বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৫৫ এম
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অপ্রত্যাশিত তারল্য সহায়তার ঘোষণার ফলে বন্ডের ইল্ড ও ডলারের দরপতন ঘটেছে। এই পরিস্থিতির প্রভাবে স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে আড়াই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দিনের শুরুতে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৯৯ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছায়। গত ৪ জুনের পর এটি সর্বোচ্চ দাম হিসেবে গণ্য হয়েছে। পরবর্তী সময়ে স্পট গোল্ডের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৮৭ দশমিক ৯১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময় মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৫৪৫ দশমিক ৩০ ডলারে স্থির হয়েছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে স্বর্ণের দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর অতিক্রম করেছে। স্পট গোল্ডের দাম ১০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ প্রায় ৪ হাজার ৩৮১ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞ এবং কচ সাপ্লাই অ্যান্ড ট্রেডিংয়ের মূল্যবান ধাতু বিভাগের সাবেক প্রধান রবার্ট গটলিব বলেছেন, ‘এটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড কমে যাওয়া এবং এর ফলস্বরূপ ডলারের দরপতনের সম্ভাবনা স্বর্ণের জন্য খুবই ইতিবাচক।’
মার্কিন ডলার সূচক ০.৮ শতাংশ কমেছে। এই কারণে অন্যান্য মুদ্রার ধারকদের কাছে ডলার-মূল্যের স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে উঠেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের জন্য তারল্য সহায়তা বাইব্যাক কার্যক্রমের আকার দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে বুধবার ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড প্রায় ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুত কমে যায়।
টিডি সিকিউরিটিজ একটি নোটে জানিয়েছে, মার্কিন ট্রেজারির তারল্য সহায়তা বাইব্যাক কার্যক্রমের আকার বাড়ানোর ঘোষণা মূল্যবান ধাতুর বাজারে ‘ঝটকা’ দিয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে স্বর্ণের চাহিদা কমে গেলেও ট্রেজারির তারল্য সহায়তা, জ্বালানি সংকটকে উপেক্ষা করার বিষয়ে ফেডের সদিচ্ছা এবং স্ট্যাগফ্লেশন নিয়ে উদ্বেগের কারণে স্বর্ণে বিনিয়োগের প্রবাহ দ্রুত ফিরতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সুদের হার কমে আসতে পারে।
এদিকে, ফেডের সর্বশেষ সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, ২৮-২৯ জুলাইয়ের বৈঠকে কয়েকজন কর্মকর্তা সুদের হার বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত ছিলেন। অনেকের মতে, মুদ্রাস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় ফিরতে ব্যর্থ হলে আরও সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
তবে সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুসারে, সাম্প্রতিক দুর্বল মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা হ্রাস করেছে। ফলে ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে; এর প্রত্যাশার হার এখন ৬৫ শতাংশ।
অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর দামও এই দিনে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। স্পট রুপার দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৮ ডলারে পৌঁছেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮০০ দশমিক ০২ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩২৫ দশমিক ১২ ডলারে পৌঁছেছে। চারটি মূল্যবান ধাতুর দাম গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দৈনিক বৃদ্ধির পথে ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন-এঁর মানবিক সহায়তার বদৌলতে সদর উপজেলার চাপাতলী এলাকার মো. জহুরুল ইসলাম নামে একজন অসহায় ভ্যানগাড়ি চালকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। বুধবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জেলা প্রশাসক নিজে অসহায় দরিদ্র চালকের হাতে একটি নতুন ভ্যানগাড়ি তুলেদেন।
অসহায় ও কর্মক্ষম ব্যক্তিদের নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পুরাতন ভ্যানগাড়ি চুরি হয়ে যাওয়ার পরে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নতুন একটি ভ্যানগাড়ি পেয়ে অসহায় চালকের মুখে হাসি ফুটে উঠে; যা দেখে খুশি হন উপস্থিত সবাই।
এসময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পুলিশ বিভাগের লোকজন, সুবিধাভোগী ভ্যানগাড়ি চালক ও তার পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন জানান, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অসহায় ও কর্মক্ষম ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তুলতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হয়ে আসছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এতে উপকারভোগী নিজে কাজ করে আয়-রোজগারের মাধ্যমে পরিবারে সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনার সুযোগ সৃষ্টি হলো বলে সবাই মনে করছেন। জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সবপেশা শ্রেণির লোকজন।
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসকের নিয়মিত গনশুনানিতে গত একমাস আগে শেরপুর সদর উপজেলার চাপাতলী এলাকার বাসিন্দা দরিদ্র ভ্যানগাড়ি চালক জহুরুল ইসলামের গাড়িটি চুরি হয়েগেছে বলে জানানো হয়। হৃদয়বিদারক ঘটনাটি শুনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে একটি ভ্যানগাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মানবিক জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ওই অসহায় ও কর্মক্ষম ভ্যানগাড়ি চালককে বুধবার এ মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা চিন্তার ক্রমে ইতিহাসে রূপ নেয়। সেসব ঘটনার স্থান নিয়েছে, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ ও আশীর্বাদ। ইতিহাস আমাদের নতুন নতুন দিগন্তের পথে পথনির্দেশ করে।
আজ ২০ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার। নানা উল্লেখযোগ্য ঘটনার দিক থেকে ইতিহাসে এই দিনটিও বিশেষ এবং স্মরণীয়। আসুন, একবারের জন্য দেখে নেয়া যাক ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা এবং বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
১৮২৮ সালে হিন্দুধর্ম সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩) ও তার বন্ধুরা মিলে এক সর্বজনীন উপাসনার মাধ্যমে কলকাতায় ব্রাহ্মসমাজ শুরু করেন।
১৮৯৭ সালে চিকিৎসক রোনাল্ড রস অ্যানোফিলিস মশা বাহিত ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কার করেন।
১৯১৪ সালে জার্মান নাজি বাহিনী বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস দখল করে।
১৯৪১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত এস্তোনিয়া পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৬১ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যে বার্লিন প্রাচীর তৈরির কাজ সমাপ্ত হয়।
১৯৭০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৯৭১ সালে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান বিধ্বস্ত হয়ে শহীদ হন।
১৯৮৮ সালে দীর্ঘ আট বছর পর ইরান-ইরাক যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হয়।
বিভিন্ন অভিজ্ঞান, সংগ্রামী ও সমাজ সংস্কারক জন্মগ্রহণ করেন এই দিন।
১৭৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন জনস জ্যাকব বার্জেলিয়াস, আধুনিক রসায়নের সহপ্রতিষ্ঠাতা।
১৮৩৩ সালে বেঞ্জামিন হ্যারিসন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৩তম রাষ্ট্রপতি জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৪৭ সালে অ্যান্ড্রু গ্রীনউড, ইংলিশ ক্রিকেটার জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৫৮ সালে ওমর আল-মুখতার, ইতালীয় ঔপনিবেশবিরোধী লিবিয় গেরিলা যোদ্ধা এবং স্বাধীনতাকামী নেতা জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৬৩ সালে মৌলভি আবদুল করিম, শিক্ষক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসেবী জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৬৪ সালে রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, বাঙালি বিজ্ঞান লেখক এবং অধ্যাপক জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৮৬ সালে রবীন্দ্রসাহিত্য সমালোচক ও সাহিত্যিক অজিতকুমার চক্রবর্তী জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৯০ সালে এইচপি লাভক্রাফট, আমেরিকান ছোট গল্পের লেখক, সম্পাদক ও ঔপন্যাসিক জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৯৬ সালে গোষ্ঠ পাল, ভারতীয় ফুটবলার জন্মগ্রহণ করেন।
১৯০১ সালে সরোজকুমার রায়চৌধুরী, বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪০ সালে রেক্স সেলার্স, ভারতীয়-অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪২ সালে মেহেরুন নেসা, বাংলাদেশি কবি এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪৪ সালে রাজীব গান্ধী, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪৫ সালে ঊষা গাঙ্গুলি, ভারতীয় নাট্য আন্দোলনের নির্ভীক কর্মী, নাট্য-পরিচালক, নাট্যাভিনেত্রী জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪৬ সালে এন আর নারায়ণ মূর্তি, ভারতীয় ব্যবসায়ী, ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৫২ সালে জন এম্বুরি, ইংরেজ ক্রিকেটার এবং কোচ জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮১ সালে বেন বার্নেস (অভিনেতা), ইংরেজ অভিনেতা জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮৩ সালে অ্যান্ড্রু গারফিল্ড, মার্কিন-ইংরেজ অভিনেতা জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৯৯ সালে বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঠাকুর পরিবারের সদস্য, কবি ও প্রাবন্ধিক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯০৬ সালে আনন্দমোহন বসু, বাঙালি রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯১৫ সালে নোবেলজয়ী জার্মান জীবাণুবিদ, পল এইরলিখ জন্মগ্রহণ করেন।
১৯১৯ সালে গ্রিগর ম্যাকগ্রিগর, স্কটিশ ক্রিকেটার ও রাগবি খেলোয়াড় জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৩০ সালে চার্লস ব্যানারম্যান, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ও আম্পায়ার জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৬১ সালে নোবেলজয়ী মার্কিন পদার্থবিদ পার্সি ইউলিয়াম ব্রিজম্যান জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮৬ সালে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, বাংলা আধুনিক ও চলচ্চিত্র সঙ্গীতের বিশিষ্ট গীতিকার ও সুরকার জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮৬ সালে আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ, ভারত উপমহাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, বাংলাদেশের 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা জন্মগ্রহণ করেন।
২০১৩ সালে নরেন্দ্র দাভোলকার, ভারতীয় চিকিৎসক, সমাজসেবী, যুক্তিবাদী ও মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি জন্মগ্রহণ করেন।
২০২২ সালে সমর বন্দ্যোপাধ্যায়, কিংবদন্তি ভারতীয় বাঙালি ফুটবলার, যিনি বদ্রু বন্দ্যোপাধ্যায় নামে পরিচিত ছিলেন, জন্মগ্রহণ করেন।
২০২৪ সালে উৎপলেন্দু চক্রবর্তী, ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র পরিচালক, লেখক এবং থিয়েটার ব্যক্তিত্ব জন্মগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সহায়তা করা বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা যে কোনো দেশের বিরুদ্ধে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ চাপিয়ে দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ কথা তিনি বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে নিষ্পেষণকারী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করতে যাচ্ছেন। তবে তিনি এই বিষয়ে বিশেষ কিছু বিস্তারিত জানাননি, কোনো দেশের নামও উল্লেখ করেননি।
সোমবার ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর থেকে সংঘাতের কূটনৈতিক বা সামরিক সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপটি ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’র চাপ প্রয়োগের অভিযানকে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দেয়। এ অভিযানটি বিদেশি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এপ্রিলে শুরু করা হয়েছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ শুরু করছেন। তিনি বলেন, যদি কোনো দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ইরানকে সহায়তা করায় সুযোগ দেয়, তবে সেই দেশ ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’র মুখোমুখি হবে।
কিন্তু তিনি ঠিক কেমন শাস্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন ও ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে লেনদেন সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। এই বিষয়ে কারা জড়িয়ে আছেন, তা সংশ্লিষ্টরা জানেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে সামুদ্রিক যান চলাচল লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে।
ইরানি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘকাল ধরে এক্সচেঞ্জ হাউস ও শেল কোম্পানি মারফত অর্থ স্থানান্তরে দুবাইয়ের আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সিদ্ধান্তের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সহায়তা না দিতে সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীকে দেওয়া যেকোনো সহায়তাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর এমন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা আরোপ করবে, যা পৃথিবী আগে কখনো দেখেনি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফক্স নিউজের এক সাংবাদিককে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও হুমকি দেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ওমান যদি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তার প্রশাসনের জন্য ‘বাধা হয়ে দাঁড়ায়’, তাহলে তিনি দেশটিতে বোমা হামলা চালাতে পারেন।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আলাদাভাবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় মূলত ছয় মাস ধরে এই জলপথটি বন্ধ রয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়।
এদিকে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের কারণে ভোক্তাদের ব্যয় কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সে কারণে দেশটির সামরিক সদস্যদের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে ট্রাম্প চাপের মুখে পড়েছেন।
সূত্র- বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ