ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

আইসিসিবির শিক্ষা উৎসবের শেষ দিনে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়


আইসিসিবির শিক্ষা উৎসবের শেষ দিনে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শিক্ষা উৎসবের শেষ দিনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, স্কলারশিপ, ভর্তি প্রক্রিয়া, ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ভিসা-সংক্রান্ত তথ্য জানতে আগ্রহীরা বিভিন্ন স্টলে ভিড় করেন। গতকাল আইসিসিবির গুলনকশা হলে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ঘুরছেন। কেউ স্কলারশিপের সুযোগ খুঁজছেন, আবার কেউ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শর্ত, টিউশন ফি ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। অনেকেই একাধিক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া তিন দিনের এই শিক্ষা উৎসবে প্রথম দিন থেকেই ছিল ব্যাপক সাড়া। আয়োজকদের তথ্যমতে, শেষ দিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। এবারের আয়োজনে ৪৫টিরও বেশি দেশের আড়াই হাজারের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে দেশি-বিদেশি ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা পরামর্শক সংস্থা অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় স্কলারশিপ, ভর্তি প্রক্রিয়া, ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভিসা গাইডলাইন এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিষয়ক সেমিনার ও বিশেষজ্ঞদের আলোচনা। পরিবেশ সচেতনতার অংশ হিসেবে এবারও ছিল ‘লক্ষ্য এক কোটি বৃক্ষ’ কর্মসূচি। আয়োজক প্রতিষ্ঠান ফেয়ার কনভেইনার ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ গালিব বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ প্রতিবছরই বাড়ছে। সেই আগ্রহকে সঠিক তথ্য ও নির্ভরযোগ্য পরামর্শের মাধ্যমে সহায়তা করাই আমাদের লক্ষ্য। একই ছাদের নিচে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে মেলা উপলক্ষে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের পুরো প্রসেসিংয়ে মোট খরচ থেকে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে নলেজ হাব। শুধু মেলা উপলক্ষেই তাদের এই ছাড়। নলেজ হাবের প্রতিনিধি আরিফ সৈয়দ বলেন, আমাদের স্টলে অনেক শিক্ষার্থীই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শর্ত, স্কলারশিপ এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছেন। বিশেষ করে কানাডা ও ইউরোপে উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। মালয়েশিয়ার সেজি ইউনিভার্সিটির এক প্রতিনিধি বলেন, এখন শিক্ষার্থীরা শুধু ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নয়, বরং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখছেন। তিন দিনে আমাদের স্টল থেকে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরামর্শ নিয়েছেন। অ্যাডমিশন টু কানেক্ট এডুকেশন কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ বলেন, শেষ দিন দুপুর পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আমাদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরামর্শ নিয়েছেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা এবং আইইএলটিএস প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

আরও পড়ুন: হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের দাসত্ব করে না: মীর শাহে আলম

মেলায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, এক জায়গায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় তথ্য সংগ্রহ ও সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়েছে। এতে সময় যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছি। এখানে এসে একই জায়গায় বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। স্কলারশিপ, টিউশন ফি, ভর্তি প্রক্রিয়া ও ভিসা নিয়ে অনেক তথ্য জানতে পেরেছি। এতে কোন দেশে আবেদন করব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেহজাবীন রহমান বলেন, অনলাইনে অনেক তথ্য পাওয়া যায় কিন্তু এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য নেওয়ার সুযোগটা অনেক বেশি কার্যকর। বিশেষ করে স্কলারশিপ, ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে যে পরামর্শ পেয়েছি, তা আমার জন্য খুবই সহায়ক হবে। এবারের শিক্ষা উৎসবে সরাসরি অংশ নিয়েছিল মালয়েশিয়ার সেজি ইউনিভার্সিটি এবং মরিশাসে অবস্থিত ভেলোর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ভিআইটি) মরিশাস ক্যাম্পাস। এ ছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঢাকা আইইএলটিএস সেন্টার, নলেজ হাব, ড্রিম স্টাডি ইন্টারন্যাশনাল, এইচ অ্যান্ড এইচ গ্লোবাল এডুকেশন, এডু মেন্টর, ব্রাইট ফিউচার বাই স্যাম, স্টাডি উইন্ডো ইন্টারন্যাশনাল, অ্যাডমিশন কানেক্ট, টপটিয়ার এডুকেশন কনসালট্যান্ট, এইমস এডুকেশন, মাস্টারমাইন্ড ডিজিটাল, এমআইই ইংলিশ একাডেমি, এমআইই পাথওয়েজ, রাশিয়ান সেন্টার ফর এডুকেশন, স্টিকার ভিসা, এডুকোয়েস্ট, এডুকেয়ার এডুকেশন অ্যান্ড মাইগ্রেশন বাংলাদেশ এবং মাস্টার স্যাব অংশ নেয়।

আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাঙরের মুখ থেকে ফিরে আসার ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় বদলে গেল জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩১ এম


হাঙরের মুখ থেকে ফিরে আসার ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় বদলে গেল জীবন

ফিজি দ্বীপপুঞ্জের নীল জলে তখন সূর্যের আলো হালকা করে পড়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রশংসিত ফিশিং ইনফ্লুয়েন্সার হেনরি গিবস তখন ডাইভিংয়ের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে পানিতে নেমেছিলেন। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দঘন মুহূর্তে কিছুক্ষণের মধ্যে এক ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে! গভীর পানিতে ডুব দেওয়ার সময় হঠাৎ এক সামুদ্রিক শিকারীর মুখোমুখি হন তিনি।

বিকট এক আক্রমণ ঘটে পূর্বাভাস ছাড়াই। একটি হাঙর অতর্কিতে এসে আক্রমণ করে বসে হেনরির ওপর। যখন পানির নিচে চরম একটি মুহূর্তে জীবন-মৃত্যুর লড়াই চলছে, তখন তার দুই সঙ্গী বিশেষভাবে সাহায্যে এগিয়ে আসেন। তারা মুহূর্তের বিলম্ব না করে হেনরিকে পানির ওপরে নিয়ে আসেন এবং দ্রুততার সাথে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের বিছানায় শুরু হয় নতুন এক লড়াই। ডান পায়ে গুরুতর আঘাত নিয়ে তাকে একের পর এক কঠিন ট্রমা সহ্য করতে হয়। চিকিৎসকরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। তারপরে একে একে চারটি সফল সার্জারি এবং ডান পায়ে স্কিন গ্রাফট সম্পন্ন হওয়ার পর একসময় আশার আলো দেখতে পান হেনরি।

দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পর অবশেষে হেনরি হাসপাতালের বিছানা থেকে ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে কয়েকটি ছবি শেয়ার করে তার অবস্থার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে এবং চিকিৎসকদের মতে, তিনি শিগগিরই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন। এই কঠিন সময়ে পাশে থাকা ফিজি এবং নিউজিল্যান্ডের শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

যদিও এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তার ওপর ভীষণ চাপ ফেলেছে, তবুও হেনরির মনে হাঙরের প্রতি বিন্দুমাত্র ক্ষোভ বা রাগ নেই। তিনি মনে করেন, তিনি নিজেই হাঙরের আবাসস্থলে প্রবেশ করেছিলেন এবং মূলত তাদের শিকারের এলাকায় গিয়ে পড়েছিলেন। এটিকে তিনি নিজের ভাষায় এমন একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত থাকার ফলে ঘটেছে।

হেনরি ঘটনা সম্পূর্ণভাবে নথিবদ্ধ করেছে এবং দ্রুত তার অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করার পরিকল্পনা করছেন। তার উদ্দেশ্য হলো, অন্যরা যেন এই ধরনের বিপদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে এবং এমন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা পেতে সক্ষম হয়।

জীবন ও মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসার পর হেনরির দৃষ্টিভঙ্গিতে এক গভীর পরিবর্তন এসেছে। তিনি এখন নিজের বেঁচে থাকাকে পরম সৌভাগ্য এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের প্রতি তার কৃতজ্ঞতার অনুভূতি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে আমলাদের নজর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪০ এম


প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে আমলাদের নজর

নিয়মিত চাকরির বাইরে থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের মেয়াদ আগামী মাসে শেষ হতে যাচ্ছে। এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে প্রশাসনের আমলাদের মধ্যে আগ্রহ ও নজর রয়েছে। পরবর্তী মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিব কে হবেন, তা নিয়ে প্রশাসনের ভিতরে ও বাহিরে নানা কানাঘোষা চলছে। বিশেষভাবে নতুন করে কাউকে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, অথবা নিয়মিত ব্যাচ থেকে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় কাজ চলছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব পদে পরিবর্তন আনার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে অভিযোগ করেছে একাধিক সূত্র, যারা সরকারের ঘনিষ্ঠ। সচিবদের যে চাকরির মেয়াদ বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে, তাদের স্থলাভিষিক্ত নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে ভিতরে ভিতরে। এছাড়া, আগস্ট মাসে কিছু সচিব অবসরে যাবেন বলেও জানা গেছে। ফলে, কিছু মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে সচিব পর্যায়ে পরিবর্তন আসবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, 'পদোন্নতি বদলি সরকারের নিয়মিত কার্যক্রম। সরকার কাউকে চুক্তি নিয়োগ দেবেই এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে অনেক সময় অভিজ্ঞতা দক্ষতার কারণে এমন নিয়োগ দিতে হয়। সরকার চাইলে চুক্তিও আসতে পারে, নতুন কেউ আসতে পারে। আমাদের সরকার মেধার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।' জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যাচ্ছে, সরকার প্রশাসনের বর্তমান কাঠামোকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে চায়। এ ক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার গঠনের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও, অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ছন্দ হারিয়ে ফেলছে। অনেক সচিব সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, এবং অনেক ক্ষেত্রে জুনিয়রদের সঙ্গে সমন্বয় হচ্ছে না।

সেজন্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাজের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ হাতের মাধ্যমে সামলাতে পারছেন এমন ব্যক্তিদের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। কর্মদক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তীতে আরও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সহযোগিতায় প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে সবসময়ই নেতৃত্বে থাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সচিবালয়ে গত কয়েক দিন ধরে অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও বিভিন্ন ব্যাচের মধ্যে চলমান আলোচনা হচ্ছে, কে হচ্ছেন নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদস্থ, তথা ১ নম্বর সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে চিহ্নিত করা হয়। তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধান এবং দেশের সকল সিভিল সার্ভিসের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রশাসনের প্রাণ বা প্রধান চালিকাশক্তি বলা হয়, যিনি পুরো সরকারি প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে, নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তারা এবারে চান যে চুক্তিতে কারও নিয়োগ না দেওয়া হয়। নিয়মিতদের পদোন্নতি বা রদবদল হলে তার সুফল প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে দ্রুততা আনবে।

সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যাচ্ছে, সরকারও আগামীতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে চাচ্ছে না। যারা অবসরে চলে গেছেন, তাদের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেক গ্যাপ থাকায় সমন্বয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়ার জন্য সরকার ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী এক কর্মকর্তা ও এক মন্ত্রিপরিষদ সদস্যের কাছে প্রচুর মানুষ নিয়মিত ভিড় করছেন। বর্তমানে দেশে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৮৬ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। তিনজন ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। এ নিয়ে মোট ৮৯ জনকে নিয়ে আলোচনা চললেও, তাদের মধ্যে ১০ জন বর্তমানে কোনো দপ্তরের দায়িত্বে নেই। ১০ জনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে।

এদিকে, নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিব হওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে সিনিয়র সচিব হিসেবে যোগ দেন বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর, বিএনপি সরকারের গঠনের আগে ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পান।

জনপ্রশাসন সচিব অতিমাত্রায় কানকথা শোনেন। আবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সঠিক সময়ে না আসার কারণে প্রশাসন স্থবির হয়ে যায়। সচিব পর্যায়ে নিষ্পত্তি ফাইল অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এসব কারণে নতুন সরকারের পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসনে দৃশ্যমান গতি আনতে পারেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সচিব বলেছেন, নতুন সরকারকে সহযোগিতা এবং প্রশাসনকে চাঙা রাখতে হলে এমন অফিসার জনপ্রশাসনে দিতে হবে যিনি অধিকাংশ জুনিয়র ও সিনিয়র কর্মকর্তাকে চিনেন এবং ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৯ এম


ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী

প্রহ্লাদ জোশীকে দেশের নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

দেশব্যাপী তীব্র ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এই নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শ অনুযায়ী, ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদের (২) উপধারা মোতাবেক অবিলম্বে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।

এছাড়া, মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেট মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে তার অন্য দপ্তরের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্মেন্দ্র প্রধান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার অনিয়মকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভের মুখে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।

বর্তমানে প্রহ্লাদ জোশী কেন্দ্রীয় সরকারের ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টন এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

এখন থেকে তিনি দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলাবেন।

সূত্র: দ্য হিন্দু।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মির্জাপুরে বংশাই নদীতে গোসল করতে নেমে কিশোর নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৪ এম


মির্জাপুরে বংশাই নদীতে গোসল করতে নেমে কিশোর নিখোঁজ

মির্জাপুরে, টাঙ্গাইলের বংশাই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছেন এক কিশোর, যার নাম ইসমাইল হোসেন (১৪)। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে, সহপাঠীদের সঙ্গে মিলে উপজেলার হাটুভাঙ্গা এলাকায় বংশাই নদীতে গোসলে নেমে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান বলেও জানা গেছে।

এদিকে, খবর পেয়ে মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে উদ্ধার কাজ চালালেও তাকে উদ্ধার করতে না পারায় তারা কাজ সমাপ্ত করে দেন।

ইসমাইল হোসেন গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার আমবাগ গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের সন্তান। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শনিবার গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার বাগিয়া নদীর ঘাট থেকে ৭০-৮০ জন নৌকা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে মির্জাপুরে আসেন। ইসমাইল হোসেন বিকেল ৪টার দিকে সহপাঠীদের সঙ্গে মিলে মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের হাটুভাঙ্গা এলাকায় বংশাই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পেরে মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় দুই ঘণ্টা উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টা করেন, পরে সন্ধ্যা হওয়ায় উদ্ধার কাজ শেষ করে দেওয়া হয়।

মির্জাপুর ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার এরশাদ হোসেন জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালিয়েছে, কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার ফলে তারা কাজ সমাপ্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%