ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন : বিরোধীদলীয় নেতা


আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন : বিরোধীদলীয় নেতা

 

যুবসমাজের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছেন। এখন নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে হলে প্রয়োজন হলে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ইনানীর রিসোর্টে আগুন: নিখোঁজ মাভাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী ও তাঁর স্ত্রী-সন্তান

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংসদে এ বিষয়ে সমাধান না হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনগণের কাছে গিয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব। যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন হয় না, সেখানে আমরা জনগণের সঙ্গে কথা বলব।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশায় পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ ও দুর্বল করার মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।’

ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। কিন্তু অন্যায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না।’

তিনি সীমান্ত পরিস্থিতির সত্যতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে দেশের জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে। কোনো বিদেশি আধিপত্য বা আগ্রাসনের সামনে বাংলাদেশ মাথা নত করবে না।’

আরও পড়ুন: বরিশালে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় দুই শিশুসহ ৪ জন আটক, উদ্ধার এক ভরি স্বর্ণের রুলি

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কর্ণেল (অব.) ড. অলি আহমদ এবং মাওলানা মামুনুল হক।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গণভোটে জনগণ যে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার তা থেকে সরে এসেছে।’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মন্তব্য করেন, ‘সংসদ এবং রাজপথ-উভয় জায়গায় জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলন চলবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অলি আহমদ বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের লক্ষ্য বৈষম্য, দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের পথে নানা রাজনৈতিক বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: দিরাই থানা রোডের বর্তমান অবস্থা বেশ ভালো, সামান্য যানজটেই মানুষের ভিড়

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্নে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে বিএনপি প্রচারণা চালিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে প্রদত্ত সংস্কারমুখী ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করা রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক দায়িত্ব।’

সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘বাংলাদের সামনে এখন তিনটি বড় লড়াই- রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা।’ তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা’র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, বিভাগীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোবারক হোসাইন, জামায়াতের খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি এবং মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি।

আরও পড়ুন: দুমকিতে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চান বিএনপি নেতা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাতকে মাদকবিরোধী ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


ছাতকে মাদকবিরোধী ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন।

এই কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মহি উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শফিউর রহমান সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, বিএনপি নেতা এবং ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডা. আফসার উদ্দিন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাব-ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান সজিব এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপজেলা পরিষদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আমিন উদ্দিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুণ অধিকারী গীতা পাঠ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, 'মাদকের ভয়াবহতা এবং এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হতে হবে। যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।'

তিনি আরো বলেন, 'সকলের সহযোগিতায় ছাতক শহর, গোবিন্দগঞ্জ বাজার, জাউয়াবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও প্রচারণা কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। প্রথম পর্যায়ে এই কর্মসূচি ছাতক পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুরু করা হবে।'

এছাড়া, কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাস্টার ফজলুল করিম বকুল, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার দেব, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রণব লাল দাস, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহিছ উদ্দিন, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা জিতেন বর্মন, জয়দেব চন্দ্র দেবনাথসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় বাইসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


রাজধানীতে সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় বাইসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মো. ইমন হোসেন (২৪) নামের এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। ঘটনার সময় শনিবার (২০ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টা বাজে খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-১ সংলগ্ন কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ঘটে।

নিহত ইমন হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শিমুলকান্দি গ্রামের মো. টিপু সুলতানের পুত্র। তিনি বর্তমান সময়ে মোহাম্মদপুরের বসিলা মেট্রো হাউজিং এলাকায় বসবাস করতেন এবং ফার্মগেটের একটি চশমার দোকানে চাকরি করতেন।

জানা গেছে যে, ইমন বাইসাইকেল করে বিভিন্ন স্থানে চশমা ডেলিভারি ও টাকা আদায়ের কাজ করতেন। আজ দুপুরে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক দ্রুতগামী সিএনজি অটোরিকশা তার বাইসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।

এ ঘটনায় তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

খবর পেয়ে ইমনের স্বজনরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।

সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইমনকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে ইমনের বড় ভাই সাব্বির হোসেন বলেন, ‘মাত্র দেড় মাস আগে বিয়ে করেছিল ইমন। তবে স্ত্রীকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বাসায় উঠিয়ে আনা হয়নি। তার আগেই ছোট ভাই সবার ছেড়ে চলে গেল।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্ধ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এইচআইভির তহবিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্ধ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এইচআইভির তহবিল

দক্ষিণ আফ্রিকাতে এইডস এবং এর বিস্তার মোকাবেলার জন্য পরিচালিত কর্মসূচিগুলোর অর্থায়ন পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার কথা যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে। এটি উল্লেখযোগ্য যে ৮০ লাখেরও বেশি দক্ষিণ আফ্রিকান এইচআইভি নিয়ে জীবনযাপন করছেন, যা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বাধিক।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্তের পেছনে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ-সংখ্যালঘু আফ্রিকানার সম্প্রদায়কে সুরক্ষা প্রদানে ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত অবগত নয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি আত্মনির্ভরশীলতার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে আসছিল।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ 'প্রেসিডেন্ট'স ইমার্জেন্সি ফান্ড ফর এইডস রিলিফ' (পেপফার) চালু করেন। গত দুই দশকে এটি ৫০টিরও বেশি দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অংশীদারির মাধ্যমে ২৫ মিলিয়ন জীবন বাঁচিয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকাকে শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। এর পর থেকে গত এক বছরে দেশটির এইচআইভি কর্মসূচি থেকে মার্কিন অর্থায়ন ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা সেমাফোরকে জানান, প্রশাসনের নীতির লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে পারেনি, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে পেপফার কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল সরকারের ব্যয় কমানোর জন্য তার প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। তার উদ্যোগে বিশেষভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিশ্বে সবচেয়ে অধিক এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের বসবাস।

২০০৩ সাল থেকে এইচআইভি আক্রান্তদের সেবা প্রদান এবং ভাইরাসের বিস্তার রোধকারী ওষুধ বিতরণের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে। তবে গত দুই বছরে সেখানে পাঠানো তহবিল হ্রাস পেয়েছে এবং তা অর্ধেক করা হয়েছে।

এই মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ঘোষণা করেন, দেশে গিলিয়াড কোম্পানির বছরে দুবার সেবনের এইচআইভি প্রতিরোধক ওষুধ লেনাক্যাপাভির চালু করার জন্য তারা কাজ করছে। এর জেনেরিক সংস্করণ তৈরি ও বিক্রি করা হবে সেখানে।

বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, অর্থায়ন বন্ধ হলে বিশ্বব্যাপী অসংখ্য মানুষ এইচআইভিতে সংক্রমিত হতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এবং কংগ্রেসে তাদের কিছু রিপাবলিকান মিত্র বলেছেন, এই কর্মসূচিটি কখনও স্থায়ী করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি এবং এটি বন্ধ হওয়া উচিত।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পেপফার দেশের এইচআইভি কর্মসূচিতে অবদান রেখেছে, তবে জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের সরবরাহের জন্য সম্পূর্ণ আলাদাভাবে অর্থায়ন করা হয়, যার বেশিরভাগই সরকারের কাছ থেকে আসে। যুক্তরাষ্ট্র গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর সম্মেলন জি-২০-ও বর্জন করেছিল।

সূত্র: বিবিসি, পলিটিকো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীমঙ্গলে ৬ষ্ঠ জাতীয় চা দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ পি.এম


শ্রীমঙ্গলে ৬ষ্ঠ জাতীয় চা দিবস উদযাপন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশে ৬ষ্ঠ জাতীয় চা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশে এই জাতীয় চা দিবস উদযাপন করা হয়। শনিবার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে শ্রীমঙ্গল অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

পায়রা এবং বেলুন উড়িয়ে জাতীয় চা দিবসের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান, টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শাহ মঈনুদ্দিন হাসান, টি প্ল্যান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, বাংলাদেশ বটলিফ টি ফ্যাক্টরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নিয়াজ আলী চিশতী এবং চা শ্রমিক নেত্রী সনতকি রায়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুজিবুর রহমান চৌধুরী এমপি বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই আমাদের চা শিল্পকেও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। উন্নত জাতের চা উৎপাদন, গবেষণা, আধুনিক কারখানা, উন্নত প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব চা চাষ নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট আট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। একরপ্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনের জন্য শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগান, সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনের জন্য মধুপুর চা বাগান, শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক হিসেবে দ্য কনসলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি, শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়ন চা উৎপাদনকারী হিসেবে মো. মতিউর রহমান, শ্রমিক কল্যাণে শ্রেষ্ঠ বাগান হিসেবে মির্জাপুর চা বাগান, দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন মোড়ক এবং বৈচিত্র্যময় চা পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী (চা উত্তোলন) হিসেবে নেপচুন চা বাগানের শ্রমিক জেসমিন আক্তারকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলে চা শিল্পকে উৎসাহিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে সুপ্রিম টি লিমিটেডকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

দিনব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন চা কোম্পানির স্টলে নানা জাতের চা প্রদর্শন করা হয়, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%