১১:২৬ পি.এম
অস্ট্রেলিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক যানবাহনের মজুদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সরকার বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।
এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এটাই প্রথমবারের মতো মার্কিন মেরিন কোর তাদের বৈশ্বিক ‘প্রি-পজিশনিং’ কর্মসূচির অধীনে অস্ট্রেলিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করছে। এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন দেশে আগাম সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে বৈপ্লবিক পরিস্থিতিতে দ্রুত মোতায়েন করা যায়।
প্রাথমিকভাবে মেলবোর্নে সংরক্ষিত সামরিক সরঞ্জামগুলো পরে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত বান্দিয়ানা সামরিক ঘাঁটির মার্কিন গুদামে স্থানান্তরিত হবে।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ইলিশ ধরায় দুই জেলের কারাদণ্ড, ৩ হাজার মিটার কারেন্টজাল জব্দ
আজ বুধবার (১৭ জুন) পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেছেন, ‘আমরা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় মার্কিন উপস্থিতি বৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি। এটি কেবল আমাদের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে না, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেছেন, মার্কিন সামরিক লজিস্টিক নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ তাদের সামগ্রিক কৌশলগত অবস্থানের একটি অংশ এবং বান্দিয়ানা ঘাঁটি এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য একটি উপযুক্ত স্থান।
অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী, দেশটিতে কোনো বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি নেই। তবে, উত্তরাঞ্চলীয় শহর ডারউইনে প্রতিবছর ছয় মাসের জন্য মার্কিন মেরিন সদস্যরা যৌথ মহড়ায় অংশ নেন।
এছাড়া আগামী বছর পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি ঘূর্ণায়মান সাবমেরিন বাহিনী মোতায়েন হবে বলে জানা গেছে। মার্লেস বলেছেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি” চীনের দ্রুত সামরিক সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য সৃষ্টির কাজে সহায়তা করছে।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার
এর পূর্বে ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি যৌথ যুদ্ধ মহড়ার পর মার্কিন সেনাবাহিনী পরীক্ষামূলকভাবে বান্দিয়ানা ঘাঁটিতে কিছু সামরিক ট্রাক রেখে যায়। এটি ছিল অস্ট্রেলিয়াতে মার্কিন সরঞ্জাম আগাম মজুদের প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় মার্কিন মেরিনদের জন্য একটি পৃথক সরঞ্জাম সংরক্ষণ কেন্দ্র ২০২৮ সালের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে। সেখানে প্রায় ১১০ জন প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ কাজ করবেন।
মার্কিন মেরিন কর্পস ফোর্সেস প্যাসিফিকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার এই স্থাপনাটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মেরিন বাহিনীর মহড়া ও অভিযান পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও রসদ সরবরাহের কাজে সহায়ক হবে।
ব উপরন্তু, মার্কিন নৌবাহিনী আগামী বছর ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে গুদাম ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য ৩ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। এই পদক্ষেপ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি জোরদারের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে ভাসমান নৌকায় গুলিবিদ্ধ অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন