অবশ্যই মর্যাদার সঙ্গে এখানে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।” তিনি দাবি করেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদি হামলায় শিশুসহ ১২ নিহত, নিষিদ্ধ বোমার অভিযোগ

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। আইনটির আওতায় হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ নির্যাতন বা নিপীড়নের কারণে ওই তিন দেশ থেকে ভারতে এসেছেন এবং ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।

এই আইন নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়কে এর আওতায় না রাখার বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন আপত্তি জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি সরকারের দাবি, প্রতিবেশী তিন দেশে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যই এই আইন করা হয়েছে।

শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন অমিত শাহ। তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’- অর্থাৎ শনাক্ত করা, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর নীতি অনুসরণ করবে।

পশ্চিমবঙ্গের জনগণের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, “আমি আবারও বাংলার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিতে চাই- প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।” তার এই মন্তব্যে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ী হামলা মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত পারাপার ও অভিবাসনের বিষয়টি বহু বছর ধরেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো এবং সিএএ কার্যকর করার বিষয়কে রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধীরা সিএএ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

শিলিগুড়ির বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধায়কেও সরাসরি আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “মমতা দিদি, আপনি এটি গ্রহণ করেননি। কিন্তু আপনার সরকারও নেই, আপনিও নেই। এখন ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার।” অমিত শাহের এই বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সিএএ, নাগরিকত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অব illegal অভিবাসন- এই চারটি ইস্যু নতুন করে সামনে চলে আসতে পারে।

অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, সিএএর অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ ও চূড়ান্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ফলে আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন, তাদের মধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা বাড়াতে পারে। তবে নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের শর্ত, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

অমিত শাহের বক্তব্যে একই সঙ্গে দুটি পৃথক নীতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে- একদিকে সিএএর আওতায় যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা, অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে এই দুই বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরে আসছে। ফলে আগামী দিনে রাজ্যে নাগরিকত্বের আবেদন, সিএএ বাস্তবায়ন এবং অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিতর্ক, চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক

অমিত শাহ এসব মন্তব্য করেন শিলিগুড়িতে ভারতের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে। আইন তিনটি হলো- • ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) • ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) • ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ) পুরোনো ভারতীয় দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি ও ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের পরিবর্তে নতুন এই তিন আইন কার্যকর করেছে ভারত সরকার। প্রদর্শনীতে এসব আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ইস্যুতেও নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বক্তব্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাল বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


কাল বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী রবিবার (২৩ আগস্ট) বঙ্গভবনে উঠবেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা করবেন রাষ্ট্রপতি। বঙ্গভবনে যাওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক বাসভবনে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

দীর্ঘকাল ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল।

শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধ,

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন

আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রায়হান কবির। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদর, সংশ্লিষ্ট অফিসের অফিস প্রধান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল অফিস, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিস, জালকুড়ি হাইস্কুল এন্ড কলেজ, ৯২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৯০ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের সার্বিক কার্যক্রম, সেবার মান, অবকাঠামোগত অবস্থা ও বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়। একইসঙ্গে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও কার্যক্রম আরও উন্নত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এসময় ৯২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ও ওয়াশব্লক উদ্বোধন করা হয়।

জনবান্ধব প্রশাসন, মানসম্মত শিক্ষা ও নাগরিকসেবা নিশ্চিতকরণে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন ও কার্যকর তদারকি অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, সমাধানে চলছে চেষ্টা: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, সমাধানে চলছে চেষ্টা: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগ ছাড়া কোনো কিছুই অর্থনীতিতে করা সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একা অর্থমন্ত্রী বা সরকার কিছু করতে পারে না। বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে বারবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন এবং ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার বদ্ধপরিকর ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে। তবে কোথাও কোনো বাধার মুখে পড়লে ব্যবসায়ীদেরও নিজ উদ্যোগে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

সরকার সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি এক মাসে সমাধান হওয়ার মতো সমস্যা নয়। তবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। জ্বালানি সংকট সমাধান হবে, কিন্তু ধীরগতিতে।

অপরদিকে, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান মানুষের অতিরিক্ত খরচ এবং ভোগান্তির বিষয়ে জানান, সরকারি দফতরে অযথা বারবার কাগজপত্র চাওয়া ও অনৈতিক অর্থ দাবির কারণে যেন এই ভোগান্তি বন্ধ হয়। তিনি বলেন, এই হয়রানি জ্বালানি সংকটের মতো নয়, যে সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে। সরকার চাইলে এই ‘হয়রানি ট্যাক্স’ বন্ধ করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আক্বীদার প্রশ্নে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রীকে ছারছীনার পীর ছাহেব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৪ পি.এম


আক্বীদার প্রশ্নে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রীকে ছারছীনার পীর ছাহেব

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.)। সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে শামীম কায়সার লিংকনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে ছারছীনার পীর ছাহেব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ পীর-আউলিয়ার দেশ। এ দেশের মানুষের ঈমান-আক্বীদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দীর্ঘদিনের মাজহাবি ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অন্যতম কর্তব্য। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি, আক্বীদা ও দেশের প্রচলিত মাজহাবি ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে কোনোভাবেই মাজহাব ও আক্বীদাবিরোধী কোনো ব্যক্তিকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে স্থান দেওয়া উচিত নয়। এ দেশের তাওহীদী জনতা তাদের ঈমান, আক্বীদা, দ্বীন ও আদর্শের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সচেতন। তাই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি ও আক্বীদাগত বিষয়কে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।”

ছারছীনার পীর ছাহেব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, “আপনি এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। তাওহীদী জনতা আপনাদের ভোট দিয়েছে কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়; তারা ভোট দিয়েছে তাদের ঈমান, আক্বীদা, দ্বীন ও আদর্শ রক্ষার প্রত্যাশায়। অতএব জনগণের দেওয়া ভোটাধিকার যে উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা হয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সেই জনআকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে হবে।”

তিনি বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় শুধু একটি প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় নয়; এর সঙ্গে দেশের মসজিদ-মাদরাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হজ ব্যবস্থাপনা, ওয়াক্ফসহ মুসলিম জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিষয় সম্পৃক্ত। তাই এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এমন ব্যক্তির হাতে দেওয়া উচিত, যিনি দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের আক্বীদা, বিশ্বাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

ছারছীনার পীর ছাহেব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের শান্তি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঈমান-আক্বীদার সুরক্ষার স্বার্থে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তি নির্বাচনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তাওহীদী জনতার প্রত্যাশা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের আকাঙ্খাকে গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%