ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট সংকট: পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বি-ক্ষোভ


দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট সংকট: পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বি-ক্ষোভ

দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যালট পেপার সংকটে স্থানীয় নির্বাচন ব্যাহত হওয়ায় রোববার ভোররাত পর্যন্ত হাজার হাজার নাগরিক পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে।

সংবাদ মাধ্যম এএফপি'র প্রতিবেদনে জানা গেছে। গত বুধবারের নির্বাচনের আয়োজন হয়েছিল প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দায়িত্ব গ্রহণের পর এর প্রথম জাতীয় ভোট হিসেবে। তিনি ২০২৪ সালের শেষের দিকে সংক্ষিপ্ত সামরিক শাসন জারির কারণে রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন।

নির্বাচনে মেয়র, স্থানীয় সরকার ও সংসদ সদস্য পদে অধিকাংশ আসনে জয় লাভ করেছে লি’র ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। তবে, তারা গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী সিউলের মেয়র পদটি দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই’—স্পিকারের সমর্থনে ডা. তাসনিম জারা

এদিকে, ব্যালট পেপার সংকটের কারণে জনরোষের মুখোমুখি হয়ে শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান নো তাই-আক। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাজধানী সিউলের ৩০টি ভোটকেন্দ্রসহ পুরো দেশে ৫০টি ভোটকেন্দ্রে এই সংকট ঘটেছে।

ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা পুলিশের সূত্র উল্লেখ করে জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় সিউলে প্রায় ১০ হাজার মানুষ এসকে অলিম্পিক হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে জড়ো হয়ে নির্বাচনের ব্যালট গণনা প্রত্যক্ষ করেছেন।

এএফপির একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, রোববার ভোর ২টা পর্যন্ত সেখানে অন্তত এক হাজার বিক্ষোভকারী অবস্থান করছিলেন। বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগ বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তারা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে 'পুনর্নির্বাচন চাই, পুনর্নির্বাচন চাই' স্লোগান প্রদান করেন।

তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা বিক্ষোভকারীদের জন্য পানি, কফি ও চকলেট বিতরণ করছেন। কেউ কেউ পোষা প্রাণী নিয়ে এসেছিলেন, আবার অনেকে জাতীয় পতাকা হাতে পিকনিক ম্যাটে বসে রাতভর অবস্থান করেন।

আরও পড়ুন: টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে

৩১ বছর বয়সী সিও জিন-হি এএফপিকে জানান, 'রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, ভোট দিতে না পেরে গণতান্ত্রিক অধিকারের লঙ্ঘন হচ্ছে।'

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে আগাম ভোটদানের কারণে বিপুল সংখ্যক ব্যালট অব্যবহৃত থেকে যাওয়ায় এবারের জন্য মোট যোগ্য ভোটারের মাত্র ৫০ শতাংশের জন্য ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে।

ফলস্বরূপ, কিছু ভোটার ভোট না দিয়েই ফিরে গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ২৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী পার্ক সউন-ওক বলেন, 'কমিশনের এই ব্যাখ্যা একজন সাধারণ নাগরিকের কাছেও মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।'

তিনি এএফপিকে আরও বলেন, 'আমার পছন্দের প্রার্থী জিতল কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব কিছুর ঊর্ধ্বে, আমি মনে করি এই নির্বাচন অবশ্যই পুনরায় হওয়া উচিত।'

আরও পড়ুন: রিজভী: বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে, এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইনের প্রচেষ্টাকে ঘিরে তৈরি উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ পি.এম


পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইনের প্রচেষ্টাকে ঘিরে তৈরি উত্তেজনা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানো) চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তে জড়ো হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

শনিবার (৬ জুন) বিকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আজিজপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৮৫৫ নম্বর প্রধান পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে ভারতের দাউয়াকামারী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা কাঁটাতারের গেট খুলে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের কালীরহাট ক্যাম্পের টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে একই পথ দিয়ে শূন্য রেখায় ফিরিয়ে দেয়। ব্যক্তিটির কথাবার্তা ও আচরণ অসংলগ্ন হওয়ায় তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিজিবি ওই ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর পর বিএসএফ সদস্যরা আবারও তাকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের শান্ত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখেন।

বিজিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিএসএফের দাউয়াকামারী ক্যাম্প কমান্ডারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে, ওই ব্যক্তিকে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রবিবার সকালে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে ভারতের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ১০০ গজ ভেতরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামিসা হত্যা: শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


রামিসা হত্যা: শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব

শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। শিশু রামিসা আক্তার হত্যার মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে আদালত বলেছেন, যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

আজ রোববার ঢাকা মহানগর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলেন। এদিন শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সোহেলের ৫ লাখ টাকা ও স্বপ্নার ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশও দেয়া হয়েছে। এই অর্থদণ্ডের টাকা রামিসার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অর্থদণ্ডের টাকা দিতে না পারলে আসামি সোহেল ও স্বপ্নার স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক আরো বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়, এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। শিশুরা নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে এক হাজার আটশরও বেশি বিচারাধীন মামলা রয়েছে, যার প্রতিটি মামলাই শিশুদের প্রতি সংঘটিত সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন অথবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিটি মামলার পেছনে রয়েছে একটি শিশুর অসহনীয় যন্ত্রণা, একটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং ন্যায়বিচারের জন্য প্রতীক্ষারত অসংখ্য মানুষের প্রত্যাশা। সেই প্রেক্ষাপটে শিশু রামিসার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এ মামলায় তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে যে তদন্তকারী সংস্থা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। একইভাবে, বিজ্ঞ প্রসিকিউশন মামলার সকল গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে আদালতের সম্মুখে উপস্থাপন করে বিচারকার্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন এবং বিচারকার্যে সংশ্লিষ্ট সকলের এই আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আদালত প্রত্যাশা করে যে শিশু রামিসার মামলার ন্যায় দ্রুত, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাতেও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। বিচারপ্রার্থী জনগণ এবং বিশেষত ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবার যেন অযথা দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ একই রকম নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এটাই আদালতের প্রত্যাশা। একটি ন্যায়সঙ্গত বিচার কেবল আদালতের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়, বরং তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, ডিফেন্স, সাক্ষীগণ এবং বিচার ব্যবস্থার সকল অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আদালতের দায়িত্ব আবেগ দ্বারা নয়, বরং আইন, প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের চিরন্তন নীতিমালার আলোকে সত্য উদঘাটন করা। অতএব, এই আদালত অত্যন্ত সতর্কতা, সংবেদনশীলতা ও বিচারিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রায় প্রদান করেছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, এ মামলার রায় মূলত চার কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণভাবে পাঁচ কার্যদিবস বললেও ভুল হবে না। তবে এ ধরনের অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে এটা একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এ মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে যাবে। এটা হলো 'ইন অ্যাকর্ডেন্স উইথ ল'। এই 'ইন অ্যাকর্ডেন্স উইথ ল'-এর যে 'ডিউ প্রসেস অব ল', এটাকে আমরা বাইপাস করতে পারব না। রাষ্ট্র হিসেবে সভ্যতার নিরিখে আমরা যে রাষ্ট্রে বসবাস করছি, সে রাষ্ট্রের আইনগত কাঠামো আছে, সেই কাঠামোকে আমরা বাইপাস করতে পারব না।

রায় ঘোষণার আগে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট। রায় যখন বাস্তবে কার্যকর হবে, তখন আমি শতভাগ সন্তুষ্ট হবো। প্রধানমন্ত্রীসহ এ মামলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি চাই রামিসার মতো এ ধরনের প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার হোক। এই ধরনের নৃশংসতা যেন আর না হয়। যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর চাই।’

এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজ রোববার দিন নির্ধারণ করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়।

সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখোঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।

ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে আসামির বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন।

এ সময় আসামিদের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং কক্ষের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তার মাথা দেখতে পান তারা।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

গত ২০ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও (২৬) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিনে ঢাকা মহানগর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন।

গত ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন জটিলতা দূর করতে ৮ জুনের মধ্যে বোর্ডে যোগাযোগের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


এইচএসসি পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন জটিলতা দূর করতে ৮ জুনের মধ্যে বোর্ডে যোগাযোগের নির্দেশ

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা পোষণকারী শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতা নিরসনের জন্য বিবৃতি অনুযায়ী আগামী ৮ জুনের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ দুপুর ১২ টায়, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দিন বাসসকে এ বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকে, তবে তাদেরকে আগামী ৮ জুনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বোর্ডে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের সূত্র জানায়, দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত এক পত্রের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৮ জেলার সকল কলেজ প্রধানদের গত ৬ জুন বিষয়টি অবহিত করেছে।

শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হওয়া এবং কলেজগুলোতে প্রেরিত পত্রে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ (প্রধান একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, কলেজ ভর্তি কাগজ) শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকের দপ্তরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগাযোগ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের এই বিষয় নিয়ে প্রেরিত পত্রটি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সূত্রটি জানিয়েছেন, আগামী ২ জুলাই থেকে সারাদেশে ২০২৬ সালের এইচএসসি এবং সমমান পরীক্ষা শুরু হবে এবং ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরীক্ষা চলতে থাকবে। এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনটি শুরু হয়েছে। আজ রোববার, ৭ জুন, বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে এই অধিবেশন আয়োজন করা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনটির সভাপতিত্ব করছেন।

এটি বর্তমান সরকারের জন্য এই প্রথম বাজেট অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফার আওতায় এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে যে, অধিবেশনটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মূলত, এ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ ও পাসের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রার প্রতিফলন থাকবে তা জানা গেছে। বাজেটের বিষয়ে সংসদ সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

উল্লেখ্য যে, প্রতি বছর জুন মাসে জাতীয় বাজেট নিয়ে আলোচনা ও অনুমোদনের জন্য সংসদের বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল শেষ হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%