প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ আফ্রিকাতে এইডস এবং এর বিস্তার মোকাবেলার জন্য পরিচালিত কর্মসূচিগুলোর অর্থায়ন পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার কথা যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে। এটি উল্লেখযোগ্য যে ৮০ লাখেরও বেশি দক্ষিণ আফ্রিকান এইচআইভি নিয়ে জীবনযাপন করছেন, যা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বাধিক।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্তের পেছনে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ-সংখ্যালঘু আফ্রিকানার সম্প্রদায়কে সুরক্ষা প্রদানে ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত অবগত নয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি আত্মনির্ভরশীলতার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে আসছিল।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ 'প্রেসিডেন্ট'স ইমার্জেন্সি ফান্ড ফর এইডস রিলিফ' (পেপফার) চালু করেন। গত দুই দশকে এটি ৫০টিরও বেশি দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অংশীদারির মাধ্যমে ২৫ মিলিয়ন জীবন বাঁচিয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকাকে শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। এর পর থেকে গত এক বছরে দেশটির এইচআইভি কর্মসূচি থেকে মার্কিন অর্থায়ন ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা সেমাফোরকে জানান, প্রশাসনের নীতির লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে পারেনি, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে পেপফার কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল সরকারের ব্যয় কমানোর জন্য তার প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। তার উদ্যোগে বিশেষভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিশ্বে সবচেয়ে অধিক এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের বসবাস।
২০০৩ সাল থেকে এইচআইভি আক্রান্তদের সেবা প্রদান এবং ভাইরাসের বিস্তার রোধকারী ওষুধ বিতরণের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে। তবে গত দুই বছরে সেখানে পাঠানো তহবিল হ্রাস পেয়েছে এবং তা অর্ধেক করা হয়েছে।
এই মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ঘোষণা করেন, দেশে গিলিয়াড কোম্পানির বছরে দুবার সেবনের এইচআইভি প্রতিরোধক ওষুধ লেনাক্যাপাভির চালু করার জন্য তারা কাজ করছে। এর জেনেরিক সংস্করণ তৈরি ও বিক্রি করা হবে সেখানে।
বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, অর্থায়ন বন্ধ হলে বিশ্বব্যাপী অসংখ্য মানুষ এইচআইভিতে সংক্রমিত হতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এবং কংগ্রেসে তাদের কিছু রিপাবলিকান মিত্র বলেছেন, এই কর্মসূচিটি কখনও স্থায়ী করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি এবং এটি বন্ধ হওয়া উচিত।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পেপফার দেশের এইচআইভি কর্মসূচিতে অবদান রেখেছে, তবে জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের সরবরাহের জন্য সম্পূর্ণ আলাদাভাবে অর্থায়ন করা হয়, যার বেশিরভাগই সরকারের কাছ থেকে আসে। যুক্তরাষ্ট্র গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর সম্মেলন জি-২০-ও বর্জন করেছিল।
সূত্র: বিবিসি, পলিটিকো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন