প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিয়মিত চাকরির বাইরে থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের মেয়াদ আগামী মাসে শেষ হতে যাচ্ছে। এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে প্রশাসনের আমলাদের মধ্যে আগ্রহ ও নজর রয়েছে। পরবর্তী মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিব কে হবেন, তা নিয়ে প্রশাসনের ভিতরে ও বাহিরে নানা কানাঘোষা চলছে। বিশেষভাবে নতুন করে কাউকে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, অথবা নিয়মিত ব্যাচ থেকে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় কাজ চলছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব পদে পরিবর্তন আনার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে অভিযোগ করেছে একাধিক সূত্র, যারা সরকারের ঘনিষ্ঠ। সচিবদের যে চাকরির মেয়াদ বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে, তাদের স্থলাভিষিক্ত নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে ভিতরে ভিতরে। এছাড়া, আগস্ট মাসে কিছু সচিব অবসরে যাবেন বলেও জানা গেছে। ফলে, কিছু মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে সচিব পর্যায়ে পরিবর্তন আসবে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, 'পদোন্নতি বদলি সরকারের নিয়মিত কার্যক্রম। সরকার কাউকে চুক্তি নিয়োগ দেবেই এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে অনেক সময় অভিজ্ঞতা দক্ষতার কারণে এমন নিয়োগ দিতে হয়। সরকার চাইলে চুক্তিও আসতে পারে, নতুন কেউ আসতে পারে। আমাদের সরকার মেধার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।' জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যাচ্ছে, সরকার প্রশাসনের বর্তমান কাঠামোকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে চায়। এ ক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার গঠনের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও, অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ছন্দ হারিয়ে ফেলছে। অনেক সচিব সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, এবং অনেক ক্ষেত্রে জুনিয়রদের সঙ্গে সমন্বয় হচ্ছে না।
সেজন্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাজের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ হাতের মাধ্যমে সামলাতে পারছেন এমন ব্যক্তিদের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। কর্মদক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তীতে আরও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সহযোগিতায় প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে সবসময়ই নেতৃত্বে থাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সচিবালয়ে গত কয়েক দিন ধরে অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও বিভিন্ন ব্যাচের মধ্যে চলমান আলোচনা হচ্ছে, কে হচ্ছেন নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদস্থ, তথা ১ নম্বর সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে চিহ্নিত করা হয়। তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধান এবং দেশের সকল সিভিল সার্ভিসের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রশাসনের প্রাণ বা প্রধান চালিকাশক্তি বলা হয়, যিনি পুরো সরকারি প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে, নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তারা এবারে চান যে চুক্তিতে কারও নিয়োগ না দেওয়া হয়। নিয়মিতদের পদোন্নতি বা রদবদল হলে তার সুফল প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে দ্রুততা আনবে।
সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যাচ্ছে, সরকারও আগামীতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে চাচ্ছে না। যারা অবসরে চলে গেছেন, তাদের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেক গ্যাপ থাকায় সমন্বয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়ার জন্য সরকার ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী এক কর্মকর্তা ও এক মন্ত্রিপরিষদ সদস্যের কাছে প্রচুর মানুষ নিয়মিত ভিড় করছেন। বর্তমানে দেশে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৮৬ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। তিনজন ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। এ নিয়ে মোট ৮৯ জনকে নিয়ে আলোচনা চললেও, তাদের মধ্যে ১০ জন বর্তমানে কোনো দপ্তরের দায়িত্বে নেই। ১০ জনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে।
এদিকে, নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিব হওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে সিনিয়র সচিব হিসেবে যোগ দেন বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর, বিএনপি সরকারের গঠনের আগে ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পান।
জনপ্রশাসন সচিব অতিমাত্রায় কানকথা শোনেন। আবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সঠিক সময়ে না আসার কারণে প্রশাসন স্থবির হয়ে যায়। সচিব পর্যায়ে নিষ্পত্তি ফাইল অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এসব কারণে নতুন সরকারের পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসনে দৃশ্যমান গতি আনতে পারেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সচিব বলেছেন, নতুন সরকারকে সহযোগিতা এবং প্রশাসনকে চাঙা রাখতে হলে এমন অফিসার জনপ্রশাসনে দিতে হবে যিনি অধিকাংশ জুনিয়র ও সিনিয়র কর্মকর্তাকে চিনেন এবং ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন