শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১১ পি.এম
বগুড়ার সান্তাহারে পুলিশ, স্থানীয় এমপি আব্দুল মহিত তালুকদারের নির্দেশের পর, রিক্সাভ্যান চালকদের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় এমপি আব্দুল মহিত তালুকদার প্রশংসার পাত্র হয়ে উঠেছেন।
জানা গেছে, সান্তাহারে একটি রিক্সা ভ্যান শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে শহরের রিক্সা ও ভ্যান চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল কিছু প্রভাবশালী শ্রমিক নামধারী চাঁদাবাজ। এ চাঁদাবাজিতে সহায়তা করতেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সান্তাহার পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আলম হোসেন, যিনি স্থানীয় পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত আদায়কারী। সম্প্রতি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা আলমের ছত্রছায়ায় স্থানীয় রিক্সাভ্যান শ্রমিক সংগঠনের কিছু নেতা পৌরসভার লাইসেন্স নবায়ন, নতুন লাইসেন্স প্রদান এবং শ্রমিক সংগঠনে ভর্তির অজুহাতে প্রতিদিন নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিল। বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে চাঁদাবাজি বন্ধের কঠোর নির্দেশনা দেন।
একপর্যায়ে, সান্তাহার পৌর শহরে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ স্থানীয় এমপি আব্দুল মহিত তালুকদারের কাছে তুলে ধরেন ভুক্তভোগী রিক্সাভ্যান চালকেরা। এমপি আব্দুল মহিত তালুকদার পুলিশ প্রশাসনকে এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধের কঠোর নির্দেশ দেন। এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে সান্তাহার শহরের রিক্সাভ্যান স্ট্যান্ডে চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সান্তাহার পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আলম হোসেন (৫০) এবং আদমদিঘী উপজেলার পোঁওতা টিকরী পাড়া গ্রামের হাফিজুল ইসলাম ওরফে কুচার ছেলে রবিউল ইসলাম (২৪)কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
এ গ্রেফতার ঘটনার সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এমপি আব্দুল মহিত তালুকদার প্রশংসার পাত্র হয়ে উঠেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা সান্তাহার শহরের সকল সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শহীদ বীর আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, রংপুরবাসী গর্বিত এমন একজন সন্তানকে জন্ম দিয়ে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই কথা বলেন।
রাশেদ খান উল্লেখ করেন, "আমি রংপুরে এসেছি এই বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য। যে স্থানে দাঁড়িয়ে আবু সাঈদ দুই হাত উঁচু করে সাহসের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। যা সারা বাংলাদেশের মানুষকে সাহস জুগিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের বীজ এই রংপুর থেকেই বপন করেছিলেন বীর শহীদ আবু সাঈদ।"
তিনি আরও বলেন, "আবু সাঈদ আমাদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। তার সেই দৃশ্য সারা বাংলাদেশের মানুষকে নাড়া দিয়েছিল এবং দেশের জন্য বুক চিতিয়ে লড়াই করার সাহস জুগিয়েছিল।"
আবু সাঈদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "রংপুরবাসী ও স্থানীয় প্রশাসনকে আবু সাঈদের পরিবারের পাশে থাকতে হবে। এই বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, আবু সাঈদের নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে লেখা থাকবে।"
বেরোবির শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাই। তাদের নেতৃত্বে এই রংপুর থেকে আবু সাঈদের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়েছিল এবং সেই লড়াই ৫ আগস্ট শেষ হয়। যে জাতি রক্ত দিতে জানে, যে জাতি মরতে জানে, সেই জাতিকে কেউ হারাতে পারে না।"
এ সময় আবু সাঈদের আন্দোলনের সময়কার ফুটেজ ধারণ ও প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "সবশেষে আমি প্রিয় সাংবাদিক ভাইদের ধন্যবাদ জানাই। যারা পুলিশের গুলির মুখে দাঁড়িয়ে সেই ফুটেজ সংগ্রহ করেছিলেন এবং প্রকাশ করেছিলেন। এই একটি দৃশ্য বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অন্যতম ভূমিকা রেখেছিল।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বড় ডাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্যসহ রিপন হামিদ (৩৫) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও বিজিবি-র একটি যৌথ রেইডিং টিম।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়পুরহাট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ ইলিয়াস হোসেন তালুকদারের নেতৃত্বে এবং বিজিবি-র সমন্বয়ে আজ ১৮ সেপ্টেম্বর ভোর ৪:০০ টায় হাকিমপুর থানাধীন বড় ডাঙ্গাপাড়ায় আসামী রিপন হামিদের বসতবাড়িতে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে আসামীর বসতবাড়ির কক্ষ থেকে তল্লাশি চালিয়ে শোকেসের ড্রয়ারে রাখা একটি টিস্যু ব্যাগের ভেতর থেকে ১২৫টি (২৫০ মি.লি.) 'বুপিজেসিক' বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন, ৪০০ পিস (১০৮ গ্রাম) 'Topee-100' ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি Oppo (Model: cph2711) মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দতালিকা প্রস্তুত করে আলামত সীলগালা করা হয়েছে এবং আসামীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণীর ১৪(ক) /৩৬(১)সারণির ২৯(ক)/২৬(১)ধারায় সংশ্লিষ্ট ধারায় হাকিমপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সংসদ সদস্যের মালয়েশিয়া সফর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সংসদ সদস্যরা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে সফরটি বাংলাদেশে ব্যক্তিগত সফর হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠককে ‘শিক্ষামূলক সফর’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী ড. মাসজলি মালিক। বৈঠকে সংস্কারমুখী রাজনৈতিক দলের চ্যালেঞ্জ, সংসদ সদস্যদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক দল কেদিলানের আন্তর্জাতিকবিষয়ক ব্যুরো এবং ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইসলামিক স্টাডিজ (আইএআইএস) মালয়েশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড. মাসজলি মালিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের আতিথ্য দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংস্কারমুখী দলগুলোর সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এসব পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের কী ধরনের ভূমিকা পালন করা উচিত, তা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
বৈঠকে অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন সারদারের ‘পোস্ট-নরমাল টাইমস’ ধারণা এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ‘মাদানি’ ধারণার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ড. মাসজলি মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ের জনপ্রতিনিধিদের পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে স্বচ্ছতা, সত্যনিষ্ঠা, সততা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের কথা শোনা এবং তাদের প্রত্যাশার প্রতি সাড়া দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সংসদে আগে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন সদস্যদের অভিজ্ঞতা থেকেও আলোচনায় অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছে। সফরকারীদের মধ্যে কেউ পশ্চিমা দেশে শিক্ষালাভ করেছেন, আবার কেউ তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর পেশাজীবী ও শিক্ষাবিদদের নেটওয়ার্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ড. মাসজলি।
প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্য ও তাদের স্ত্রীদের একটি বড় বহর ১৩ সেপ্টেম্বর এয়ার এশিয়ার ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটের একে-৭০ ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছায়। তাদের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তালিকায় নাম না থাকলেও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর-৬ আসনের মো. নুরুল আমিন, ঢাকা-৫-এর মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, খুলনা-৬-এর মো. আবুল কালাম আজাদ, পিরোজপুর-১-এর মাসুদ সাঈদী, শেরপুর-১-এর মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, খুলনা-২-এর এস কে জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, বাগেরহাট-২-এর শেখ মঞ্জুরুল হক রাশেদ, চুয়াডাঙ্গা-১-এর মো. মাসুদ পারভেজ, নওগাঁ-২-এর মো. এনামুল হক, চুয়াডাঙ্গা-২-এর মো. রুহুল আমিন, গাজীপুর-৪-এর সালাহউদ্দিন, কুড়িগ্রাম-৪-এর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নড়াইল-২-এর মো. আতাউর রহমান, ঢাকা-৪-এর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং ময়মনসিংহ-৬-এর মো. কামরুল হাসান।
এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন নীলফামারী-৪-এর আবদুল মুনতাকিম, কুড়িগ্রাম-১-এর মো. আনোয়ারুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৫-এর মো. আবদুল ওয়ারেস, গাইবান্ধা-১-এর মো. মাজেদুর রহমান, নীলফামারী-২-এর আলফারুক আবদুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১৬-এর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, জয়পুরহাট-১-এর মো. ফজলুর রহমান, নীলফামারী-১-এর মো. আবদুল সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২-এর মো. মিজানুর রহমান, পাবনা-৩-এর মোহাম্মদ আলী আসগর, পাবনা-৪-এর মো. আবু তালেব মণ্ডল, রংপুর-১-এর মো. রায়হান শিরাজী, নীলফামারী-৩-এর ওবায়দুল্লাহ সালাফি, নেত্রকোনা-৫-এর মাসুম মোস্তফা, মেহেরপুর-১-এর মো. তাজউদ্দিন খান, কুষ্টিয়া-৪-এর মো. আফজাল হোসাইন, গাইবান্ধা-২-এর মো. আবদুল করিম, ঢাকা-১৪-এর মীর আহমাদ বিন কাসেম এবং যশোর-৫-এর গাজী এনামুল হক।
সংসদ সদস্যদের বাইরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ফলে মূল তালিকায় ৩৫ জন পুরুষের নাম রয়েছে—৩৪ জন সংসদ সদস্য ও একজন দলীয় নেতা। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তাদের স্ত্রীদেরও সফরসঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতসংখ্যক সংসদ সদস্যের একসঙ্গে মালয়েশিয়া সফর দেশটির বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও ইসলামি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সংস্কার, জবাবদিহি ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হওয়ায় সফরটির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় জামায়াতের কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় কর্মসূচি, প্রবাসী নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক কিংবা সংগঠন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে সফরটি ব্যক্তিগত ভ্রমণের পাশাপাশি কতটা শিক্ষামূলক ও রাজনৈতিক মতবিনিময়কেন্দ্রিক ছিল, তা স্পষ্ট হবে সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী কর্মসূচি ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৮৫০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখব, ইনশাআল্লাহ। কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। সকলকে বড় স্বপ্ন দেখে তা বাস্তবায়নে মনোযোগী ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো মাদক। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। পাশাপাশি একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না। জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে।’
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলকে একসময় শিক্ষা নগরী বলা হতো। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা এবং শিক্ষার মান বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আরও শিক্ষামুখী ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে।’
১১ দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে সবারই কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে। তবে জনগণ বিচার করবে তাদের এই কর্মসূচি করা ঠিক হচ্ছে কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারপ্রধান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে তেল-গ্যাস খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে খাতটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। সরকারের কোনো গাফিলতি থাকলে তারা সেটি নিয়ে কথা বলতে পারত।’
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রিজুয়ান সিদ্দিকীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. জোবায়দুর রহমান জনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ৮৫০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। তাদের কলেজ ব্যাগ, চাবির রিংসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রীও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ফাহাদ’স টিউটোরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা ও অনলাইন শিক্ষক মো. ফাহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি, লক্ষ্য নির্ধারণ ও ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। BUET ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মেফতাউল আলম সিয়াম এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী জাহাঙ্গীর আলম শান্ত নিজেদের সফলতার কৌশল ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. জে আলী স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ