০৭:২০ পি.এম
ঝালকাঠি জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক যায়যায় বেলা অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মোল্লা শাওন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, প্রাণনাশের হুমকি ও ধারাবাহিক সাইবার হয়রানির অভিযোগে দুই ভাইসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় আসামি হিসেবে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পূর্ব বিন্নীপাড়া এলাকার আবুল বাশার মৃধার দুই ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান (ফারুক) ও তার ভাই বাংলাদেশ সেনা সদস্য মোঃ শাহিন মৃধাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১ নম্বর আসামি বর্তমানে বরিশাল বিমানবন্দর থানাধীন লুৎফর রহমান সড়কের বি-ব্লকে বসবাস করছেন এবং ২ নম্বর আসামি শাহিন মৃধা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন।
আদালতে দাখিল করা আরজিতে বলা হয়েছে, ১১ জুলাই ২০২৬ থেকে বিভিন্ন সময়ে বাদীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানহানিকর প্রচারণা এবং সাইবার হয়রানির ঘটনাগুলি সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৩-এর ১৭, ১৮(১)(গ), ১৯, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭ ও ৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
মামলার আরজিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১ নম্বর আসামি মিজানুর রহমান (ফারুক) ধানসিড়ি ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান এবং ঝালকাঠি সদর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডির মাধ্যমে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া ২ নম্বর আসামি শাহিন মৃধা, যিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ছুটিতে বাড়িতে এসে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন বলেও আরজিতে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ আদালতের মাধ্যমে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
সাইবার ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী নাজমুল মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, তথ্য-উপাত্ত সংযুক্ত করে ফারুক, শাহিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি পিটিশন মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মামলার বাদী মোঃ মোল্লা শাওন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে ফেক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানহানিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব ঘটনার প্রতিকার এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আমি আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ১ নম্বর আসামি মিজানুর রহমান (ফারুক) ও ২ নম্বর আসামি শাহিন মৃধার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন