০১:০৬ পি.এম
উজানের ঢল এবং নদী ও নদীর পানি ওঠানামার প্রভাবে কুড়িগ্রামের ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমার নদে তীব্র ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেড় শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। পাশাপাশি, আরও হাজরো পরিবার তাদের শেষ সম্বল বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদ আবারও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হতে পারে, যা বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে নদী তীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানাচ্ছে, জেলার ৪০টি ভাঙনকবলিত পয়েন্টের মধ্যে ৩০টিতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।
আরও পড়ুন: ভাঙ্গায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে হলে দিতে হবে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা
শনিবার (৪ জুলাই) পাউবোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি কমছে। অন্যদিকে, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ছে। তবুও বর্তমানে সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানাচ্ছে, ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অথবা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি ও নদীভাঙনের তীব্রতা বাড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী ও রাজারহাটসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৪০টি পয়েন্টে ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এই ভাঙনের মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র, আবাদি জমি, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙন তাদের জীবনের জন্য একটি নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। বহু পরিবার পাঁচ থেকে দশবার পর্যন্ত তাদের বসতভিটা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এইবার ভিটেমাটি হারালে তাদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও থাকবে না। এজন্য তারা স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সংঘর্ষের জন্য নেওয়া হচ্ছিল ১৪০ রাউন্ড গুলি, ধরা পড়লেন স্বপ্না আক্তার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা লেবু মিয়া বলেন, গত তিন-চার বছর ধরে দুধকুমারের ভাঙনে এ এলাকার অসংখ্য মানুষ ভিটেমাটি হারিয়েছে। এখনো পুরো একটি গ্রাম হুমকির মুখে রয়েছে। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে গ্রামের পাশাপাশি স্কুল, হাট ও বিজিবি ক্যাম্পও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে।
একই এলাকার শাহিনা বেগম জানান, নদী ভাঙতে ভাঙতে তাদের বাড়ির একেবারে নিকটে চলে এসেছে। এখন তারা ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন, কিন্তু এরপর কোথায় যাবেন, জানেন না। এবং তাদের জন্য আর জায়গা-জমিও নেই।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে পাঁচটি প্রধান নদীর দুই তীর মিলিয়ে প্রায় ৩৭৪ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনপ্রবণ। এর মধ্যে মাত্র ৬৬ কিলোমিটার নদীতীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত। ফলে প্রতিটি বর্ষা মৌসুমেই জেলার বিশাল জনপদ নদীভাঙনের ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়ে থাকে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, নদ-নদীর পানি বাড়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলমান রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের ইনানী সৈকতে ১৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন