০৬:০৬ পি.এম
ফ্রান্সে চলমান জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে দুই নেতা মার্কিন-ইরান চুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশেষ করে তাঁর নিজে পাশে না থাকলে আজ ইসরাইলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত, তাহলে ইসরাইল পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যেত। ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে ছিল। তবে চলমান যুদ্ধ ইরানের পূর্ববর্তী নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। ট্রাম্প বলেন, ইরানে এখন একটি যৌক্তিক ও বুদ্ধিমান নেতৃত্ব রয়েছে।
লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ভূমিকার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, লেবাননের ব্যাপারে নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ইরানের সাথে চুক্তি ঘোষণার ঠিক আগে বৈরুতে ইসরাইলি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি বৈরুতে হামলাটি একেবারেই পছন্দ করিনি এবং আমি তাঁদের (ইসরাইল) সেটা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি।" ট্রাম্প লেবানন পরিস্থিতিকে একটি ‘ছোটখাটো যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে ইসরাইলকে একটি অদ্ভুত পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, "আমি ইসরাইলকে পরামর্শ দিয়েছি যেন হিজবুল্লাহর বিষয়টি সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, কারণ তারা এই কাজটি আরও ভালোভাবে করতে পারবে।"
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই ‘এনকাউন্টার’, বিজেপি সরকারের বার্তা কী?
বৈঠকে কাতারের ‘সাহসিকতা’ এবং মধ্যস্থতার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, "কাতার যেভাবে পুরো পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে, তাতে আমরা অত্যন্ত মুগ্ধ। তারা অত্যন্ত শক্ত ও দৃঢ় অবস্থান দেখিয়েছে।" অন্যদিকে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এই মার্কিন-ইরান চুক্তিকে এই অঞ্চলের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এখনও অনেক কাজ বাকি আছে, তবে এই গতি যদি বজায় থাকে, তবে আমরা এই অঞ্চলে দারুণ কিছু অর্জন করতে পারব।"
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন