১২:৩৬ পি.এম
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হতে চাওয়া প্রকাশ করেছে। চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ঢাকায় বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করার জন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে যোগাযোগ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, এ তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সিকিউরিপোর্ট নামক প্রতিষ্ঠানটি এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। ওই সময় তারা একটি ধারণাপত্রও উপস্থাপন করেছিল। বর্তমান সরকার আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছে। কিন্তু এখনও টার্মিনাল পরিচালনার জন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। তবে জাপানের সঙ্গে আলোচনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা রয়েছে ডিসেম্বরের মধ্যে থার্ড (তৃতীয়) টার্মিনালটি চালু করার ব্যাপারে।’
আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর
সিকিউরিপোর্টের আগ্রহের ব্যাপারে মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক আরও বলেন, ‘বিষয়টির ব্যাপারে আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে হয়তো জানাতে পারব।’
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সিকিউরিপোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যান্ডরিক সিকিউরার এবারের সপ্তাহে ঢাকায় আসছেন। সিকিউরিপোর্ট মূলত সফটওয়্যারসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। সিকিউরিপোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত সিকিউরিপোর্টের সদরদপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায়। তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও সেবা প্রদান করে।
প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে উল্লিখিত তাদের লক্ষ্য হলো স্মার্ট সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগত সমাধান দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশকে সক্ষম করে তোলা। অবৈধ অভিবাসন, মানব পাচার, মাদক পাচার এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতেও তারা কাজ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিকিউরিপোর্ট আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে সীমান্ত ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে তারা মূলত তৃতীয় টার্মিনালের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের তথ্য সংরক্ষণসহ প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইচ্ছুক।
আরও পড়ুন: ঢাকা সৌদির কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব চেয়েছে
থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটি অর্থায়নে থাকায় জাপানি কোম্পানির কাছে এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা শুরু থেকে হচ্ছিল। এই জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎজ করপোরেশন ও নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশন। মার্চ ও এপ্রিলে জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছিলেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা।
সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরেই টার্মিনালটি উদ্বোধনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ৩১ জুলাই দরপত্র জমা দেবে জাপানি কনসোর্টিয়াম। এরপরেই যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান ও ভ্রমণসেবা প্রতিষ্ঠান ডানাটা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করে। সম্প্রতি ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আলহামুদি মধ্যকার সৌজন্য সাক্ষাতে বিষয়টি উঠে আসে।
আলোচনার সময় আমিরাতের রাষ্ট্রদূত রাজধানীর আসন্ন তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ডানাটার আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন। ডানাটা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, পণ্য পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ, ভ্রমণ এবং অন্যান্য সেবা দিয়ে থাকে। এর আগে যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কাজ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।
আরও পড়ুন: যশোরের বাঘারপাড়া আওয়ামী লীগ নেতা দিলু পাটোয়ারী আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন