০৮:৫৫ পি.এম
রাজধানীর মহাখালীতে ভাড়া বাসায় প্রথমে প্রেমিক মামুন মিয়া (৩০) এর পুরুষাঙ্গ কেটে এবং তার পরে পেটে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত নারী বিউটি আক্তার (২৯)কে আদালতে হাজির করার পর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ রোববার আদালতে আসামি বিউটি আক্তারের পক্ষে কোনো জামিনের আবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর
এই দিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই তারেক হাসান আসামিকে আদালতে হাজির করে বলেন, তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জেলহাজতে আটকে রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত মামুন মিয়া ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার সা-মালিহাটি গ্রামের ছেলে। এবং গ্রেপ্তার আসামি বিউটি আক্তার একই জেলার গফরগাঁও থানার নিগুয়ারী গ্রামের বাসিন্দা।
বিগত প্রায় এক বছর আগে ননদ সাইদা আক্তার লাকীর মাধ্যমে মামুনের সঙ্গে বিউটির পরিচয় ঘটে এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে গোপন পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা মামুনের পরিবার জানতেন না। গত ১০ জুলাই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিউটি ঢাকা আসেন এবং বনানী থানার মহাখালী টিবি গেট পূর্বপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া নেন।
পরদিন ১১ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মামুন ওই ভাড়া বাসায় বিউটির সঙ্গে দেখা করতে আসেন এবং বিউটি তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হলে দুপুর দেড়টার দিকে বিউটি ফল কাটার ধারালো চাকু দিয়ে মামুনের পুরুষাঙ্গে মারাত্মক আঘাত করেন।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
মামুন প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে লুটিয়ে পড়লে, বিউটি একই চাকু দিয়ে মামুনের পেটের বাঁ পাশে একাধিক আঘাত করেন। এর পর, মামুনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে মামুন মারা যান। পরবর্তীতে মামুনের চাচা বনানী থানায় একটি মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা তার আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বিউটি আক্তার এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনাস্থলে বিউটি নিজেও সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, যার জন্য তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে পরে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন