০৪:১৯ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত সোমবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে রাজনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে অবৈধভাবে বিনা মূল্যে জনমত জরিপ নেওয়ার কারণে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় তার চলমান আইনি সংকটকে আরো গভীর করে তুলেছে।
অন্যান্য একটি মামলায় সামরিক আইন জারির আগে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট সৃষ্টি করার অভিযোগে ইউন সুক ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সোমবারের রায়টি সামরিক আইনসংক্রান্ত মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৬৫ বছর বয়সী ইউন ইতোমধ্যেই কারাগারে রয়েছেন। ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারি করে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার বিরুদ্ধে তিনি বর্তমানে আপিল করছেন।
আরও পড়ুন: পুরাতন রমনা থানার সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ
এই মামলায় ইউনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০২১-২২ সালে একটি সংসদীয় উপনির্বাচনে তার দলের এক মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীকে সমর্থন করার বিনিময়ে তিনি বিনা মূল্যে জনমত জরিপের সুবিধা নিয়েছিলেন।
সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, রাজনৈতিক তহবিল আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালত ইউন সুক ইওলকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ে আদালত বলেছে, ইউন ও তার স্ত্রী কিম কিওন হি প্রভাবশালী দালাল মিয়ং তে-কিউনের সমর্থিত এক প্রার্থীকে সমর্থন করার বিনিময়ে তার কাছ থেকে ১৪টি বিনা মূল্যে জনমত জরিপ গ্রহণ করেছিলেন।
আদালত এক বিবৃতিতে বলেছে, ইউন সুক ইওলের কর্মকাণ্ড রাজনীতির প্রতি জনগণের অবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুষ্ঠু বিকাশ সম্পর্কে মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, 'তাই আসামির অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর।'
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির মূল হোতা ইসরাইল, দাবি মিসর, সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের
একই মামলায় প্রভাবশালী দালাল মিয়ং তে-কিউনকেও দোষী সাব্যস্ত করে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইউনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তাদের দাবি, আদালতের সিদ্ধান্তটি মূলত অনুমানের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
একই মামলায় সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিওন হির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের রায় বৃহস্পতিবার দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে নিম্ন আদালতের দুটি রায়ে তিনি খালাস পেয়েছিলেন। তবে অন্য মামলায় কিম ইতোমধ্যে কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
উপহারের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে একটি ঘুষ মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে কারসাজি ও দুর্নীতির একটি পৃথক মামলায় তিনি আরো চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারি করে ইউন সুক ইওল দক্ষিণ কোরিয়াকে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে ফেলেন। বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা দ্রুত সেই আদেশ বাতিল করেন। পরে তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
আরও পড়ুন: ইতালিতে ১২ বার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা জারি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন