০৫:৫৯ পি.এম
যুবসমাজের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছেন। এখন নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে হলে প্রয়োজন হলে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ইনানীর রিসোর্টে আগুন: নিখোঁজ মাভাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী ও তাঁর স্ত্রী-সন্তান
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংসদে এ বিষয়ে সমাধান না হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনগণের কাছে গিয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব। যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন হয় না, সেখানে আমরা জনগণের সঙ্গে কথা বলব।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশায় পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ ও দুর্বল করার মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।’
ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। কিন্তু অন্যায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না।’
তিনি সীমান্ত পরিস্থিতির সত্যতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে দেশের জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে। কোনো বিদেশি আধিপত্য বা আগ্রাসনের সামনে বাংলাদেশ মাথা নত করবে না।’
আরও পড়ুন: বরিশালে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় দুই শিশুসহ ৪ জন আটক, উদ্ধার এক ভরি স্বর্ণের রুলি
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কর্ণেল (অব.) ড. অলি আহমদ এবং মাওলানা মামুনুল হক।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গণভোটে জনগণ যে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার তা থেকে সরে এসেছে।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মন্তব্য করেন, ‘সংসদ এবং রাজপথ-উভয় জায়গায় জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলন চলবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অলি আহমদ বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের লক্ষ্য বৈষম্য, দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের পথে নানা রাজনৈতিক বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: দিরাই থানা রোডের বর্তমান অবস্থা বেশ ভালো, সামান্য যানজটেই মানুষের ভিড়
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্নে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে বিএনপি প্রচারণা চালিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে প্রদত্ত সংস্কারমুখী ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করা রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক দায়িত্ব।’
সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘বাংলাদের সামনে এখন তিনটি বড় লড়াই- রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা।’ তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা’র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, বিভাগীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোবারক হোসাইন, জামায়াতের খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি এবং মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি।
আরও পড়ুন: দুমকিতে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চান বিএনপি নেতা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন